মুক্তদেশ ডেস্ক: আপনি গাছকে যতই ভালোবাসুন না কেন, অনেক সময় তার পাতার ডগা শুকিয়ে খসখসে ও বাদামি হয়ে যায়। এতে গাছের মৃত্যু না হলেও দেখতে মোটেও ভালো লাগে না।
সহজ সমাধান
সমাধানটি খুবই সহজ—পাতার শুকনো ও বাদামি হয়ে যাওয়া অংশ কেটে ফেলুন। এতে গাছকে সঙ্গে সঙ্গেই দেখতে আরও সুন্দর লাগবে।
এর পেছনের যুক্তি হলো, পাতার ওই অংশের টিস্যু ইতিমধ্যেই মরে গেছে। তাই সেটি কেটে ফেললে গাছের কোনো ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। তবে অনেকের আশঙ্কা, এভাবে কাটলে গাছের ক্ষতি হতে পারে কিংবা পাতার বাদামি হয়ে যাওয়ার প্রবণতা আরও বেড়ে যেতে পারে।
যেভাবে করবেন
পরিষ্কার ও ধারালো কাঁচি ব্যবহার করুন। পাতা যে স্বাভাবিক আকৃতিতে রয়েছে, সেই আকৃতি অনুসরণ করে শুকনো অংশটি ছেঁটে ফেলুন।
তবে পাতার বাদামি প্রান্তের সামান্য অংশ রেখে দিন। এতে পাতার সুস্থ সবুজ অংশ কেটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে না।
কারণ, সবুজ অংশ কেটে ফেললে সেখানে নতুন ক্ষত তৈরি হবে। গাছকে সেই ক্ষত সারিয়ে তুলতে হবে। আর এই প্রক্রিয়ায় কাটা অংশটি আবার বাদামি হয়ে যেতে পারে।
ছবির বর্ণনা: নীল টবে লাগানো বিচিত্র রঙের পাতাযুক্ত একটি গাছে ঝরনা দিয়ে পানি দেওয়া হচ্ছে।
পরীক্ষা
আমি একটি ফিলোডেনড্রন গাছের পাতার বাদামি ডগাগুলো ছেঁটে দিয়েছিলাম। পাতার স্বাভাবিক আকৃতি অনুসরণ করে কাটার পর সেগুলো সঙ্গে সঙ্গেই দেখতে আরও পরিপাটি হয়ে ওঠে। সময়ের সঙ্গে দেখা গেল, কাটা অংশের পাশ দিয়ে নতুন করে বাদামি রং ছড়িয়ে পড়েনি।
তবে কয়েক বছর আগে একবার এমন চেষ্টা করতে গিয়ে আমি পাতার সবুজ অংশও কেটে ফেলেছিলাম। কয়েক দিনের মধ্যেই সেখানে নতুন করে বাদামি প্রান্ত তৈরি হতে দেখেছিলাম।
আরও পড়ুন: ঘরের গাছের যত্ন—শীতকালে কি গাছে কম পানি দেওয়া উচিত?
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
পাতার শুকনো ও খসখসে ডগা কেটে ফেললে গাছের ক্ষতি হয় না, যদি শুধু মরে যাওয়া অংশটুকুই ছাঁটা হয়।
তবে পাতার ডগা বাদামি হয়ে যাওয়া আরও বড় কোনো সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। সাধারণত এর কারণ হলো—
- অনিয়মিতভাবে পানি দেওয়া।
- বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কম থাকা।
- কলের পানিতে থাকা খনিজ পদার্থ মাটিতে জমে যাওয়া।
- অতিরিক্ত সার ব্যবহার করা।
যদি বারবার পাতার ডগা বাদামি হয়ে যায়, তাহলে শুধু কাঁচি দিয়ে ছেঁটে ফেললেই সমস্যার সমাধান হবে না। বরং গাছের যত্ন নেওয়ার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। অর্থাৎ, আসল সমাধান কাঁচির মধ্যে নয়, বরং গাছের সঠিক পরিচর্যার মধ্যে রয়েছে।
