সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার এরান্দহ গ্রামে স্ত্রী রোজিনা খাতুনকে গলা কেটে হত্যার পর স্বামী মোতালেব হোসেন নিজের গলা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। আজ বৃহস্পতিবার ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে।
আহত মোতালেব হোসেনকে প্রথমে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
নিহত রোজিনা খাতুন (২৪) এরান্দহ গ্রামের আব্দুল আজিজের মেয়ে। তিন বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের ভিত্তিতে তিনি মোতালেব হোসেনকে (২৮) বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে মোতালেব শ্বশুরবাড়িতেই বসবাস করতেন, কারণ তার পরিবার এই বিয়ে মেনে নেয়নি।
রোজিনার চাচাতো ভাই জাহিদ হাসান জানান, ছয় দিন আগে মোতালেব ফেনী থেকে রাজমিস্ত্রির কাজ শেষে বাড়ি ফেরেন। এরপর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ দেখা দেয়। ঘটনার রাতে কথা কাটাকাটির পর তারা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আড়াইটার দিকে পাশের ঘর থেকে শিশু বায়জিদের কান্নাকাটি শুনে জানালা দিয়ে তাকিয়ে রোজিনার রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। পাশে মোতালেব আহত অবস্থায় কাতরাচ্ছিলেন।
চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ঘরের দরজা খুলে রোজিনার গলাকাটা মরদেহ ও মোতালেবকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর হত্যার প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
