মুক্তদেশ ডেস্ক: রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহর বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন কিন্তু জাপানের দাবিকৃত কয়েকটি দ্বীপের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। বিরোধপূর্ণ ভূখণ্ড নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার মধ্যেই এই পরীক্ষা চালানো হলো।
ঠিক কখন এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। তবে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাপানের রাষ্ট্রদূত আকিরা মুতোর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়ার পর এই ঘোষণা আসে। এর আগে জাপান ওই এলাকায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সফরের প্রতিবাদ জানিয়েছিল।
পুতিন গত ১৩ আগস্ট ইতোরোফু দ্বীপ সফর করেন। এটি চারটি দ্বীপের মধ্যে সবচেয়ে বড়, যেগুলো জাপানে নর্দার্ন টেরিটোরিজ এবং রাশিয়ায় সাউদার্ন কুরিলস নামে পরিচিত।
রুশ নৌবহর জানায়, ইতোরোফুতে মোতায়েন বাশন (Bastion) সারফেস-টু-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা দিয়ে পরীক্ষাটি চালানো হয়। এতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের ফ্ল্যাগশিপ ক্ষেপণাস্ত্র ক্রুজার ভারিয়াগ (Varyag) এবং পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন ওমস্ক (Omsk)-ও অংশ নেয়।
নৌবহরের দাবি অনুযায়ী, পরীক্ষায় শত্রু জাহাজে হামলার মহড়া চালানো হয় এবং অন্তত ৩০০ কিলোমিটার দূরের সব নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে।
জাপানের দাবি, ইতোরোফু, কুনাশিরি, শিকোতান এবং হাবোমাই দ্বীপপুঞ্জ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আত্মসমর্পণের পর, ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্টের পরপরই, সোভিয়েত ইউনিয়ন অবৈধভাবে দখল করে।
অন্যদিকে রাশিয়ার দাবি, ওই দখল বৈধ ছিল এবং যুদ্ধের ফলাফল হিসেবে দ্বীপগুলো রাশিয়ার ভূখণ্ডের অংশ হয়ে যায়।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই জাপান ও রাশিয়ার সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি হয়েছে। এরপর জাপান ও তার জি-৭ অংশীদার দেশগুলো মস্কোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
