এম. হাসান: ইরান-সমর্থিত হুতিদের সাম্প্রতিক নাটকীয় অগ্রগতি—এর মধ্যে লোহিত সাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি দ্বীপ দখলও রয়েছে—ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে বিপর্যস্ত অঞ্চলটির পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং তীব্রতর করেছে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট। কিন্তু হুতিদের ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা তার গুরুত্বপূর্ণ মিত্র সৌদি আরব—কোনো পক্ষেরই স্পষ্ট পরিকল্পনা নেই বলে একাধিক সূত্র CNN-কে জানিয়েছে। ফলে পাল্টা অভিযান কোথা থেকে আসবে, তা নিয়ে ওই অঞ্চলের অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা স্বীকার করছেন, ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালির ওপর শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের ঠেকাতে মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যবহার করতে খুব একটা আগ্রহী নয় বলে সংকেত দিচ্ছে। বরং এ দায়িত্ব সৌদি আরবের ওপর ছেড়ে দিতে চাইছে ওয়াশিংটন।
কিন্তু অতিরিক্ত মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা পাওয়ার পরও সৌদি আরব ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় শহরগুলো দখল থেকে হুতিদের কার্যকরভাবে ঠেকাতে পারেনি। এতে উপসাগরীয় ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। CNN-এর সঙ্গে কথা বলা সূত্রগুলোও সন্দেহ প্রকাশ করেছে, সৌদি আরব একা হুতিদের থামাতে পারবে কি না।
হুতিদের সাম্প্রতিক তৎপরতা ওই অঞ্চলের সূত্র এবং সাবেক কূটনীতিকদের কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল না। তারা বলেছেন, সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর দুর্বলতা আগে থেকেই জানা ছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কয়েক মাস ধরে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছিল যে, ইরান এ বছরের শুরুতে যেমনটি করেছিল, হুতিরাও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ করার চেষ্টা করবে।
তবু একজন মার্কিন কর্মকর্তা CNN-কে বলেছেন, হুতিদের বিরুদ্ধে সফল হতে সৌদি আরবের প্রয়োজনীয় সবকিছুই যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে সরবরাহ করছে। এর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য এবং লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণসংক্রান্ত তথ্য ভাগাভাগি বাড়ানোর বিষয়টিও রয়েছে। আর প্রায় এক দশক ধরে ইয়েমেন সরকারের সামরিক বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর সৌদি আরব মার্কিন কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করেছিল যে, তারা নিজেদের সক্ষমতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী।
ইয়েমেনের ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের সময় এক দশকেরও বেশি আগে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে। হুতিদের সমর্থন ও প্রশিক্ষণ দেয় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া একটি যুদ্ধবিরতির ফলে দুই পক্ষের মধ্যে তুলনামূলকভাবে কম মাত্রার সংঘাতের একটি সময় এসেছিল।
তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আবারও লড়াই শুরু হয়েছে এবং তা তীব্র হয়েছে। সৌদি আরবের অভিযোগ, হুতিরা ইসলামের পবিত্রতম শহর মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে হুতিরা দাবি করেছে, তারা সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। গত এক দিনে রিয়াদজুড়ে সতর্কসংকেত বেজেছে। জুলাইয়ে হুতিদের সঙ্গে উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর এই প্রথম সৌদি রাজধানী সরাসরি হুমকির মুখে পড়ল।
হুতিরা জানিয়েছে, শনিবার তারা রিয়াদে ‘সংবেদনশীল’ স্থাপনা এবং ইয়ানবুতে সৌদি আরবের আরামকোর একটি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে। সৌদি রাজধানীর ঠিক কোন কোন স্থানে তারা হামলা চালিয়েছে, তা জানায়নি গোষ্ঠীটি। রয়টার্সের ভিডিওতে শহরের প্রধান বিমানবন্দরের কাছে আকাশে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী দেখা গেছে। তবে আগুনের কারণ কী, তা স্পষ্ট হয়নি। হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবরও পাওয়া যায়নি।
শনিবারের রয়টার্সের ভিডিওতে রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরের কাছে বিশাল কালো ধোঁয়া দেখা যায়। আগুনের কারণ স্পষ্ট না হলেও পরে সৌদি সামরিক বাহিনী জানায়, ভোরে ইয়েমেনের হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে।
শনিবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, ভোরে রিয়াদ অভিমুখে ছোড়া হুতিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশটির বিভিন্ন স্থানে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হুতিদের অন্যান্য হামলার চেষ্টাও প্রতিহত করা হয়েছে। এর মধ্যে লোহিত সাগরের বন্দর ইয়ানবুতেও হামলার চেষ্টা ছিল। ওই বন্দরে সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইনের সমাপ্তি হয়েছে।
‘কোনো আক্রমণাত্মক হামলা নয়’
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন সামরিক হামলায় অংশ নেওয়াই তার বর্তমান ‘লাল রেখা’। এখন পর্যন্ত সৌদি হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘কোনো আক্রমণাত্মক হামলা নয়।’
‘হুতিরা আমাদের ফোন করে বলেছে, তারা লড়াই করতে চায় না’
উপসাগরীয় অঞ্চল ও যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্পের বক্তব্য থেকে ইরানের কাছে এমন বার্তা যাচ্ছে যে, তিনি ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের সমর্থনে এগিয়ে যেতে অনিচ্ছুক।
গত সপ্তাহের শেষ দিকে আয়ারল্যান্ডে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘হুতিরা আমাদের ফোন করে বলেছে, তারা আমাদের সঙ্গে লড়াই করতে চায় না।’ তিনি বলেন, তারা চায় না যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাক এবং তারা বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পৃক্ত না করাই পছন্দ করবে। ট্রাম্প আরও বলেন, তারা বেশির ভাগ জাহাজ চলাচল করতে দিচ্ছে।
সৌদি আরবের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা শুধু একটি দেশের ওপরই খুব একটা খুশি নয়’, এবং সেটি ঠিক করে দেওয়া হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন কাজ করা সাবেক মার্কিন কূটনীতিক বারবারা লিফ ট্রাম্পের হুতিদের বিষয়ে করা মন্তব্যকে ‘বিস্ময়কর’ বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি CNN-কে বলেন, ঘনিষ্ঠ একটি অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এ ধরনের আচরণ কঠোর; বিশেষ করে এমন একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে চুক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি আরও কঠোর, যেটিকে যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং যে গোষ্ঠী ওই অংশীদারের ওপর হামলা চালিয়েছে। প্রশাসন ২০২৫ সালের মার্চে হুতিদের বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে।
গত সপ্তাহে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পের সঙ্গে দুবার কথা বলে হুতিদের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলার অনুরোধ করেন। এখন পর্যন্ত সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রশাসনের নীতিতে পরিবর্তন আসবে কি না, তা বলা কঠিন।
সৌদি আরবের আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানের জন্য মার্কিন সামরিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও দেশের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো সুরক্ষাও এখন সমান জরুরি হয়ে উঠেছে। আঞ্চলিক কর্মকর্তারা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, সৌদি সামরিক বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতকারী অস্ত্রের মজুত কমে আসায় রিয়াদ ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের কাছে বিমান প্রতিরক্ষা সহায়তা চেয়েছে।
ইরান যুদ্ধে নতুন ফ্রন্ট?
হুতিদের অগ্রগতি নিয়ে এই হতাশার মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের অনেক সূত্র মনে করছে, তাদের এই অভিযান ইরান যুদ্ধে একটি নতুন ফ্রন্ট তৈরি করেছে, যা সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করতে পারে। বিষয়গুলো আলাদাভাবে মোকাবিলার কিছু প্রচেষ্টা থাকলেও সূত্রগুলোর ক্রমবর্ধমান ধারণা হলো, হুতিদের বিষয়টি সমাধান না করে ইরান নিয়ে অগ্রগতি করা সম্ভব হবে না।
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন কাজ করা সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত জোয়ি হুড বলেন, ‘লোহিত সাগরে হুতিদের অগ্রযাত্রা আইআরজিসিকে আরও উৎসাহিত করছে। সৌদিদের এটা ঠিক করতেই হবে। তা না হলে তারা টেবিলের ওপর বন্দুক রেখে আলোচনায় বসবে, আর তারা সেটা করবে না।’
হুডসহ অন্যান্য সূত্র উল্লেখ করেছে, হুতিরা তাদের লড়াইকে শুধু সৌদি আরবের সঙ্গে সংঘাত হিসেবে তুলে ধরলেও ইরানের সঙ্গে তাদের একটি সুস্পষ্ট সম্পর্ক রয়েছে।
হুড বলেন, ‘ইরান এখন অস্তিত্বের লড়াইয়ে রয়েছে এবং তারা তাদের সব প্রক্সিকে লড়াইয়ে নামাচ্ছে। হুতিরা ইরানের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয় না, কিন্তু তাদের ইরানের কাছ থেকে জ্বালানি প্রয়োজন। তাই তারা এখন কেন এই অভিযান চালাচ্ছে—এ বিষয়ে হুতিদের দেওয়া ব্যাখ্যা পুরো বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে না।’
ইয়েমেনের পরিস্থিতি হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনাসহ অন্যান্য আলোচনাকেও জটিল করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরুর পর উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)ভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের প্রথম বৈঠক এ সপ্তাহের শুরুতে বাতিল হয়। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ওমান ও ইরানের সম্ভাব্য চুক্তির ভাষা নিয়ে উদ্বেগের কারণে সৌদি আরব বৈঠকে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে অন্যান্য উপসাগরীয় দেশও একই পথ অনুসরণ করে। আঞ্চলিক সূত্রগুলো বলেছে, সক্রিয় হুতি হামলার মধ্যে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসে সৌদি আরব কোনো লাভ দেখছে না—এটি ছিল তারই স্পষ্ট সংকেত।
একজন আঞ্চলিক সূত্র CNN-কে বলেন, ‘হুতিদের হামলা এবং বাব আল-মান্দাব করিডরের কাছাকাছি পরিস্থিতি হরমুজ প্রণালি নিয়ে চুক্তিকে প্রভাবিত করছে। সৌদিরা সবকিছু অথবা কিছুই নয়—এমন অবস্থান দাবি করছে। এটি বোধগম্য হলেও এতে প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হচ্ছে।’
‘কেউ একা লড়তে চায় না’
প্রায় এক দশক ধরে সৌদি আরব ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ওই বাহিনী হুতিদের কার্যকরভাবে পিছু হটাতে পারেনি। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য ও নির্ভুল লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের সহায়তায় সৌদি হামলা হুতিদের দখল করা কিছু এলাকায় তাদের শক্ত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ঠেকিয়েছে। তবে তাদের অগ্রযাত্রা পুরোপুরি থামানো যায়নি।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত এক দশকে মার্কিন সরকারের শীর্ষ পর্যায়গুলো হুতিদের হুমকিকে অনেকটাই উপেক্ষা করেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের নিম্নপর্যায়ের কর্মকর্তারা এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন পক্ষ গোষ্ঠীটি শক্তিশালী হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে এ বিষয়ে আরও মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।
গত বছর হুতিদের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানও আমেরিকান সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট করে দেয়। কয়েক মাস ধরে বোমাবর্ষণ করেও ইয়েমেনে হুতিদের অবস্থান কার্যকরভাবে দুর্বল করা যায়নি। শেষ পর্যন্ত আকস্মিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও হুতিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়।
মার্কিন ওই কর্মকর্তা জানান, এ সপ্তাহান্তে ওমানে বৈঠকের সময় যুক্তরাষ্ট্র হুতিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিকে আরও ‘সুসংহত করেছে’। প্রশাসন সংঘাতে জড়াতে অনিচ্ছুক—এই বার্তাই এতে আরও স্পষ্ট হয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একজন জ্যেষ্ঠ হুতি কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার CNN-কে বলেন, ‘আমেরিকানরা একটি বার্তা পাঠিয়েছে—তারা সৌদিদের সঙ্গে যোগ দিতে এবং সংঘাতের অংশ হতে চায় না।’
সূত্রটি আরও বলেন, ‘আমরা এই বার্তাকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছি।’
কিছু বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একসময় ধারণা করা হয়েছিল সৌদি আরবের নিজস্ব সামরিক শক্তি এবং ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীতে তাদের বিনিয়োগ হুতিদের আক্রমণ ঠেকাতে ভারসাম্য তৈরি করতে পারবে। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
অন্যরা বলছেন, হুতিদের সাফল্য খুব একটা বিস্ময়কর নয়—বিশেষ করে গোষ্ঠীটির ঐক্য এবং ইরানের সমর্থনের বিষয়টি বিবেচনায় নিলে।
বারবারা লিফ বলেন, ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সঙ্গে হুতিদের একটি অত্যন্ত গভীর ও কার্যকর সম্পর্ক রয়েছে। আইআরজিসি তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং ১২ বছর আগে গুহায় লড়াই করা কঠিন জীবনযাপনের যোদ্ধাদের তুলনায় তাদের অনেক বেশি সক্ষম একটি বাহিনীতে পরিণত করেছে, যারা এখন যথেষ্ট ধ্বংসাত্মক শক্তিতে পরিণত হতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘গত কয়েক মাসে হুতিরা ঠিক এ ধরনের অভিযানের জন্য নিজেদের বাহিনীকে প্রস্তুত করতে অনেক সময় ব্যয় করেছে। তারা সৌদি-সমর্থিত এবং ইয়েমেন সরকারের অনুগত বাহিনীর প্রতিরোধ ভেঙে এগিয়ে গেছে। বিস্ময়ের কিছু নেই—বাহিনীগুলো কার্যত ভেঙে পড়েছে।’
একজন বর্তমান উপসাগরীয় কর্মকর্তা বলেন, ‘কেউ একা লড়তে চায় না। হয় সৌদিরা লড়বে, নয়তো হুতিদের সঙ্গে সমঝোতা করবে।’
তবে সৌদি-সমর্থিত সরকারকে হুতিদের মোকাবিলায় আরও সম্পদের প্রয়োজন হবে—এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট নানা চ্যালেঞ্জ সামলাতে সৌদি আরবও চাপে পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দেশটির ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে সাম্প্রতিক হামলা, প্রণালির মধ্য দিয়ে ট্যাংকার চলাচল নিশ্চিত করতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কাজ করা এবং অঞ্চলজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ পরিবহনের জন্য স্থলপথ চালু রাখা।
সৌদি আরব সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সেপ্টেম্বর মাসের জন্য ইউরোপে তেল রপ্তানি কমিয়ে দিয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও গভীর হতে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্রগুলো বলেছে, ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর কার্যকর পাল্টা অভিযান চালাতে সৌদি আরব বা অন্য কোথাও থেকে আরও স্থলসেনা মোতায়েন এবং যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু এ দুটির কোনোটিই আপাতত সম্ভাব্য বলে মনে হচ্ছে না।
আরেকজন আঞ্চলিক সূত্র বলেন, ‘অন্তত মার্কিন সম্পৃক্ততার সম্ভাবনাটি সবার সামনে থাকা দরকার, যাতে তা প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। আপনি যদি অপ্রয়োজনীয়ভাবে সেই সম্ভাবনাটিও সরিয়ে দেন, তাহলে বিশেষ করে মাটিতে থাকা ইয়েমেনিদের মনোবল ভেঙে যায়।’
লিফ বলেন, তিনি ওই অঞ্চলের কর্মকর্তাদের মধ্যে সৌদি আরবকে নিয়ে হতাশা শুনছেন না। বরং তারা প্রশ্ন করছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এখানে আসলে কী করতে যাচ্ছে?’
উপসাগরীয় ও মার্কিন সূত্রগুলো আরও সন্দেহ প্রকাশ করেছে, হুতিদের এই উত্তেজনা সামরিকভাবে পুরোপুরি সমাধান করা আদৌ সম্ভব কি না।
আঞ্চলিক এক সূত্র বলেন, ‘তারা বহু বছর ধরে হুতিদের পরাজিত করার চেষ্টা করছে।’ তার মতে, সামরিক পদক্ষেপ হুতিদের দুর্বল করতে পারে, ‘হ্যাঁ, কিন্তু তাদের শেষ করে দিতে পারবে না।’
