মুক্তদেশ ডেস্ক: জাপানের জাতীয় পতাকা অবমাননার জন্য শাস্তির বিধান চালু করে প্রণীত একটি আইন আজ বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির দীর্ঘদিনের একটি আইন প্রণয়নের লক্ষ্য পূরণ হলো। তবে আইনটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
আইন অনুযায়ী, কেউ প্রকাশ্যে জাপানের জাতীয় পতাকা—যা “হিনোমারু” নামে পরিচিত—এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, সরিয়ে ফেলা বা অবমাননা করলে, যাতে অন্যদের মধ্যে “তীব্র অস্বস্তি বা ঘৃণার অনুভূতি” সৃষ্টি হয়, তাহলে তার সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ২ লাখ ইয়েন (প্রায় ১,৩০০ মার্কিন ডলার) জরিমানা হতে পারে।
জাতীয় পতাকা অবমাননার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো আইন না থাকাকে একটি অসঙ্গতি হিসেবে চিহ্নিত করার পর এই আইনটি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কারণ, জাপানের ফৌজদারি আইনে বিদেশি রাষ্ট্রের পতাকা ক্ষতিগ্রস্ত করার শাস্তির বিধান থাকলেও নিজ দেশের জাতীয় পতাকা অবমাননার ক্ষেত্রে একই ধরনের বিধান ছিল না।
ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং তাদের জোটসঙ্গী জাপান ইনোভেশন পার্টি কয়েকটি বিরোধী দলের সমর্থন নিয়ে বিলটি সংসদে উত্থাপন করে। এর উদ্দেশ্য ছিল, “জাতীয় পতাকাকে সম্মানের সঙ্গে দেখা উচিত—এমন জনমতকে সুরক্ষা দেওয়া।”
তবে সাংবিধানিক অধিকার এবং আইনটির সম্ভাব্য ব্যাপক প্রয়োগ নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি ও বিতর্কের পর জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে বিলটি আইনে পরিণত হয়।
আইনটি প্রয়োগের ক্ষেত্রে ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সি প্রিফেকচারভিত্তিক পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে, কোনো কাজ আইন লঙ্ঘন করেছে কি না তা নির্ধারণে সতর্কতার সঙ্গে সাংগঠনিকভাবে মূল্যায়ন করতে। পাশাপাশি কাউকে গ্রেপ্তারের ভিত্তি ও প্রয়োজনীয়তাও গভীরভাবে যাচাই করতে বলা হয়েছে।
আইনে বলা হয়েছে, কোনো নির্দিষ্ট কাজের জন্য শাস্তি দেওয়া হবে কি না, তা প্রতিটি ঘটনার পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হবে। আইনের একটি সম্পূরক ধারায় বলা হয়েছে, এটি কার্যকর হওয়ার প্রায় তিন বছর পর পর্যালোচনা করা হবে এবং প্রয়োজন হলে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেউ নিজের মালিকানাধীন জাপানের জাতীয় পতাকা ক্ষতিগ্রস্ত করলেও এই আইনের আওতায় শাস্তি পেতে পারেন।
তবে জনসমক্ষে নয়—এমন স্থানে ধারণ করা লাইভ-অ্যাকশন চলচ্চিত্রে পতাকা অবমাননার দৃশ্য, পাশাপাশি অ্যানিমে, মাঙ্গা, ভিডিও গেম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভিডিওতে জাতীয় পতাকা অবমাননার দৃশ্য এই আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য হবে না।
জাতীয় পতাকা ক্ষতিগ্রস্ত করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিল নিয়ে আলোচনার সময় আরও বলা হয়, শিশুদের খাবারের সঙ্গে দেওয়া ছোট কাগজের পতাকাকে সামাজিকভাবে স্বীকৃত মানদণ্ড অনুযায়ী জাতীয় প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। ফলে সেগুলোর ক্ষেত্রে এই আইন প্রযোজ্য হবে না।
গত ৪ আগস্ট প্রায় ২০০ জন সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞের সমর্থনে একটি যৌথ বিবৃতিতে আইনটি বাতিলের দাবি জানানো হয়। তাঁদের বক্তব্য, এই আইন সরকারের সমালোচনামূলক মতামত প্রকাশকে দমন করতে পারে। একই সঙ্গে জাপানে জাতীয় পতাকা অবমাননার ঘটনা খুবই কম হওয়ায় এ ধরনের আইনের প্রয়োজনীয়তাও খুব সীমিত বলে তাঁরা মনে করেন।
তবে জনমত থেকে মনে হচ্ছে, সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ আইনটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। কিয়োদো নিউজের জুলাইয়ের শেষ দিকে পরিচালিত এক জনমত জরিপে ৫৫ দশমিক ৮ শতাংশ উত্তরদাতা আইনটির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। বিপরীতে ৩৮ দশমিক ৯ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন।
