ধর্ম ডেস্ক: ‘‘কেউ যদি বলে নামাজ পড়ে কে বড়লোক হয়েছে আমি নামাজ পড়বো না; এর দ্বারা কি নামাজকে অস্বীকার করা হবে? আর এর অনুযায়ী কেমন মাসআলা হবে? ফতোয়া কেমন হবে?’’ —এমন একটি প্রশ্নের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন ঢাকাস্থ উত্তরার জামিয়া ইমাম বুখারীর মুফতী ও মুহাদ্দিস সাইদুজ্জামান কাসেমি।
সম্প্রতি এক অনুসারীর প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, শরিয়তের কোনো বিধানকে হালকা মনে করা বা তা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা কুফরি। সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায় এমনটি করলে মানুষ ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হয়ে যায় এবং তার ওপর পুনরায় ঈমান আনা (তাজদিদে ইমান) ও (বিবাহিত হওয়ার সুরতে) নতুন করে নিকাহ করা (তাজদিদে নিকাহ) ফরজ হয়ে যায়। তবে, যদি কোনো কথায় অন্য কোনো ব্যাখ্যার (তাউইল) সুযোগ থাকে, তবে যথাসম্ভব ভিন্ন ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে তাকে কুফরি থেকে রক্ষা করা হবে।
বিজ্ঞাপন
অতএব, প্রশ্নোক্ত কথা বলার মাধ্যমে সরাসরি নামাজ ফরজ হওয়াকে অস্বীকার করা না হলে ও তাকে বিধান হিসেবে খাটো বা অবজ্ঞা করা হয়। এর ফলে বক্তা কবিরা গুনাহে লিপ্ত হন। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কাফের বা মুরতাদ সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি তার বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে।
এই ধরনের মন্তব্যকারীকে দ্রুত তওবা করতে হবে এবং ইস্তিগফার পড়তে হবে। তার এই কথার ধরণ যদি নিছক অজ্ঞতা, দুনিয়াবি হতাশা বা অলসতা থেকে হয়ে থাকে, তবে তাকে বোঝাতে হবে যে দুনিয়াবি সচ্ছলতা ইবাদতের ওপর নির্ভর করে না; বরং রিজিকের মালিক আল্লাহ তাআলা। আর যদি সে ইচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহর ফরজ বিধানকে উপহাস বা অস্বীকার করার উদ্দেশ্যে কথাটি বলে থাকে, তবে তাকে নতুন করে ঈমান ও কালিমা পড়তে হবে এবং তওবা করতে হবে।
