মুক্তদেশ ডেস্ক: ১৫ আগস্ট ঘিরে দেশের দুই জেলায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। জেলা দুটি হলো যশোর ও মাদারীপুর। ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আটজন আহত হয়েছে। শনিবার সকালে এ ঘটনা।
যশোরের কেশবপুরে ককটেল বিস্ফোরণে জুয়েল (৩৫) নামে এক মোটরশ্রমিক আহত হয়েছেন। আহত জুয়েলকে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ খবর পেয়ে থানার পুলিশ বিস্ফোরিত এলাকাটি ঘিরে রেখে আহত জুয়েলকে তাদের হেফাজতে নিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছে। ঘটনাস্থলে আরো দুটি অবিস্ফোরিত ককটেল রয়েছে বলে পুলিশ জানায়।
এলাকাবাসী ও থানার পুলিশ জানায়, শনিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে কেশবপুর পৌর শহরের যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের মধ্যকুল এলাকায় একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এতে মধ্যকুল গ্রামের ব্যবসায়ী খানজের ছেলে জুয়েলের পায়ে বোমার স্প্লিন্টার লেগে তিনি আহত হন। আহত জুয়েলকে পথচারীরা উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত উদ্ধারসহ এলাকাটি ঘিরে রেখেছে। পুলিশ জানায়, ওই স্থানে আরও দুটি পলিথিনে মোড়ানো অবিস্ফোরিত ককটেল রয়েছে।
এলাকাবাসীরা জানান, ১৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতা করতে কেশবপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও নিষিদ্ধ ঘোষিত পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিক মোড়ল, একাধিক মামলার আসামি সাবেক কাউন্সিলর কামাল খানসহ ১৫-২০ জন সন্ত্রাসী শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে মধ্যকুল এলাকায় মুজিবুর রহমান মুজির মৎস্য খামারে গোপন মিটিং করেন। বিষয়টি এলাকার বিএনপি নেতাসহ গ্রামবাসী থানার অফিসার ইনচার্জ মোছা. রোকসোনা খাতুনকে অবহিত করলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। সন্ত্রাসীদের গর্ডফাদার রফিক মোড়ল ও কামাল খান নাশকতাসহ একাধিক মামলায় আটক হওয়ার পর তারা আদালত থেকে জামিনে এসে আওয়ামী লীগসহ ছাত্রা ও যুবলীগকে সংঘটিত করতে কাজ করছেন।
হাসপাতালে কর্মরত ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ককটেল বিস্ফোরণে আহত জুয়েলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
থানার ওসি মোছা. রোকসোনা খাতুন বলেন, শনিবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে পৌর শহরের কেশবপুর ফিলিং স্টেশনের উত্তর পাশে জেলেপাড়া সড়কের মুখে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। আহত জুয়েলকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে আরও দুটি অবিস্ফেরিত ককটেল পড়ে আছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া শুক্রবার রাতে মধ্যকুল গ্রামে আওয়ামী লীগ নেতাদের একটি মৎস্য ঘেরে মিটিংয়ের বিষয়ে তাকে এলাকাবাসী অবহিত করেছিল।
এদিকে মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে একটি বসতঘরের সিঁড়িতে থাকা ককটেল বিস্ফোরণে গোপালপুর দারুস সুন্নাহ মহিলা মাদ্রাসার সাতজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে মাদ্রাসার টিফিনের বিরতি চলাকালীন শিক্ষার্থীরা নাশতা করার উদ্দেশ্যে পাশের ইমন সরদারের বসতঘরের দিকে যায়। সেখানে ঘরের দরজার সিঁড়ির গোড়ায় পড়ে থাকা একটি ককটেল শিক্ষার্থীরা না বুঝে নাড়াচাড়া করতে গেলে হঠাৎ সেটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই সাতজন শিক্ষার্থী আহত হয়।
ঘটনার পরপরই আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা মারাত্মক অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
যানা যায়, ইমন সরদারের কাজের বুয়া বেবি (৪০) আজ শনিবার সকালে ঘর ঝাড়ু দেওয়ার সময় বলের মতো একটি বস্তু বারান্দার সিঁড়িতে দেখতে পেয়ে বাড়ির মালিককে জানালেও তারা গুরুত্ব দেননি।
সংবাদ পেয়ে মাদারীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিয়া রফিক ভাবনাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি ঘিরে রাখেন।
মাদারীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিয়া রফিক ভাবনা জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। ককটেলটি ওখানে কীভাবে এলো এবং ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
