রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডি এলাকায় মাত্র ১৫ মিনিটের ব্যবধানে দুটি পৃথক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ শুক্রবার রাত ৮টা থেকে সোয়া ৮টার মধ্যে সংঘটিত এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন দুই যুবক, আহত হয়েছেন আরও একজন। তবে হত্যাকাণ্ডগুলোর পেছনে কে বা কারা জড়িত এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ।
মোহাম্মদপুরের দুর্গা মন্দির গলিতে রাত ৮টার দিকে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নুর ইসলাম (২৬) নামের এক যুবক নিহত হন। পেশায় তিনি ছিলেন ফটোগ্রাফার, বিয়েসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কাজ করতেন। গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হলে রাত ১০টায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নুর ইসলাম বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার পূর্ব সুজনকাঠি গ্রামের আবুল ফকিরের ছেলে। বর্তমানে তিনি ধানমন্ডির শংকর বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি বাসায় বসবাস করতেন।
তার বড় ভাই ওসমান গনি জানান, “আমার ভাই বিভিন্ন বিয়ের অনুষ্ঠানে ফটোগ্রাফির কাজ করতো। আজ রাত আটটার দিকে মোহাম্মদপুরের দুর্গা মন্দির গলিতে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথা ও দুই হাতে কুপিয়ে জখম করে। আমরা খবর পেয়ে প্রথমে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, সে আর বেঁচে নেই।”
এদিকে একই রাত সোয়া ৮টার দিকে ধানমন্ডির জিগাতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন আলভী (২৭) নামের এক শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় আহত হন আশরাফুল ইসলাম (২৬) নামের আরও একজন যুবক। নিহত আলভী ধানমন্ডির ড. মালেকা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় দু’জনকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক আলভীকে মৃত ঘোষণা করেন। আশরাফুল ইসলাম বর্তমানে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন।
নিহত আলভীর বাবার নাম মশিউর খান পাপ্পু এবং আহত আশরাফুলের বাবার নাম মোহাম্মদ মাসুদ। তারা দুজনেই হাজারীবাগের বিজিবি ৫ নম্বর গেট এলাকার বাসিন্দা।
আলভীর মামি মাহি বেগম জানান, “আলভী ড. মালেকা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়তো। আজ রাত সোয়া আটটার দিকে আলভী ও আশরাফুল জিগাতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছিল। এ সময় তিন-চারজন অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। রক্তাক্ত অবস্থায় প্রথমে জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার ভাগনিকে মৃত ঘোষণা করেন।”
তিনি আরও বলেন, “আহত অবস্থায় আলভীর বন্ধু আশরাফুল বর্তমানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন।”
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, “দুইটি মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আহত আশরাফুলের চিকিৎসা চলছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ বা অভিযুক্তদের বিষয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি।”