শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে উত্তরায় ফের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার বেলা দেড়টার দিকে উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। তাদের সড়ক অবরোধের ফলে ঢাকামূখী যান ও গাজীপুর মুখি যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মঙ্গলবারও তারা সড়ক অবরোধ করে রেখেছিল।
শিক্ষার্থীরা জানায়, তাদের সব দাবি না মানা পর্যন্ত তারা এই আন্দোলন অব্যাহত রাখবে। আন্দোলনস্থলে পুলিশ জলকামান নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো ধরনের বাগ্বিতণ্ডায় জড়াতে চান না বলে জানায় তারা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— বন্যা ও জলাবদ্ধতার প্রভাব পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখা, ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ।
এর আগে পরীক্ষার্থীদের নিয়ে নিজের মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে সোমবার (১৩ জুলাই) অনুষ্ঠিত পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা নতুন করে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী এ ঘোষণা দেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান এবং যুক্তিবিদ্যা পরীক্ষার সময় বৃষ্টি ছিল। অনেকে ভিজেছে এবং অনেকে সঠিকভাবে পরীক্ষা দিতে পারেনি—এমন অভিযোগ এসেছে। যদিও আমরা সব সময় পর্যবেক্ষণের মধ্যে ছিলাম, তারপরও শিক্ষার্থীদের দাবি এসেছে এ পরীক্ষাটি নিয়ে। ইতোমধ্যে বন্যার কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের সব জেলার পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছি, আমাদের পুনরায় পরীক্ষা নিতে হবে। এক্ষেত্রে আমরা ভেবেচিন্তে দেখেছি চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা যখন নিতে যাবÑপদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা, সে সময় আমরা এ পরীক্ষাটি পুনরায় নেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারব ইনশাল্লাহ।
মন্ত্রী বলেন, আমার ব্যক্তিগত কোনো মন্তব্য নিয়ে অনেকেই আপত্তি করেছেন। এ ব্যাপারে আমি বলতে চাই, আমি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে কিছু বলিনি। যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকে, সিম্পলি দুঃখ প্রকাশ করছি।
এর আগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির কারণে চলমান এইচএসসি পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করে বলব, তারা যার যার পড়ার টেবিলে ফিরে যাক। আমরাই তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন কীভাবে পরীক্ষা সঠিকভাবে নেব। আমরা আশ্বাস দিচ্ছি— যেসব পরীক্ষা কেন্দ্রে ভুলত্রুটি হয়েছে, সেখানে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার বিধান আমাদের রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্টরা বলেছিলেন আবহাওয়া ভালো থাকবে। তাই পরীক্ষা বহাল রাখা হয়।
জামায়াতের এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদ সম্পূরক প্রশ্নে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমনে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, আমরা সবাই উদ্বিগ্ন বর্ষা মৌসুমে পরীক্ষা নিয়ে। আমরা সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ে ছিলাম এবং আছি, সারা দিনিই এ কাজ করে থাকি। কোনো কেন্দ্রে পানি উঠে থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র সরিয়ে দিয়েছি। স্থানীয় প্রশাসনকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লা পরীক্ষা কেন্দ্রের কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অন্যান্য জায়গায় পানি উঠলেও তা তেমন বেশি নয়, কয়েকটি কেন্দ্র সঙ্গে সঙ্গে পল্টানো হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের যে সুবিধা দেওয়ার, তা হয়েছে। তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলাম, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে কাজটি করছি। কারণ, আমরা অনেক জায়গায় পরীক্ষা বন্ধ করেছি। আমাদের আলাদা প্রশ্ন সেট রয়েছে। আমরা আবার পরীক্ষা নেব।
আবার পর্যালোচনা করছি, যদি কোথাও প্রশাসনের দুর্বলতার কারণে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ওঠার পর পরীক্ষা দিতে না পারে, সে জরিপ আমাদের কাছে আসার পর প্রয়োজনে আমরা পুনরায় পরীক্ষা নিতে পারি। আমরা চট্টগ্রাম বোর্ডে এ ব্যবস্থা করেছি। সে অবস্থান আমাদের রয়েছে। শিক্ষার্থীরা আমাদের জাতির ভবিষ্যৎ। তাদের আমরা বঞ্চিত করতে পারি না।
সম্পূরক প্রশ্নে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা চলছে। গত তিন-চারদিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বড় বড় শহর পানির নিচে তলিয়েছিল। শিক্ষার্থীরা অনুরোধ করেছিল পরীক্ষা পেছানোর জন্য। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এ কারণে ঢাকায় আন্দোলন হচ্ছে। এইচএসসির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা এক-দুদিন পিছিয়ে দিতে কী সমস্যা ছিল, তা তিনি জানতে চান।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারা দেশে একযোগে পরীক্ষা নেওয়া হয়। এইচএসসি পরীক্ষার প্রায় দুই হাজার ৭০০টি কেন্দ্র রয়েছে এবং ৬৪টি জেলায় একই সময়ে পরীক্ষা শুরু হয়। চট্টগ্রামে বন্যার পর পর্যায়ক্রমে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং এরপর পুরো চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।
