মুক্তদেশ ডেস্ক: একাদশ শ্রেণিতে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে কোনো বাছাই বা ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুযায়ী শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
পাশাপাশি এ শিক্ষাবর্ষে মহানগর, বিভাগীয় ও জেলা সদরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তান এবং মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক আসন সংরক্ষণ করা হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-১ শাখা থেকে এ নীতিমালা প্রকাশ করা হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, যে শিক্ষাবর্ষে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হবে, সেই বছর এবং ধারাবাহিকভাবে আগের দুই বছরে দেশের যেকোনো শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। বিদেশি কোনো বোর্ড বা সমমান প্রতিষ্ঠান থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে সনদের মান নির্ধারণের পর ভর্তির যোগ্যতা বিবেচনা করা হবে।
বিভাগ নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা; যেকোনো বিভাগে আবেদন করতে পারবেন। মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগে ভর্তির আবেদন করতে পারবেন। বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—যেকোনো বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ইসলামী শিক্ষা, গার্হস্থ্যবিজ্ঞান ও সংগীত বিভাগে আবেদন করতে পারবেন।
মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের শিক্ষার্থীদের জন্যও বিভাগ পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে। মাদ্রাসা বোর্ডের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে আবেদন করতে পারবেন। সাধারণ ও মুজাব্বিদ মাহির বিভাগ থেকে উত্তীর্ণরা বিজ্ঞান বিভাগ ছাড়া অন্য বিভাগে আবেদন করতে পারবেন। কারিগরি বোর্ডের এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) উত্তীর্ণরা সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের যেকোনো বিভাগে আবেদন করতে পারবেন।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, ভর্তির জন্য কোনো বাছাই বা ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। শুধু এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। সংশ্লিষ্ট কলেজের ৯৩ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং এসব আসনে মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ এবং মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর-সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশসহ মোট ২ শতাংশ আসন মহানগর, বিভাগীয় ও জেলা সদরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষিত থাকবে। এসব আসনে ভর্তির জন্য ন্যূনতম যোগ্যতা থাকতে হবে। আবেদনকারীর সংখ্যা নির্ধারিত আসনের চেয়ে বেশি হলে তাদের নিজেদের মধ্যে মেধার ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে।
মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। এ ক্ষেত্রে আবেদনপত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র বা গেজেটের সত্যায়িত কপি দিতে হবে এবং ভর্তির সময় মূল কপি প্রদর্শন করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ইস্যু করা মুক্তিযোদ্ধা সনদ যাচাই করে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। তবে এ কোটায় উপযুক্ত প্রার্থী না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আসন মেধা তালিকা থেকে পূরণ করতে হবে। কোনো আসন শূন্য রাখা যাবে না। এই কোটা ব্যবস্থা শুধু ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য হবে।
সমান জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। বিজ্ঞান বিভাগে সমান নম্বর হলে সাধারণ গণিত ও উচ্চতর গণিত বা জীববিজ্ঞানে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করা হবে। এরপরও সমাধান না হলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের নম্বর বিবেচনায় নেওয়া হবে। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে সমান নম্বরের ক্ষেত্রে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করা হবে।
স্কুল অ্যান্ড কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করলে নিজ নিজ বিভাগে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভর্তির সুযোগ পাবেন। নিজস্ব শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চিত করার পর অবশিষ্ট আসনে অন্যান্য শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের ভর্তি কার্যক্রমও অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো কলেজ ভর্তির জন্য নিজস্ব ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণ করতে পারবে। ভর্তি সংক্রান্ত সব তথ্য কলেজের ওয়েবসাইট ও নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ করতে হবে। শিক্ষা বোর্ড নির্ধারিত আসন, তালিকা ও সময়ের বাইরে কোনো প্রতিষ্ঠান নিজস্বভাবে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।
এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বোর্ডগুলো আবেদন, ফল প্রকাশ, ভর্তি ও ক্লাস শুরুর সময়সূচি ঘোষণা করবে। শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত সব প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে এবং ভর্তি সংক্রান্ত সব কার্যক্রম অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সম্পন্ন হবে।
বেসরকারি কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে ভর্তি ফি, মাসিক বেতন ও অন্যান্য খরচের তালিকা ভর্তি কার্যক্রম শুরুর আগেই নোটিশ বোর্ড ও ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। বোর্ড অনুমোদিত ফির অতিরিক্ত কোনো অর্থ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নেওয়া যাবে না। অনুমোদিত সব ফি যথাযথ রশিদের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে।
ভর্তি সম্পন্ন হওয়ার পর বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অনুমতি ও ফি দিয়ে কলেজ, বিভাগ ও বিষয় পরিবর্তন করা যাবে। তবে অন্য বিভাগ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না। একইভাবে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর পুনরায় বিজ্ঞান বিভাগে ফেরার সুযোগও থাকবে না।
কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীর মূল একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট আটকে রাখতে পারবে না। শিক্ষার্থী বা তার অভিভাবক ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে তা হস্তান্তরও করা যাবে না। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে শিক্ষা বোর্ড।
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার পর শিক্ষা বোর্ডের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীর ছাড়পত্র বা টিসি দেওয়া যাবে না। একইভাবে বোর্ডের অনুমতি ছাড়া ইস্যু করা ছাড়পত্রের মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করা যাবে না।
পাঠদানের প্রাথমিক অনুমতি নেই—এমন কোনো প্রতিষ্ঠান একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে না। পাশাপাশি অনুমোদন বা স্বীকৃতিবিহীন ক্যাম্পাস, শাখা কিংবা অননুমোদিত বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি কলেজ এবং সমমানের প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে এ নীতিমালা প্রযোজ্য হবে। নীতিমালা লঙ্ঘন করলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি বা স্বীকৃতি বাতিলের পাশাপাশি এমপিওভুক্তি বাতিল করা হতে পারে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
