ধর্ম ডেস্ক: আত্মত্যাগের মহিমায় পরিশুদ্ধ হওয়ার উৎসবে আনন্দের বার্তা নিয়ে আমাদের মধ্যে সমাগত হয় পবিত্র ঈদুল আজহা। উৎসর্গ, ত্যাগ, দান এবং মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটানো পবিত্র ঈদ সবার মাঝেই বয়ে নিয়ে আসে আনন্দের জোয়ার। ঈদুল আজহা যতটা না আনন্দের, তার চেয়ে বেশি ত্যাগের। আগামীকাল শুক্রবার সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হবে। শনিবার, ৭ জুন ঈদুল আজহা উদ্যাপন হবে বাংলাদেশে।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শেষ কর্মদিবস। আজ বৃহস্পতিবার থেকে তাদের ১০ দিনের ছুটি শুরু হচ্ছে। ১৪ জুন পর্যন্ত টানা ১০ দিন ছুটি কাটাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা। এদিকে ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ের জন্য ইতোমধ্যে রাজধানীর হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহ ময়দান প্রস্তুত করা হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত শনিবার সকাল সাড়ে ৭টায় জাতীয় ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে ৫টি জামাতের আয়োজনের কথা রয়েছে। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে বায়তুল মোকাররম মসজিদে প্রধান জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে।
প্রতিবছরের মতো এবারও বায়তুল মোকাররম মসজিদে ঈদের পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত সকাল ৭টায় এবং দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ও শেষ জামাত পর্যায়ক্রমে সকাল ৮টা, ৯টা, ১০টা এবং ১০টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে।
রোজার ঈদে পোশাক কেনা অগ্রাধিকার পেলেও এই ঈদে হাটে ঘুরে ঘুরে কোরবানির পশু কেনাতেই আনন্দ। আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভে সামর্থ্যবানদের জন্য কোরবানি করা অত্যন্ত তাৎপর্যম-িত ও ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। কোরবানির পশুর মাংসের তিন ভাগের এক ভাগ বিলিয়ে দিতে হয় গরিব-মিসকিনকে। আত্মীয়দের দিতে হবে এক ভাগ। এ ত্যাগে কোরবানি দিতে না পারা দরিদ্ররাও বঞ্চিত হন না ঈদ আনন্দ থেকে। ঈদুল আজহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করে ফিরে এসেই আল্লাহর পথে পশু কোরবানি করবেন সামর্থ্যবানরা।
চার হাজার বছর আগে মুসলমানদের আদি পিতা হজরত ইব্রাহিম (আ.) স্বপ্নে আদিষ্ট হন সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কোরবানি করার। পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) তাঁর সবচেয়ে প্রিয়, আদরের ধন। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে নিজ পুত্রকেই কোরবানির সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু পরম করুণাময়ের ইচ্ছায় হজরত ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি দুম্মা কোরবানি হয়। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সেই ত্যাগের মহিমা স্মরণে মুসলমানরা প্রতিবছর ১০ জিলহজ আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের আশায় কোরবানি করেন।
এদিকে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে নাড়ির টানে মানুষ লঞ্চ, বাস, ট্রেনসহ অন্যান্য বাহনে ছুটছেন। সরকারি সব অফিস আদালত ছুটি হওয়ায় গতকাল বুধবার বিকাল থেকেই চাপ বেড়েছে সব টার্মিনালে। অতীতের মতো এবারও ঈদ উপলক্ষে মেলা বসবে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। ঈদ উপলক্ষে রাজধানীর রাস্তাগুলোকে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। নাগরিক বিনোদন কেন্দ্র চিড়িয়াখানা, শিশু পার্কসহ বিভিন্ন পার্কে থাকবে উপচে পড়া ভিড়। এজন্য বিনোদন কেন্দ্রগুলোয় চলছে দর্শনার্থী বরণের প্রস্তুতি। গণমাধ্যমেও থাকছে ঈদের বিশেষ আয়োজন। সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করেছে বিশেষ ঈদ সংখ্যা। টিভি চ্যানেলগুলোয় থাকছে সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠান।
ঈদ উপলক্ষে কক্সবাজার ও কুয়াকাটার হোটেল, মোটেলে চলছে জোর প্রস্তুতি। এ ছাড়া বান্দরবান, রাঙামাটিসহ অন্যান্য জেলার দর্শনীয় স্থানেও চলছে প্রস্তুতি। ঈদের ছুটিতে অনেকেই এসব এলাকায় ঘুরতে যাবেন। তাই বাড়তি চাপ সামলাতে সব ধরনের আয়োজন চলছে।
চট্টগ্রামে ঈদের প্রধান জামাত জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানিয়েছে, চট্টগ্রামে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে। ঈদের দিন (শনিবার) প্রথম জামাত শুরু হবে সকাল সাড়ে ৭টায়, আর দ্বিতীয় জামাত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়। প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন মসজিদের খতিব সৈয়দ আলাউদ্দিন আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আল কাদেরী। দ্বিতীয় জামাত পরিচালনা করবেন পেশ ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ আহমদুল হক।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সমাজকল্যাণ ও সংস্কৃতিবিষয়ক কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ জানান, নগরবাসীর সুবিধার্থে চসিকের উদ্যোগে নগরের বিভিন্ন এলাকায় আরও ৯টি ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে ঈদের দিন সকাল সাড়ে ৭টায়।
জামাতগুলোর স্থান হলো- লালদীঘির পাড় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন শাহী জামে মসজিদ, হযরত শেখ ফরিদ (রহ.) চশমা ঈদগাহ মসজিদ, সুগন্ধা আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, চকবাজার সিটি করপোরেশন জামে মসজিদ, জহুর হকার্স মার্কেট জামে মসজিদ, দক্ষিণ খুলশী (ভিআইপি) আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, আরেফীন নগর কেন্দ্রীয় কবরস্থান জামে মসজিদ, সাগরিকা গরুবাজার জামে মসজিদ, সাগরিকা এলাকার মা আয়েশা সিদ্দিকী (রা.) চসিক জামে মসজিদ।
এ ছাড়া নগরের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় মসজিদ ও ঈদগাহে নিজ উদ্যোগে ঈদের জামাতের আয়োজন করবেন স্থানীয় মুসল্লিরা।
