মুক্তদেশ ডেস্ক: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা তারেক রহমান সরকার গঠনের চার মাসের মাথায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব হয়ে মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন। সফরটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই সফরে বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়া ও চীনের সম্পর্ক আরো দৃঢ় হয়েছে এবং অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে তিনি এই সফরে অনেকগুলো চুক্তি সম্পাদন করেছেন।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া বাজেট অধিবেশনের প্রথমেই ওই সফরের বিষয়ে ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে মালয়েশিয়ার এবং একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে দুই দেশের পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হয়েছে। দীর্ঘ একটি ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের নেতৃত্ব দেওয়ার পরে আমাদের নেতা ইতোমধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে নিজের একটা অবস্থান তৈরি করে ফেলেছেন, যেখানে বাংলাদেশের মানুষ তার সম্পর্কে ধারণা সৃষ্টি করেছে। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করছেন এবং পুরোনো সমস্ত খারাপকে বাদ দিয়ে নতুন দৃষ্টান্ত যেমন—ইতোপূর্বে যখন প্রধানমন্ত্রী বাইরে যেতেন, তখন বিরাট সংবর্ধনার ব্যবস্থা করা হতো। দেশ থেকে ফিরলেও আবার রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিয়ে বড় রকমের সংবর্ধনার আয়োজন করা হতো, যেটা তিনি নিজেই উদ্যোগ নিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরে চীনের সঙ্গে ১৭টি এমওইউ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাইরে যে মিটিং হয়েছে সেই মিটিংয়ে এমওইউ সই হয়েছে এবং সব প্রেসিডেন্ট তার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেছেন, সভা করেছেন, বৈঠক করেছেন। অত্যন্ত হৃদ্যতার সঙ্গে এই আলোচনাগুলো হয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়া ও চীনের যে সম্পর্ক, এটা আরো দৃঢ় হয়েছে এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তারা তাদের ভূমিকা অক্ষুণ্ন রাখবেন শুধু নয়, তারা এটাকে আরো বাড়াবেন, আমাদের যে সমস্যাগুলো রয়েছে, বিভিন্নভাবে সেই সব সমস্যা তারা সমাধানের চেষ্টা করবেন। এমনকি রোহিঙ্গা সমস্যার ব্যাপারে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলেও তারা জানিয়েছেন। সে জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংসদে প্রস্তাব গ্রহণ করা হোক।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২১ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত মালয়েশিয়া ও চীন সফরে অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতভাবে ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হয়।
এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য দেন। পরে স্পিকার ধন্যবাদ প্রস্তাব কণ্ঠভোটে দিলে তাতে সবাই সমর্থন জানান। এ সময় সংসদে সবাই টেবিল চাপড়ে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।
পরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই প্রস্তাব সমর্থন ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চায়না ভ্রমণটার ভিত্তি ছিল আমাদের পররাষ্ট্রনীতির যে ভিত্তি তার ওপর করে যে, আমাদের সঙ্গে প্রত্যেকটি দেশের সম্পর্ক হবে অন মিউচুয়াল রেসপেক্ট, অন মিউচুয়াল ইন্টারেস্ট, ইন্টারফেয়ারেন্স এবং স্ট্রাটেজিক অটোনমি, আমাদের নিজস্ব অটোনমির ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর এই ভিজিট সেটা প্রমাণ করেছে। আমাদের অন্যদেশের সঙ্গে সম্পর্কের যে যে বেঞ্চমার্ক উনি সেটা আবার কনফার্ম করেছেন, যেটা বিএনপির রাজনীতিতে সবসময় ছিল। যেটা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্টাবলিশ করেছিলেন, প্রত্যেকটি দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক হবে এই মানদণ্ডের উপর। তিনি বলেন, আমরা কোথাও কমপ্রমাইজ করবো না ।
সরকারি দলের এই ধন্যবাদ প্রস্তাব সমর্থন জানিয়ে এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা সবাই চাই, আমাদের রিলেশন হবে মিউচুয়াল রেসপেক্ট এবং ইকুইটির ভিত্তিতে। আমি আশা করি তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সেই সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। আমি এও আশা করি যে আমাদের স্বাধীন ফরেন পলিসিতে কেউ হস্তক্ষেপ করুক এটা আমরা কখনো মেনে নেব না। দেশের স্বার্থ আগে। তারপরে অবশ্যই কারো সঙ্গে আমাদের চুক্তি যাই হোক, সেটা হবে মিউচুয়াল ইন্টারেস্টের ভিত্তিতে। আমরা কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাই না। কিন্তু আমরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে চাই না। এই ভারসাম্যটা রক্ষা করেই আগামীর পলিসি যেন পরিচালিত হয়। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু কামনা করেন এবং তার সরকারের সফলতাও কামনা করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এই সংসদ যেন সকল কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়। সংসদকে বাইপাস করে যেন কিছু না হয়, সংসদের ভিতরে এই সংসদ আলো ছড়াক, আগামী দিনের জনগণ সরকারি দল-বিরোধী দল সবার কার্যক্রমকে তাদের একাউন্টে নিয়ে তারাই তাদের সিদ্ধান্ত নেবে, এখানে সরকারি দল সব ক্রেডিট নিবে আর বিরোধী দল সবকিছুতে বিরোধিতা করবে- আমরা ব্যক্তিগতভাবে এবং দলগতভাবে এই কালচার সমর্থন করি না। সরকারি দলকেও বিরোধী দলকে সম্মান করতে হবে, আর বিরোধী দলেরও দায়িত্ব থাকবে দেশ গঠনে তার জায়গা থেকে যথাযথ ভূমিকা রাখা।
