মুক্তদেশ ডেস্ক: সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সমুদ্রসৈকতে এক চমকপ্রদ দৃশ্যের অবতারণা করেছে একটি বিশাল সাদা হাঙর। মেরিনা স্টেট বিচের কাছে সমুদ্রের পানি থেকে লাফিয়ে উঠে এটি এমনভাবে পর্যটকদের ছবির পেছনে ধরা পড়ে, যেন ইচ্ছা করেই ছবিতে ঢুকে পড়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সমুদ্রসৈকতে একদল বন্ধু ছবি তোলার জন্য পোজ দিচ্ছেন। ঠিক সেই সময় পেছনে সমুদ্রের পানি থেকে কয়েক ফুট উঁচুতে লাফিয়ে ওঠে একটি বিশাল সাদা হাঙর। ঘটনাটি পর্যটকদের ছবিতে আকস্মিকভাবে ধরা পড়ে।
এ বিষয়ে দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট পার্কস কর্তৃপক্ষ জানায়, ভিডিও ধারণের সময় মেরিনা স্টেট বিচের কাছাকাছি উপকূল থেকে একটি সাদা হাঙরের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মেলে—এমন একটি হাঙরকে পানি থেকে লাফিয়ে উঠতে দেখা যাওয়ার বিষয়টি তারা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করেছে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, বিভাগের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সৈকতে হাঙর-সংক্রান্ত সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি কার্যকর রয়েছে। একই সঙ্গে দর্শনার্থীদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, হাঙর উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং মানুষ ও হাঙরের মধ্যে মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা বিরল।
মৌসুম অনুযায়ী ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে আসে সাদা হাঙর
মৌসুমি অভ্যাসের কারণে মন্টেরে উপসাগরে প্রায়ই দেখা যায় গ্রেট হোয়াইট শার্ক বা বিশাল সাদা হাঙর। এসব হাঙর পরে হাওয়াইয়ের কাছাকাছি গভীর সমুদ্রের দিকে চলে যায়। গ্রীষ্মের শেষভাগ ও শরতের শুরুর দিকে আবার ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে ফিরে আসে।
ক্যালিফোর্নিয়ার মধ্য উপকূলীয় অঞ্চল এসব শিকারি প্রাণীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। এরা মাছ ও সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী, বিশেষ করে সিল শিকার করে খায়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় সাদা হাঙর দেখার ঘটনা বেড়েছে। জলবায়ু সংকটের কারণে সমুদ্রের পরিবেশে পরিবর্তন আসায় এসব প্রাণীর পরিযায়ী চলাচলের ধরনও প্রভাবিত হচ্ছে।
এল নিনো পরিস্থিতির সময় সমুদ্রে তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে এবং পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। এতে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে। ফলে সাদা হাঙরের মতো শীতল পানিতে বসবাসকারী প্রাণী অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা পানির সন্ধানে উত্তরের দিকে সরে যেতে পারে কিংবা গভীর সমুদ্রে চলে যেতে পারে।
বাস্তুতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তবু হুমকির মুখে সাদা হাঙর
ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) সাদা হাঙরকে ‘বিপন্নতার ঝুঁকিতে থাকা’ (Vulnerable) প্রজাতি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে।
একটি পূর্ণবয়স্ক সাদা হাঙরের দৈর্ঘ্য ২০ ফুট বা প্রায় ৬ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। এর ওজন হতে পারে ৪ হাজার পাউন্ড বা প্রায় ১ হাজার ৮০০ কেজি।
সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলের শীর্ষ শিকারি এবং বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতি হিসেবে সাদা হাঙর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এরা শিকারি প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে, সামুদ্রিক পরিবেশে পুষ্টি উপাদানের বণ্টনে ভূমিকা রাখে এবং অসুস্থ বা আহত প্রাণী শিকার করে রোগের বিস্তার সীমিত রাখতেও সহায়তা করে।
কিন্তু পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে সাদা হাঙরকে মানুষখেকো প্রাণী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। জস (Jaws)-এর মতো চলচ্চিত্র এই ধারণাকে জনপ্রিয় করেছে, যা হাঙর সংরক্ষণের প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
ভয়ংকর শিকারি হিসেবে পরিচিত হলেও গত শতাব্দীতে বিশ্বের কয়েকটি অঞ্চলে সাদা হাঙরের সংখ্যা ৯০ শতাংশেরও বেশি কমে গেছে।
বিনোদনমূলক ও বাণিজ্যিক মাছ শিকার, অন্য মাছ ধরার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে জালে আটকে পড়া, অবৈধ শিকার ও বাণিজ্য, আবাসস্থলের অবক্ষয় এবং জলবায়ু সংকট—সব মিলিয়ে প্রজাতিটির অস্তিত্ব এখনো হুমকির মুখে।
পাঠকদের প্রতি দ্য গার্ডিয়ানের আবেদন
আমাদের আপনাদের কাছে একটি ছোট অনুরোধ রয়েছে।
২০০ বছরেরও বেশি আগে প্রকাশনা শুরু করার পর থেকে কোটি কোটি পাঠক সংকট, অনিশ্চয়তা, সংহতি ও আশার মুহূর্তে দ্য গার্ডিয়ানের নির্ভীক সাংবাদিকতার ওপর আস্থা রেখেছেন। বর্তমানে ১৮০টি দেশের ১৫ লাখেরও বেশি সমর্থক আর্থিক সহায়তা দিয়ে সংবাদমাধ্যমটিকে সবার জন্য উন্মুক্ত ও স্বাধীন রাখতে সহায়তা করছেন।
দ্য গার্ডিয়ানের অন্য অনেক সংবাদমাধ্যমের মতো কোনো শেয়ারহোল্ডার বা বিলিয়নিয়ার মালিক নেই। বাণিজ্যিক কিংবা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ পরিবেশনের দৃঢ় সংকল্প ও আগ্রহই তাদের মূল শক্তি। গণতন্ত্র, ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা এবং ক্ষমতাবানদের জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য এ ধরনের সাংবাদিকতা গুরুত্বপূর্ণ।
দ্য গার্ডিয়ান সবার জন্য বিনা মূল্যে সংবাদ প্রকাশ করে। কারণ, তারা তথ্যপ্রাপ্তির সমান অধিকারে বিশ্বাস করে। এর ফলে আরও বেশি মানুষ বিশ্বজুড়ে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো সম্পর্কে জানতে পারেন, সেসব ঘটনা ব্যক্তি ও সমাজের ওপর কী প্রভাব ফেলছে তা বুঝতে পারেন এবং ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে অনুপ্রাণিত হন।
পাঠকের আর্থিক সামর্থ্য যা-ই হোক না কেন, মানসম্মত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদে অবাধ প্রবেশাধিকার থেকে লাখো মানুষ উপকৃত হতে পারেন।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাঠকেরা অল্প বা বেশি যে পরিমাণ অর্থই সহায়তা করুন না কেন, তাঁদের এই সহযোগিতা আগামী বছরগুলোতেও দ্য গার্ডিয়ানের সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে ভূমিকা রাখবে।
