মুক্তদেশ ডেস্ক: আপনার বিড়াল যদি আগের চেয়ে বেশি চুলকায়, লোম পড়ে যায়, অথবা ত্বকে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে এর পেছনে অ্যালার্জি থাকতে পারে। মানুষের মতো বিড়ালও তাদের প্রতিদিনের পরিবেশে থাকা বিভিন্ন উপাদানের কারণে অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে। সাধারণ অ্যালার্জেনগুলো সম্পর্কে জানা থাকলে আপনি আপনার বিড়ালের আরও ভালো যত্ন নিতে পারবেন এবং কখন পশুচিকিৎসকের কাছে যাওয়া দরকার তা বুঝতে পারবেন।
পরিবেশগত অ্যালার্জেন
বিড়ালের একটি সাধারণ অ্যালার্জিজনিত ত্বকের সমস্যা হলো Feline Atopic Skin Syndrome (FASS)। এটি বিড়ালের আশপাশের পরিবেশে থাকা অ্যালার্জেনের কারণে হতে পারে।
সাধারণ পরিবেশগত অ্যালার্জেনের মধ্যে রয়েছে:
- ডাস্ট মাইট (Dust mites) — খুব ছোট জীব, যারা বিছানা, কার্পেট ও আসবাবপত্রে থাকতে পারে।
- ছত্রাকের স্পোর (Mold spores) — বাড়ির স্যাঁতসেঁতে জায়গায় বেশি পাওয়া যায়।
- পরাগরেণু (Pollen) — গাছ, ঘাস ও আগাছা থেকে আসা পরাগরেণু বাতাসের মাধ্যমে ঘরের ভেতরেও ঢুকতে পারে।
- অন্যান্য প্রাণীর ড্যান্ডার (Dander) — হ্যাঁ, বিড়াল অন্য পোষা প্রাণীর ড্যান্ডারেও অ্যালার্জিক হতে পারে!
ফ্লি বা পিসুর অ্যালার্জি
Flea allergy dermatitis বিড়ালের সবচেয়ে সাধারণ অ্যালার্জিজনিত ত্বকের সমস্যাগুলোর একটি। সংবেদনশীল কোনো বিড়ালের ক্ষেত্রে একটি মাত্র পিসুর কামড়ও তীব্র অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
নিয়মিত পিসু প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা আপনার বিড়ালের আরাম ও সুস্থতার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি।
খাবারের অ্যালার্জি
কিছু বিড়ালের খাবারের নির্দিষ্ট উপাদানের প্রতি অ্যালার্জি হতে পারে।
সাধারণ খাবার-অ্যালার্জেনের মধ্যে রয়েছে:
গরুর মাংস, মুরগির মাংস, মাছ ও দুগ্ধজাত খাবার।
সাধারণত এসব খাবারের প্রোটিনকে বিড়ালের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ক্ষতিকর মনে করে না। কিন্তু কিছু বিড়ালের ক্ষেত্রে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে নির্দিষ্ট প্রোটিনকে বিপজ্জনক মনে করে এবং তার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখায়—অনেকটা মানুষের শরীর জীবাণুর বিরুদ্ধে যেভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তার মতো।
খাবারের অ্যালার্জির কারণে ত্বকের সমস্যা এবং হজমের সমস্যা—দুটিই হতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ধরে এসব লক্ষণ দেখা গেলে পশুচিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
আপনার বিড়ালের অ্যালার্জি থাকতে পারে—এমন লক্ষণ
নিচের লক্ষণগুলোর দিকে খেয়াল রাখুন:
- বিশেষ করে মাথা ও ঘাড়ের আশপাশে অতিরিক্ত চুলকানো
- লোম পড়ে যাওয়া বা পাতলা হয়ে যাওয়া
- লাল, জ্বালাপোড়াযুক্ত বা খসখসে ত্বক
- পিঠের ওপর ছোট ছোট গুটি বা স্ক্যাব/খোসা
- ঘন ঘন শরীর পরিষ্কার করা বা চাটা
মানুষের ব্যবহারের পণ্য সম্পর্কে সতর্কতা
এটাও মনে রাখা জরুরি যে মানুষের জন্য তৈরি অনেক স্কিনকেয়ার ও টপিক্যাল পণ্য—যেমন লোশন, ক্রিম এবং ওষুধযুক্ত মলম—বিড়ালের জন্য বিষাক্ত হতে পারে, এমনকি অল্প পরিমাণেও।
তাই এসব পণ্য সবসময় আপনার বিড়ালের নাগালের বাইরে নিরাপদ স্থানে রাখুন। 🐾
আপনার কী করা উচিত?
আপনার বিড়ালের ওপরের লক্ষণগুলোর কোনোটি দেখা গেলে সবচেয়ে ভালো পদক্ষেপ হলো পশুচিকিৎসকের কাছে যাওয়ার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট করা।
বিড়ালের অ্যালার্জি সাধারণত অন্যান্য রোগ বা সমস্যাগুলো বাদ দেওয়ার মাধ্যমে নির্ণয় করা হয়। পশুচিকিৎসক নির্দিষ্ট কারণ বা অ্যালার্জেন শনাক্ত করতে এবং উপযুক্ত চিকিৎসা ও যত্নের পরিকল্পনা তৈরি করতে সাহায্য করতে পারবেন।
