পরিবারের সবার আশা ছিল শিহাব বড় হয়ে সেনাবাহিনীতে চাকরি করবে। দেশকে ভালোবাসবে, দেশের জন্য কাজ করবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহীদ হন শিহাব আহমেদ।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পদত্যাগের চলমান একদফা কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিল শিহাব। সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সামনে পুলিশের গুলিতে থেমে যায় তার পথচলা। একই সাথে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় পরিবারের স্বপ্ন।
শহীদ মো. শিহাব আহমেদ ২০০৫ সালের ১৪ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা শফিউদ্দিন (৪৫), মালয়েশিয়া প্রবাসী। মা মোছাম্মৎ শাহনাজ খাতুন (৪৫), গৃহিণী।
শিহাব সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের বাণিজ্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং স্থানীয় একটি ব্লাড ব্যাংকের অন্যতম সদস্য ছিলেন।
শিহাব ছিলেন আদর্শবান, মানবিক গুণে গুণান্বিত ও দায়িত্বশীল। ক্রীড়ামোদী, স্নেহপরায়ণ, পরোপকারী ও দেশপ্রেমের মহান আদর্শে উজ্জীবিত এক সাহসী তরুণ। শুধু নিজের বা পরিবারের নয়, সমাজ ও দেশের জন্যও ভাবতেন, কাজ করতেন তিনি।
শহীদের মা বলেন, ‘আমার তিন ছেলে। শিহাব ছিল সবার বড়। ওর স্বপ্ন ছিল সেনাবাহিনীতে চাকরি করে দেশের জন্য কাজ করার। কিন্তু সব আশা শেষ হয়ে গেল। ওর বাবা মালয়েশিয়ায় থাকে। আমি ছেলেদের নিয়ে বাড়িতে থাকি। লেখাপড়ার জন্য ওর বাবা কত কষ্ট করছে! তার ইচ্ছা ছিল ছেলেদের মানুষ বানাবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।
শিহাব শহীদ হলো, আর ওর বাবা শেষবারের মতো ছেলের মুখটাও দেখতে পেল না। সে দেশে ফিরে এলে আমি কী জবাব দেব?’
শহীদ শিহাব আহমেদের মা শাহনাজ পারভীন সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর উপজেলার মাধবপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে বাসস প্রতিবেদককে এসব কথা বলেন। বাসস
