ক্রীড়া ডেস্ক: জাতীয় দলের বাইরে আছেন সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশের হয়ে তিনি সর্বশেষ টেস্ট খেলেছেন গত বছরের সেপ্টেম্বরে, ভারতের বিপক্ষে কানপুরে। একদিনের ক্রিকেটে সাকিব মাঠে নেমেছিলেন ২০২৩ বিশ^কাপে শ্রীলংকার বিপক্ষে দিল্লিতে। আর লাল-সবুজ জার্সিতে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে আয়োজিত বিশ^কাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে কিংসটনে। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে।
সাকিব আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি ক্রিকেটার থাকাবস্থায় সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তার আর দেশে ফেরা হয়নি। যদিও ভারত সিরিজ চলাকালীন নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানিয়েছিলেন। কানপুর টেস্টের আগে সংবাদ সম্মেলনে সাকিব বলেছিলেন, মিরপুরে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট খেলে তিনি এ সংস্করণকে বিদায় বলতে চান। ওয়ানডে ক্রিকেট নিয়ে বলেছিলেন, তার দৃষ্টি ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি পর্যন্ত। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি আপাতত খেলবেন না বলে জানিয়েছিলেন। তবে সাকিবের কোনো ইচ্ছাই পূরণ হয়নি।
নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুর টেস্ট খেলার জন্য দেশে আসতে পারেননি। যুক্তরাষ্ট্র থেকে দুবাই পর্যন্ত চলে এসেছিলেন। সেখান থেকে তাকে ফেরত যেতে হয়েছে। ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দলে তাকে বিবেচনা করেনি জাতীয় দলের নির্বাচক কমিটি। সেই সময় সাকিব বোলিংয়ে নিষিদ্ধ ছিলেন। শুধু ব্যাটসম্যান হওয়ায় তাকে দলে নেয়নি গাজী আশরাফের নির্বাচক কমিটি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সাকিব নিজ থেকেই দূরে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।
কিছু দিন আগেই সাকিব নতুন করে জানিয়েছেন, দেশের মাটি থেকেই তিনি অবসর নিতে চান। এ জন্য বোর্ড সভাপতির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি মনে করি- বাংলাদেশের হয়ে খেলার সুযোগটা আমার প্রাপ্য ও বেশির ভাগ মানুষই চায় আমি দেশের হয়ে খেলে অবসর নিই এবং আরও কিছু দিন চালিয়ে যাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৮ বছর (ক্রিকেট ক্যারিয়ার) নাকি সর্বশেষ ৬ মাস (সংসদ সদস্য), কোনটি দেখে আমাকে বিচার করবেন- তা আপনাদের ইচ্ছা।’ সাকিব বোলিং পরীক্ষায় পাস করেছেন। বোর্ডেও পরিবর্তন এসেছে। ফারুক আহমেদ এখন আর নেই। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। সাকিব প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরেছেন। তিনি পাকিস্তানের পিএসএলে খেলেছেন। বর্তমানে তার ব্যস্ততা গ্লোবাল সুপার লিগ নিয়ে। সেখানে তিনি দুবাই ক্যাপিটালসে খেলছেন।
নিজের প্রথম ম্যাচেই জাদুকরী পারফরম্যান্স দিয়ে ফের আলোচনায় এসেছেন এই বাংলাদেশি অলরাউন্ডার। শ্রীলংকায় বাংলাদেশ দলের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ভরাডুবির দিনে গায়ানায় ব্যাটে-বলে আলো ছড়িয়েছেন সাকিব। সেন্ট্রালের বিপক্ষে ৩৭ বলে অপরাজিত ৫৮ রান ও ১৩ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন। ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টিতে এমন অনন্য পারফরম্যান্স করার পর ফের সামাজিক মাধ্যম সরগরম সাকিবকে ঘিরে। বিসিবি পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান ইফতেখার রহমান মিঠু ইঙ্গিত দিলেন সাকিবকে ফেরাতে চায় বোর্ড।
গতকাল তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের গ্রেটেস্ট ক্রিকেটার হচ্ছেন সাকিব আল হাসান। এখানে কোনো সেকেন্ড চয়েস নেই। তার জন্য দরজা সবসময় খোলা। এটি নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্টের ওপর, তারা চিন্তা করছে।’ সাকিবকে জাতীয় দলে ফেরানোর প্রক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আগে কীভাবে চলেছে জানি না, কিন্তু এখন বর্তমান সভাপতি পুরো দায়িত্ব ক্রিকেট অপারেশনস, টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচকদের ওপর দিয়েছেন। তাদেরও নজরে এসেছে। সেটি দেখা হবে। তারা অবশ্যই এ ব্যাপারটি দেখবে।’
এর আগে সাকিবকে জাতীয় দলে ফেরানো নিয়ে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেছিলেন, ‘সাকিবের ব্যাপারটা হলো, সে তো বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন। আশা করব, সাকিব ফিট থাকবে এবং ভালো ক্রিকেট খেলবে। আমাদের ক্রিকেট বোর্ডে যে নির্বাচক কমিটি আছে, তারা দেখবে। আমাদের দল নির্বাচনের একটা প্রক্রিয়া আছে, সিস্টেম আছে। নির্বাচকরা সেটি অনুসরণ করবে। সেটি আমরা সম্মান করব।’
গ্লোবাল সুপার লিগে নিজের প্রথম ম্যাচে দারুণ প্রত্যাবর্তন ছিল সাকিবের। ব্যাটে-বলে অলরাউন্ড পারফরম্যান্স দিয়ে নিজেকে মেলে ধরেছিলেন। যদিও দ্বিতীয় ম্যাচটি তার ভালো যায়নি। হোবার্ট হারিকেন্সের বিপক্ষে ৭ রানে আউট হয়েছেন। বল হাতে ৪ ওভারে ৩৪ রান দিলেও কোনো উইকেট পাননি। তার দলও ৭ উইকেটে হেরেছে।
