মুক্তদেশ ডেস্ক: বিশ্বকাপ ফুটবল শুরুর আগে মাঠের বাইরের বড় এক কূটনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতান। ৩৪ বছর বয়সী এই রেফারি প্রথম সোমালি হিসেবে বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পেয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে না পারায় তার বিশ্বকাপ স্বপ্ন আপাতত থেমে গেছে।
বিবিসি স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে প্রায় ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখে। পরে তাকে ইস্তাম্বুলগামী একটি ফ্লাইটে ফেরত পাঠানো হয়। গত বুধবার তিনি সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশুতে ফিরে যান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার সময় আরতানের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসী সংগঠনের সন্দেহভাজন সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের’ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে আরতান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, তাকে সোমালিয়ার সশস্ত্র গোষ্ঠী আল-শাবাবের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। আরতান কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, তিনি ওই সংগঠন সম্পর্কে কোনো তথ্য জানেন না।
কূটনৈতিক পাসপোর্ট ও সিঙ্গেল এন্ট্রি মার্কিন ভিসা থাকা সত্ত্বেও তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফিফার অন-ফিল্ড রেফারিদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হওয়ায় কানাডা বা মেক্সিকোতে ম্যাচ পরিচালনার বিকল্পও তার জন্য কার্যকর ছিল না।
ঘটনার পর মোগাদিশুর আদেন আদে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আরতানকে বীরোচিত সংবর্ধনা দেওয়া হয়। দেশটির সরকারি কর্মকর্তা, ফুটবল ফেডারেশনের সদস্য এবং সাধারণ মানুষ তাকে স্বাগত জানান। পরে তিনি সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহাম্মদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের আরতান বলেন, “ফিফা আমাকে যথেষ্ট সমর্থন করেছে এবং মোগাদিশু পৌঁছানো পর্যন্ত আমার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে। আমি বিশ্বাস করি, আগামী ২০৩০ বিশ্বকাপে আমি ম্যাচ পরিচালনা করব। তরুণদের মনোবল হারানোর কিছু নেই।”
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি মনে হলে কাউকেই দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
এর আগে ২০২৫ সালের জুনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমালিয়াসহ ১২টি দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। সেই সিদ্ধান্ত ও সোমালিয়া নিয়ে ট্রাম্পের আগের মন্তব্য নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
