মুক্তদেশ ডেস্ক: ২০২৬ সালের ১৭ অক্টোবর প্যারিসের প্রজাতন্ত্র চত্বরের বিশাল ভাস্কর্যের গায়ে জড়ানো হলো হলুদ জ্যাকেট। নিচে বিক্ষোভকারীদের ভিড়। রয়টার্সের ভিডিওতে ধরা পড়েছে দৃশ্যটি। সাধারণ একটি নিরাপত্তা পোশাক তখন প্রতিবাদের প্রতীক। কিন্তু একটি জ্যাকেট কীভাবে আন্দোলনের পরিচয় হয়ে উঠল?
গত শনিবার প্যারিসসহ ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে আবার বড় শিক্ষার্থী ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগে বিক্ষোভ হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুঁড়েছে। ১ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে। বিক্ষোভে ছিল ইয়েলো ভেস্টের সমন্বয়কারীদের একটি অংশ।
এর আগে ১৭ অক্টোবর শনিবার প্যারিসসহ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এর পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে গত শনিবার সতর্ক অবস্থানে ছিল প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সরকার। তারপরও বিক্ষোভ ঠেকাতে পারেনি।
কয়েক দিন ধরে প্যারিসের কিছু এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে রাতে কারফিউ চলছে। লিওঁর কেন্দ্রস্থলে শনিবার বিক্ষোভ নিষিদ্ধ ছিল। মার্সেইয়েও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, তবে পরে একটি শ্রমিক সংগঠনের মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই পটভূমিতে ইয়েলো ভেস্টকে বুঝতে হলে ফিরতে হবে ২০১৮ সালে।
ইয়েলো ভেস্ট আসলে কী
ইয়েলো ভেস্ট ফ্রান্সের একটি বিকেন্দ্রীভূত নাগরিক আন্দোলন। সহজ করে বললে, নানা এলাকার মানুষ নিজেদের উদ্যোগে যে প্রতিবাদ গড়ে তুলেছেন, এটি তার সম্মিলিত রূপ। কোনো শ্রমিক ইউনিয়ন, শিক্ষার্থী সংগঠন বা রাজনৈতিক দলের শাখা নয় এটি। স্থানীয় দলগুলো নিজেদের মতো আলোচনা ও কর্মসূচি চালায়। সর্বজনস্বীকৃত একক প্রধান নেই।
ফরাসি নাম ‘জিলে জোন’, ইংরেজিতে ‘ইয়েলো ভেস্টস’। অর্থ হলুদ জ্যাকেট। গাড়িচালকেরা নিরাপত্তার জন্য এই পোশাক ব্যবহার করেন। সেখান থেকেই আন্দোলনের নাম।
