কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল ঠেকাতে মাঠপর্যায়ের পুলিশ প্রচণ্ড চাপে আছে। যে কোনো মূল্যে মিছিল ঠেকাতে সব মহানগর ও জেলা পুলিশের ওপর কঠোর নির্দেশনা রয়েছে পুলিশ সদর দপ্তরের। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট ইউনিটপ্রধান অধীনস্থ থানা ও গোয়েন্দা পুলিশকে চাপে রেখেছেন। সম্প্রতি রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ঝটিকা মিছিলের সংখ্যা এবং মিছিলের বহরে নেতাকর্মীদের সংখ্যা বেড়ে গেছে। বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। এমন প্রেক্ষাপটে ঝটিকা মিছিল ঠেকানো এখন থানা পুলিশের অগ্রাধিকারের তালিকায় উঠে এসেছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
সূত্র বলেছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোয় আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল হলেও, কখনও মিছিলকারীদের হাতে ককটেল দেখা যায়নি। কিন্তু চলতি মাসে বেশ কয়েকটি ঝটিকা মিছিল ঠেকাতে গিয়ে মাঠপর্যায়ের পুলিশকে ককটেলের মুখোমুখি হতে হয়েছে। যেটা তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করছে। মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, নাশকতা চালাতেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা হাতে ককটেল তুলে নিয়েছে। তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড কঠোর হাতে দমনের কথাও বলছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
গত বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঝটিকা মিছিল বের করে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তার আগেই গোয়েন্দা তথ্য পায় পুলিশ। ওই দিন সকাল থেকেই রাজধানীর অধিকাংশ পয়েন্টে ছদ্মবেশে নামে ঢাকা মহানগর পুলিশের থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের সদস্যরা। তেজগাঁও, রমনা, গুলশান, মিরপুর ও উত্তরা বিভাগসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের ২৪৪ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে। বিশেষ এই অভিযানকালে উদ্ধার করা হয় ১৪টি ককটেল ও ৭টি ব্যানার। পরে গ্রেপ্তারকৃতদের প্রত্যেককে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি, এসবি, অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা। জিজ্ঞাসাবাদে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের গভীর পরিকল্পনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী গতকাল শুক্রবার আমাদের সময়কে বলেন, ‘যেখানেই ঝটিকা মিছিল বের হবে, সেখানেই আমাদের অ্যাকশন হবে। সে ব্যাপারে আমাদের প্রতিটি বিভাগ তৎপর আছে। শুক্রবারও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে মিছিল করার কথা ছিল। কিন্তু আমরা কোথাও ঝটিকা মিছিলের খবর পাইনি। আমরা মিছিল ঠেকাতে সর্বোচ্চ সজাগ আছি।’
পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক করে তুলতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নানারকম অপতৎপরতা চালানোর চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন অ্যাপসে দেশের বাইরে থেকে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। সেই অনুযায়ী দেশে আত্মগোপন করে থাকা নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল বের করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই মিছিল করার জন্য ঢাকার বাইরে থেকে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী রাজধানীতে এসেছে বলেও তথ্য রয়েছে পুলিশের কাছে। তাদের ধরতে গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম তৎপর রয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে ঝটিকা মিছিল ঠেকাতে মাঠ পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্তদের কেউ গাফিলতি করলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে পুলিশ সদর দপ্তরের। ঝটিকা মিছিল ঠেকাতে ব্যর্থতার জন্য এরই মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী কমিশনারসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করেছে ডিএমপি সদর দপ্তর। ঢাকার বাইরেও বেশ কয়েকটি ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগে ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন গতকাল আমাদের সময়কে জানান, ঝটিকা মিছিলসহ যে কোনো ধরনের বেআইনি সমাবেশের বিষয়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এ কাজে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ঝটিকা মিছিল বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এসএন মো. নজরুল ইসলাম বুধবার প্রেস ব্রিফিংয়ে আবাসিক হোটেল, ফ্ল্যাট ও ছাত্রাবাসে লুকিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের কর্মীদের সন্ধান চেয়ে নগরবাসীর কাছে অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, যারা কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা সংগঠনটির কর্মীদের তথ্য দেবেন, তাদের নাম-পরিচয় গোপন রাখা হবে। অনেক ফ্ল্যাটে ফ্রি থাকছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। জনগণ পুলিশকে তথ্য দিলে পুলিশ সেখানে গিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আটক করবে। তিনি বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিনষ্টের চেষ্টা করছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলটি। তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমাদের সময়
