মু্ক্তদেশ ডেস্ক: ২০২৬ সালের শুরুতে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত মারাত্মক রূপ নিলেও, ইসরায়েল মূলত কৌশলগত, অর্থনৈতিক এবং সামরিক সীমাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘস্থায়ী পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ থেকে দূরে থাকতে চেয়েছে। ইরানের বিশাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার (৩,০০০-এর বেশি), সরাসরি হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও সরবরাহ চেইনে হুমকির ঝুঁকি, এবং দীর্ঘ যুদ্ধের সক্ষমতার ঘাটতিই এর মূল কারণ। তবে আদতে ইরানে নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি দায়িত্ব নেওয়ার পর হামলার গতি বাড়িয়েছে তেহরান। আগের চেয়ে ভয়ঙ্কর ও বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। গণহত্যাকারী ইসরায়েলে দফায় দফায় প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে যুদ্ধ থেকে ‘পালানোর রাস্তা খুঁজতে’ শুরু করেছে তেল আবিব।ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার আজ মঙ্গলবার (১০মার্চ) বলেছেন, ইরানের সঙ্গে ‘অনন্তকাল যুদ্ধ’ চায় না তেল আবিব। তিনি বলেন, ইসরায়েল ইরানের সঙ্গে কোনো ‘অনন্তকালব্যাপী যুদ্ধ’ করতে চাইছে না। তিনি আরও বলেন, এই সংঘাত কখন শেষ করা হবে সে বিষয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করবে। জেরুজালেমে সাংবাদিকদের গিডিয়ন বলেন, ‘যখন আমরা মনে করব এটি (যুদ্ধ বন্ধ করার) সঠিক সময়, তখন আমরা আমাদের আমেরিকান বন্ধুদের সঙ্গে এ বিষয়ে পরামর্শ করব।’সর্বশেষ দফার হামলায় হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ছাড়াও তিন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রসহ ছুড়েছে ইরান। ৩৪তম দফায় চালানো এই হামলায় তেহরানের নিশানা ছিল ইসরায়েল এবং মধ্যপ্র্যাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বিবৃতির বরাত দিয়ে দেশটির আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি এ কথা জানিয়েছে। এতে বলা হয়, আইআরজিসি মার্কিন এবং ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে ৩৪তম দফায় হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় তিন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র এবং হাইপারসনিক (শব্দের গতির চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি গতিতে ছুটতে পারে) ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
