মুক্তদেশ ডেস্ক:ইরান ঘোষণা দিয়েছে যে, ইরাকের জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে চলাচল করতে পারবে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা শিথিল করার সর্বশেষ ইঙ্গিত এটি।
ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরাক এই প্রণালিতে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি পাবে। তবে “শত্রু দেশগুলোর” ওপর নিয়ন্ত্রণ বহাল থাকবে।
তাসনিম সংবাদ সংস্থায় প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা ইরাকের জাতীয় সার্বভৌমত্বকে গভীরভাবে সম্মান করি। আপনারা এমন একটি জাতি, যারা আমেরিকান দখলদারিত্বের ক্ষত বহন করছেন, এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আপনাদের সংগ্রাম প্রশংসার যোগ্য।”
ইরানের এই ঘোষণা আসে এমন সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও তেহরানকে চুক্তিতে আসা অথবা জলপথের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, তা না হলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে “ভয়াবহ পরিণতি” হবে।
ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তর ট্রাম্পের এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে একে “অসহায়, উদ্বিগ্ন, ভারসাম্যহীন এবং বোকামিপূর্ণ পদক্ষেপ” বলে মন্তব্য করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করেছে। এই প্রণালি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।
তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের আরোপিত এক ধরনের ‘টোল ব্যবস্থা’র অধীনে কিছু জাহাজ চলাচল শুরু করায় ট্রানজিটের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। তারপরও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এটি এখনো ৯০ শতাংশেরও বেশি কম।
লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে এই প্রণালি দিয়ে ৫৩টি জাহাজ চলাচল করেছে—যা যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ। আগের সপ্তাহে এ সংখ্যা ছিল ৩৬।
শুক্রবার একটি ফরাসি কনটেইনার জাহাজ এবং একটি জাপানি মালিকানাধীন তেলবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে—যা যুদ্ধ শুরুর পর ওই দেশগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রথম চলাচল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই জলপথে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে এবং অনেক দেশ জরুরি জ্বালানি সাশ্রয় পরিকল্পনা চালু করতে বাধ্য হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম সাম্প্রতিক দিনে ব্যারেলপ্রতি ১০৯ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রণালিটি দ্রুত খুলে না দিলে দাম আরও বাড়তে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ইরাক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি। দেশটির অর্থনীতির প্রধান উৎস তেল উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে গেছে।
ইরাকের তেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উৎপাদন কমে দৈনিক ১.২ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে এসেছে, যা আগে ছিল ৪.৩ মিলিয়ন ব্যারেল। প্রণালির মাধ্যমে রপ্তানি কার্যত বন্ধ থাকায় এই পতন ঘটেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ইরাক ছিল বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম তেল উৎপাদক দেশ, যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ জোগান দিত।
