মুক্তদেশ ডেস্ক: বিদায়টা এর চেয়ে সুন্দর আর কী হতে পারত! যে জার্সি গায়ে দুই দশকের বেশি সময় ধরে আর্জেন্টিনাকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন, সেই জার্সিতে শেষবার মাঠে নেমে গোল ও অ্যাসিস্ট করলেন লিওনেল মেসি। তাঁর বিদায়ী ম্যাচে বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। নিকোলাস ওতামেন্দি ও নিকো পাজের পর পেনাল্টি থেকে গোল করে নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রাখলেন মেসি। পাশাপাশি প্রথম দুই গোলেও ছিল তাঁর অবদান।
বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে ম্যাচটি অবশ্য শুরু থেকেই ছিল মেসিময়। ৮৫ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে জাতীয় সংগীতের সময় চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তাঁর তিন সন্তানও ছিলেন মাঠে। ম্যাচের ১০ মিনিটে বিশেষ শ্রদ্ধা জানাতে খেলা থামিয়ে দেওয়া হয়। পুরো স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে মেসিকে অভিবাদন জানায়, আকাশে আতশবাজির ঝলকানি আর গ্যালারিজুড়ে ‘মেসি, মেসি’ ধ্বনিতে তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ।
প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পায়নি আর্জেন্টিনা। মেসিও চেষ্টা করেছেন বিদায়ী ম্যাচে গোলের খাতা খুলতে। তবে বেনিনের গোলরক্ষক মার্সেল দানদিনুয়ুর বাধায় প্রথম ৪৫ মিনিট শেষ হয় গোলশূন্য অবস্থায়।
বিরতির পর অবশ্য আর অপেক্ষা করতে হয়নি আর্জেন্টিনাকে। ৪৮তম মিনিটে মেসির কর্নার থেকে উড়ে আসা বল দুর্দান্ত ভলিতে জালে পাঠান ওতামেন্দি। গোল করে মেসির সঙ্গে আবেগঘন আলিঙ্গনেও মাতেন বিদায়ী এই ডিফেন্ডার।
এরপর ৬১তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নিকো পাজ। মেসির সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে তাঁর নিখুঁত শটে বেনিনের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায় ২-০ ব্যবধানে।
আর ৭১তম মিনিটে আসে সেই মুহূর্ত, যার অপেক্ষায় ছিল পুরো মনুমেন্টাল। বেনিনের ডিফেন্ডারের হাতে বল লাগায় পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পটকিক নিতে এগিয়ে আসেন মেসি। শান্ত মাথায় বল জালে পাঠিয়ে নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোলের খাতা খোলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। আর মেসি তাঁর ২১ বছরের আন্তর্জাতিক অধ্যায় শেষ করলেন গোল, দুটি অ্যাসিস্ট এবং এক আবেগঘন বিদায়ের মধ্য দিয়ে। সেই সঙ্গে ১২৬ গোল ও ৭০ অ্যাসিস্টসহ আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতা হিসেবে বিদায় নিলেন মেসি।
বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা—আর্জেন্টিনার হয়ে সম্ভাব্য প্রায় সব বড় মঞ্চেই সাফল্যের স্বাদ পাওয়া মেসির জাতীয় দলের অধ্যায়ের শেষ পাতাটিও তাই লেখা হলো জয় দিয়েই। মাঠ ছাড়ার সময় তাঁর চোখে ছিল অশ্রু, গ্যালারিতে ছিল দাঁড়িয়ে অভিবাদন আর ফুটবল বিশ্বজুড়ে একটাই বার্তা: গ্রাসিয়াস, লিও।
