মুক্তদেশ ডেস্ক: ইসরায়েল পশ্চিম তীরের বসতিগুলোর ওপর এড মিলিব্যান্ডের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দিয়েছে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সা’আর নিশ্চিত করেছেন, বৃহস্পতিবার সকালে কনস্যুলেট বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে এবং কার্যালয়টির সাইনবোর্ডও সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
তবে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রসচিব এড মিলিব্যান্ড বলেছেন, ভবনটি খোলা থাকবে এবং নতুন নাম ‘ইউকে মিশন, জেরুজালেম’ হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য সাময়িকভাবে ওই কার্যালয় থেকে ‘কয়েকজন কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের’ সরিয়ে নিয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
গত মাসে ব্রিটিশ সরকার অধিকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে আমদানি নিষিদ্ধ করে একগুচ্ছ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করার পর ইসরায়েল জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের সিদ্ধান্ত জানায়।
সে সময় মিলিব্যান্ড ‘সন্ত্রাসী’ বসতিস্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে ‘জাতিগত নিধন’ চালানোর অভিযোগ করেন। কিয়ার স্টারমারের সরকারের প্রচলিত নীতির তুলনায় এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।
ইসরায়েল ওই অভিযোগকে ‘ভয়াবহ মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করে এবং এর প্রতিক্রিয়ায় কনস্যুলেট বন্ধের ঘোষণা দেয়। ‘পাল্টা ব্যবস্থা’ হিসেবে ব্রিটিশ এমপি জেরেমি করবিনসহ ১১ জন ব্রিটিশ সংসদ সদস্যের ইসরায়েলে প্রবেশও নিষিদ্ধ করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে দেওয়া এক বিবৃতিতে সা’আর নিশ্চিত করেন, কনস্যুলেট বন্ধসহ পাল্টা ব্যবস্থাগুলো কার্যকর হয়েছে।
লেবার সরকারের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সহযোগিতা থাকা সত্ত্বেও ব্রিটিশ মন্ত্রীদের সঙ্গে কোনো প্রকৃত সংলাপ হয়নি।
মিলিব্যান্ডের বক্তব্যেরও পুনরায় সমালোচনা করেন তিনি। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনার জন্য মিলিব্যান্ডকে অভিযুক্ত করে সা’আর বলেন, ভবিষ্যতে আরও সংকট সৃষ্টি হবে না—এমন নিশ্চয়তা তিনি দিতে পারেন না।
মিলিব্যান্ড: কনস্যুলেট বন্ধ করার অধিকার ইসরায়েলের নেই
নিজের বিবৃতিতে মিলিব্যান্ড বলেন, কনস্যুলেট বন্ধ করার ইসরায়েলি সরকারের আইনগত অধিকারকে যুক্তরাজ্য স্বীকার করে না। তিনি জানান, ভবনটি খোলা থাকবে।
তিনি বলেন, “আমরা স্পষ্ট করে জানিয়েছি যে, প্রায় ২০০ বছর ধরে জেরুজালেমে থাকা ব্রিটিশ কনস্যুলেট জেনারেল বন্ধ করার আইনগত অধিকার ইসরায়েল সরকারের রয়েছে—এটি আমরা মেনে নিই না।”
“যুক্তরাজ্য সরকার দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছে যে পূর্ব জেরুজালেম একটি অধিকৃত ভূখণ্ড।
“ইসরায়েল সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর আমাদের কনস্যুলেট জেনারেল ভবনটি বন্ধ হচ্ছে না। আজ থেকে এর নাম হবে ‘ইউকে মিশন, জেরুজালেম’। ইউকে মিশন, জেরুজালেম স্বাধীনভাবে ও কার্যকরভাবে কাজ করবে এবং গুরুত্বপূর্ণ সেবা ও ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
“এর মাধ্যমে আমরা জেরুজালেমে দীর্ঘদিনের ব্রিটিশ উপস্থিতি এবং ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে যুক্তরাজ্যের ভূমিকা বজায় রাখতে পারব।
“একটি সমঝোতা ছাড়া আমাদের কর্মী ও কার্যালয়ের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা পাওয়া সম্ভব হতো না। সে কারণে যুক্তরাজ্য সাময়িকভাবে কয়েকজন কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার স্বার্থে সরিয়ে নিয়েছে।
“আগামী কয়েক মাসে আমরা আমাদের উপস্থিতি পুনরায় বাড়ানোর জন্য কাজ করব। এ বিষয়ে আলোচনা চলাকালে এবং তা বিশ্বাসযোগ্যভাবে অব্যাহত থাকা অবস্থায় আমরা কোনো পাল্টা ব্যবস্থা নেব না।
“ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সমর্থনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে ৮ সেপ্টেম্বর আমরা যে পদক্ষেপ নিয়েছিলাম, যুক্তরাজ্য তার প্রতি দৃঢ়ভাবে অটল থাকবে।”
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: এটি মূলত নাম পরিবর্তন
বৃহস্পতিবার সকালে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের মন্ত্রী স্টিফেন ডাউটি কনস্যুলেট বন্ধের বিষয়টিকে ‘নাম পরিবর্তন’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন।
কী পরিবর্তন হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এলবিসিকে বলেন, “আপনারা হয়তো নাম পরিবর্তন দেখতে পারেন, হয়তো নামফলক পরিবর্তন হতে পারে; কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমাদের কার্যালয় খোলা থাকছে।”
তিনি আরও বলেন, “এটির নাম হবে ‘ইউকে মিশন ইন জেরুজালেম’। কিন্তু আমরা আমাদের উপস্থিতি বজায় রাখছি, ভবনটি আমাদেরই থাকছে, আমাদের লোকজনও থাকছেন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আমরা যে কাজ করছি, তা চালিয়ে যেতে পারব।”
ডাউটি স্বীকার করেন যে বর্তমান ইসরায়েলি সরকারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ‘বড় ধরনের মতপার্থক্য’ রয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাজ্য ইসরায়েলের জনগণের সঙ্গে কিংবা ‘ইসরায়েল রাষ্ট্রের সঙ্গে’ সম্পর্ক ছিন্ন করেনি।
