যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করে লাঞ্ছিত করেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি নারী সহযাত্রীকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজও করেন তারা। এ ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন এনসিপির সাবেক নেত্রী নীলা ইসরাফিল।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেন, ‘আমেরিকার এয়ারপোর্টে যা ঘটেছে, তা কেবলমাত্র একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি আমাদের জাতীয় রাজনীতির অবক্ষয়ের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। বিদেশের মাটিতে, আন্তর্জাতিক দৃষ্টির সামনে, আমরা যে নোংরা রাজনীতির চর্চা করে এসেছি, সেটিই আবার প্রকাশ পেল, অসহিষ্ণুতা, হিংসা, আর প্রতিহিংসার নগ্ন প্রদর্শনী। সবচেয়ে মর্মান্তিক ছিল নারীকে লক্ষ্য করে আক্রমণের চেষ্টা।’
পোস্টে নীলা ইসরাফিল লেখেন, ‘একজন নারী সহযাত্রীকে যেন অসম্মান করা না হয়, সেই কথা কয়েকজন সৎমানুষ উচ্চস্বরে চিৎকার করে বলছিলেন। (আপারে দিওনা, আক্তাররে দে) কিন্তু তবুও নারীকে ঘিরে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হলো, তা আমাদের সমাজ ও রাজনীতির নৈতিক দেউলিয়াত্বকেই প্রমাণ করে। নারীকে সম্মান দেওয়ার পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার বানানো হলো, যা ভীষণ লজ্জাজনক ও নিন্দনীয়।’
‘এখানে আরও কষ্টের বিষয় হলো, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতো একজন ভদ্র, শান্ত স্বভাবের, সম্মানিত নেতা, যাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে কখনো উত্তেজিত হতে বা রাগতে দেখিনি তাকেও এই নোংরা আক্রমণের শিকার হতে হলো। একজন ভদ্র মানুষ, যিনি সবসময় ধৈর্যের প্রতীক ছিলেন, তাকেও অপমানিত করা হলো। এটি শুধু একজন নেতাকে নয়, বরং পুরো জাতির রাজনৈতিক চেতনার ওপর আঘাত।’
তিনি আরও লিখেন, ‘ড. ইউনূস যিনি নোবেলজয়ী হয়ে সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছিলেন, তিনি নিজের নিরাপত্তার জন্য পালিয়ে গেলেন। অথচ তার সহযাত্রী নারী ড. জারাকে রাস্তায়, বিশৃঙ্খলার মাঝখানে অরক্ষিত অবস্থায় রেখে গেলেন। একজন সহযাত্রী নারীকে অরক্ষিত ফেলে চলে যাওয়া শুধু দায়িত্বজ্ঞানহীনতাই নয়, এটি নেতৃত্বের সবচেয়ে জঘন্যতম ব্যর্থতা।’
