মুুক্তদেশ ডেস্ক: ইরাকে প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি সরকারের মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে আগে শূন্য থাকা ১১টি মন্ত্রীর পদ এবং তিনজন উপপ্রধানমন্ত্রীর নিয়োগ অনুমোদন পেয়েছে। তবে নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থনৈতিক সংকট। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের প্রভাবে দেশটির রাজস্ব আয় কমেছে, দেখা দিয়েছে নগদ অর্থের সংকট।
অনুমোদন পাওয়া মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী নায়েফ আল-শাম্মারি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়াসির আল-মালিকি, পরিকল্পনামন্ত্রী, সংস্কৃতিমন্ত্রী এবং উচ্চশিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণামন্ত্রী। তবে অভিবাসন ও বাস্তুচ্যুতি মন্ত্রণালয়ের জন্য মনোনীত প্রার্থীকে নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতবিরোধ থাকায় এ পদে নিয়োগের বিষয়ে ভোট স্থগিত করা হয়েছে।
তিন উপপ্রধানমন্ত্রীর নিয়োগও অনুমোদন করেছে পার্লামেন্ট। তাদের একজন লাইথ আল-খাজালি। তিনি ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী আসাইব আহল আল-হকের জ্যেষ্ঠ নেতা এবং সংগঠনটির প্রধান কায়েস আল-খাজালির ভাই।
২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্র আসাইব আহল আল-হককে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। সংগঠনটির দুই ভাইকেও ‘বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’ ঘোষণা করে ওয়াশিংটন। ২০০৭ সালে পাঁচ মার্কিন সেনাকে হত্যার ঘটনায় সংগঠনটির হামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে ২০১৯ সালে ইরাকে বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগে দুই ভাইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর এক বিবৃতিতে পার্লামেন্টকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী আল-জাইদি। উপপ্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সর্বোচ্চ নিষ্ঠা, দক্ষতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
আল-জাইদি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া ব্যতিক্রমী অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তার সরকার দ্রুত ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ শুরু করছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এ যুদ্ধ শুরু হয়।
তীব্র অর্থসংকটে ইরাক
চলমান সংঘাতের কারণে ইরাকে নগদ অর্থের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে দেশটি হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করত। এ তেল রপ্তানি থেকে সরকারের মোট রাজস্বের প্রায় ৯০ শতাংশ আসত। যুদ্ধের কারণে সেই আয়ের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
আল-জাইদি বলেছেন, ‘এই যুদ্ধ ইরাকের ওপর অসাধারণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ চাপিয়ে দিয়েছে এবং এখনো দিচ্ছে।’
সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও জরুরি ব্যয় মেটাতে ইরাকি দিনারের অবমূল্যায়ন করেছেন সাবেক এই ব্যাংকার। মার্কিন ডলারের বিপরীতে দিনারের মূল্য প্রায় ১৫ শতাংশ কমানো হয়েছে।
গত মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার সময় তার সরকার ২০৮ ট্রিলিয়ন ইরাকি দিনারের বেশি সরকারি ঋণ উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে বলে জানিয়েছেন আল-জাইদি। নতুন বিনিময় হার অনুযায়ী, এ ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। এ তথ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানির সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
আল-জাইদির ভাষ্য, সরকারি কর্মচারীদের বেতনসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যয় মেটাতে প্রতি মাসে প্রায় ১০ ট্রিলিয়ন দিনার বা ৬৭০ কোটি ডলার প্রয়োজন।
দুর্নীতি দমন ও মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি
অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই, রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আল-জাইদি।
দেশটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথাও বলেছেন তিনি। নতুন সরকারের সামনে তাই অর্থনৈতিক সংকট সামাল দেওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চ্যালেঞ্জও রয়েছে।
