বিনোদন ডেস্ক: পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত না মেনে ভূতাপেক্ষ বা ব্যাকডেটেড দেখিয়ে বিতর্কিতদের পদোন্নতি দিতে গতকাল বুধবার এফডিসিতে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিকে পরিচালনা পর্ষদের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যোগ্যদের মূল্যায়ন করার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের অনুসারী কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে এফডিসিতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
জানা গেছে, বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে লিখিত আবেদনের তোয়াক্কা না করেই কয়েকজন কর্মকর্তার প্রকৃত তথ্য গোপন করে ভূতাপেক্ষ বা ব্যাকডেটেড দেখিয়ে পূর্বে যে প্রমোশন দেওয়া হয়েছিল, তা পাস করার জন্য গতকাল বুধবার জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর এফডিসিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এমন অবস্থায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। বৈঠকের মাধ্যমে এফডিসি কর্তৃপক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবেগ নিয়ে খেলছেন বলে জানান সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জিএম সাঈদ।
জিএম সাঈদ বলেন, যে মুহূর্তে অবৈধ পদোন্নতি প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছিলাম, সেই সময়ে ফ্যাসিবাদের দালালদের অবৈধ প্রক্রিয়ায় পদোন্নতি প্রদানের জন্য এফডিসি কর্তৃপক্ষ জরুরি মিটিং করে আমাদের সঙ্গে তামাশা করেছে। গুটি কয়েক কর্মকর্তাকে পদোন্নতি প্রদানের এই বৈঠক এফডিসির সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, যোগ্যদের পদোন্নতি বঞ্চিত রেখে নিয়ম বহির্ভূতভাবে পদোন্নতি প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে আমরা বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছিলাম। কিন্তু তিনি আমাদের অভিযোগ আমলে না নিয়ে পদোন্নতি প্রক্রিয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে ১৯৫৭ সালের প্রবিধানমালা দ্বারা পরিচালিত হওয়ায় একটি গ্রেডেশন তালিকা আইনসম্মত। কিন্তু আইনকে বৃদ্ধাঙুলি দেখিয়ে গত ২২ জুন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের স্বাক্ষরে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তাদের নিয়ে গ্রেডেশন তালিকা তৈরি করা হয়। এতে পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত না মেনে ৯৫ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীর গ্রেডেশন তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় পুনরায় কমিটি গঠন করে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের অনুরোধ জানান কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
