মহসীন কবির: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামী জাতীয় নির্বাচনের সময় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে পঞ্চাশের বেশি দল আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছিল। আমরা যৌক্তিকভাবে ডিসেম্বরের ভেতরেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আমাদের বক্তব্য যুক্তি সহকারে উপস্থাপন করেছি। কিন্তু সেই বিষয়টি আমলে না নিয়ে এমন সময়ে নির্বাচনের সময় ঘোষণা করেছেন, যে সময়ে পাবলিক পরীক্ষা থাকে, আবহাওয়া ঠিক থাকে না। এছাড়াও আমাদের জানামতে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে রোজা শুরু হবে।’
ডিসেম্বর বা জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করলে গ্রহণযোগ্য হতে পারতো উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘খুব বেশি দেরি করতে চাইলে ডিসেম্বর বা জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন হলেও সেটি মেনে নেওয়ার মতো বিষয় হতো। এ বিষয়ে দলের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনার পর বিএনপির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।’
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূসের জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ শুক্রবারএক বিবৃতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘অন্তর্বতীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মাদ ইউনূস আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণে বলেছেন, ‘‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধের যে কোনো একটি দিনে অনুষ্ঠিত হবে।’’ তার এই ঘোষণায় জাতি আশ্বস্ত হয়েছে এবং ঘোষিত সময়ের মধ্যেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জাতি আশা প্রকাশ করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাতির তীব্র আকাঙ্ক্ষা সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন এই ৩টি বিষয়ের ভিত্তিতে এবং ‘‘জুলাই সনদ’’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশকে একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবেন।’
আগামী বছরের এপ্রিলের প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের এমন ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘোষিত সময়ের মধ্যে যদি ‘জুলাই সনদ’, ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ ও গৃহীত সংস্কার বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তাহলে ওই সময়ে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই।
এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেছেন, “আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম, ‘জুলাই সনদ’ ও ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’-এর আনুষ্ঠানিকতা শেষে নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য আসবে। তারপরও যদি ঘোষিত সময়সীমার মধ্যেই এসব বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তাহলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।”
জাতির উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টা যে ভাষণ দিয়েছেন সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।
দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহম্মদ ইউনুস আজ জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে বিচার, সংস্কার, নির্বাচন এবং সরকারের গৃহীত কার্যক্রম নিয়ে যে বক্তব্য রেখেছেন তা আমরা গভীর আগ্রহ নিয়ে অবলোকন করেছি। বেশ কিছুদিন ধরে আমরা সরকারের কাছে এসকল বিষয়ে সুস্পষ্ট রূপরেখা প্রদানের আহ্বান জানিয়ে আসছিলাম। আজ তাঁর প্রতিফলন ঘটায় প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ ও স্বাগত জানাচ্ছি।
তিনি এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনের যে ঘোষণা দিয়েছেন তা আমাদের পূর্ববর্তী প্রস্তাব ও এ সংক্রান্ত পর্যালোচনার সাথে না মিললেও আমরা তাঁর উপর আস্থা রাখতে চাই। আবহাওয়া জনিত কারণে এপ্রিল মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠানে কিছু সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে অনেকের আশঙ্কা। তবে প্রধান উপদেষ্টা যেহেতু সামগ্রিক প্রস্তুতির বিষয়ে আলোকপাত করেছেন এবং প্রাসঙ্গিকভাবে সময়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন তাতে আমরা উনার সরকারের প্রতি সহযোগিতামূলক মনোভাব বজায় রাখতে চাই। আমরা আশাকরি আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে সুষ্ঠু নির্বাচন উপযোগী করা ও নির্বাচন কমিশনকে জনগণের আস্থা অর্জনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁর সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষিত নির্বাচনের সময়সূচির প্রতি সমর্থন জানালো ইউরোপীয় ইউনিয়ন। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের পরপরই ঢাকায় ইইউর ফেসবুক পেজে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের জন্য একটি সময়সূচি ঘোষণা করেছেন।
এদিকে ইইউ বাংলাদেশের রাজনৈতিক উত্তরণকে ধারাবাহিকভাবে সমর্থন করে আসছে। আইনের শাসন, মৌলিক অধিকার এবং গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে এটিকে প্রতিষ্ঠিত করার আহ্বান জানিয়েছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।’
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ইইউ প্রতিনিধিদল সকল অংশীদারদের এই প্রক্রিয়ায় গঠনমূলকভাবে জড়িত হওয়ার এবং একটি উচ্চাভিলাষী সংস্কার এজেন্ডাকে সংজ্ঞায়িত করার জন্য কাজ এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, যা আরো স্থিতিশীল, আরো সমৃদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথ রচনা করবে।
