মুক্তদেশ ডেস্ক : দলের জনপ্রিয়তা বাড়ানো এবং সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর বঞ্চিত, কোণঠাসা ও নিষ্ক্রিয় নেতাদের নিজেদের দলে টানতে চায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন দলের অসন্তুষ্ট ও উপেক্ষিত নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করেছে দলটি।
এনসিপির একাধিক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বড় দলগুলোর তৃণমূল থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের অনেক নেতা পদবঞ্চিত, অবমূল্যায়িত কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার বাইরে থাকায় ক্ষোভে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ ইতোমধ্যে এনসিপিতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। আবার দলের পক্ষ থেকেও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সারজিস আলম বলেন,
“অনেক যোগ্য নেতা বিভিন্ন কারণে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্বজনপ্রীতি ও পরিবারতন্ত্রের কারণে তৃণমূলের অনেক নেতা মূল্যায়ন পান না। আমরা সেই যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চাই। এনসিপির দরজা তাঁদের জন্য সব সময় খোলা।”
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের গড়া এনসিপি ইতোমধ্যে জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক হিসেবে অংশ নিয়ে দলটি ছয়টি আসন পেয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময় সৎ ও যোগ্য রাজনীতিবিদদের দলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এনসিপি। বিএনপির সাবেক নেতা ও চারবারের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মনজুর কাদেরের এনসিপিতে যোগদান তারই একটি উদাহরণ।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে দলটির তৎপরতা আরও বেড়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা মনজুর আলমের বাসায় এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর সাক্ষাৎকে এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। ধারণা করা হচ্ছে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীতা নিয়েও আলোচনা হয়ে থাকতে পারে।
তবে ওই সাক্ষাৎ ঘিরে কিছু বিতর্কও তৈরি হয়। মনজুর আলমের বাসায় হাসনাত আবদুল্লাহর উপস্থিতির সময় নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দেওয়া একটি দল সেখানে জড়ো হয়ে আপত্তি জানায়। একই ঘটনায় এনসিপির যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তি অভিযোগ করেছে, যুবদলের কর্মীরা ‘মব’ তৈরি করে হামলা চালিয়েছে।
এ বিষয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মনজুর আলম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে নিজেই যোগাযোগ করেছিলেন এবং পরে তিনি তাঁকে বাসায় আমন্ত্রণ জানান।
মনজুর আলমকে চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থী করা হবে কি না—এ প্রশ্নে সারজিস আলম বলেন,
“প্রথমে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দিতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
এনসিপির নেতারা জানান, শুধু চট্টগ্রাম নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপিসহ অন্যান্য দলের একাধিক নেতার সঙ্গে আলোচনা চলছে। এসব আলোচনা সফল হলে শিগগিরই নতুন মুখদের দলে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
দলের যুগ্ম সদস্যসচিব ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সেলের কো-লিড আলাউদ্দীন মোহাম্মদ বলেন,
“এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সমাজের নানা পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হচ্ছে। অনেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগদানের আগ্রহ দেখাচ্ছেন।”
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এনসিপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী ও জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম বলেন, সামনে আরও কিছু ‘চমক’ আসতে পারে এবং তা শুধু একটি দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
এদিকে এনসিপির সূত্র জানিয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির কিছু নেতাকেও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। তবে এ বিষয়ে সারজিস আলম স্পষ্ট করে বলেন,
“যাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ, মামলা বা বিচারিক প্রক্রিয়া চলছে—তাঁদের জন্য কোনো সুযোগ নেই। তবে যাঁরা অপরাধে জড়িত নন, স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য এবং সম্মানজনক অবস্থানে আছেন—তাঁদের ক্ষেত্রে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।”
