খেলা ডেস্ক: ব্রিল এম্বোলো ও দান এনদোয়ের গোলে আলজেরিয়াকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ১৯৩৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয়ের স্বাদ পেল সুইজারল্যান্ড। এই জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে সুইসরা।
ম্যাচের ১০তম মিনিটেই এগিয়ে যায় সুইজারল্যান্ড। ডান প্রান্ত দিয়ে দুর্দান্ত একক নৈপুণ্যে আলজেরিয়ার রক্ষণভাগ ভেঙে বক্সে ঢুকে পড়েন ইয়োহান মানজাম্বি। প্রতিপক্ষের একজনকে কাটিয়ে তিনি পেছনে বাড়ানো নিখুঁত পাস দেন ব্রিল এম্বোলোকে। কাছ থেকে সহজেই বল জালে পাঠান এম্বোলো।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার মাত্র ৪৬ সেকেন্ড পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দান এনদোয়ে। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে তিনি বক্সের ভেতর থেকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ১৯৫৪ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ৭-৫ ব্যবধানে হারের ম্যাচের পর এবারই প্রথম এক ম্যাচে একাধিক গোল করল সুইজারল্যান্ড।
অন্যদিকে, নকআউট পর্বে নিজেদের প্রথম জয়ের খোঁজে নামা আলজেরিয়া প্রথমার্ধে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও বড় কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। তাদের সেরা সুযোগটি আসে ফারেস শাইবির পায়ে। তবে তার দুর্বল শট সহজেই রুখে দেন সুইজারল্যান্ডের গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল। এরপর পুরো ম্যাচে আর তেমন কোনো হুমকি তৈরি করতে পারেনি আলজেরিয়া।
গ্রুপ পর্ব চালুর আগে ১৯৩৮ সালের বিশ্বকাপে জার্মানিকে হারিয়ে শেষ ষোলো থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল সুইজারল্যান্ড। দীর্ঘ ৮৮ বছর পর আবারও নকআউট পর্বে জয়ের দেখা পেল তারা।
ম্যাচের শেষ দিকে তৃতীয় গোলের দারুণ সুযোগ পান ফাবিয়ান রিডার। গোলের সামনে একেবারে ফাঁকা অবস্থায় বল পেলেও ঠিকভাবে শট নিতে পারেননি তিনি। ফলে বল চলে যায় আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদানের হাতেই।
টানা চতুর্থ বিশ্বকাপে শেষ ষোলো নিশ্চিত করল সুইজারল্যান্ড। আগামী ৭ জুলাই কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে কলম্বিয়া ও ঘানার মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দল।
এদিন ছিল অধিনায়ক গ্রানিত জাকারিয়ার হয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে ১৫০তম ম্যাচ। অভিজ্ঞ এই মধ্যমাঠের খেলোয়াড় পুরো ম্যাচজুড়েই ছিলেন দারুণ ছন্দে। তার নেতৃত্বে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে খুব বেশি সুযোগই তৈরি করতে পারেনি আলজেরিয়া।
তবে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সুইজারল্যান্ডের আক্রমণে নতুন প্রাণ এনে দিয়েছেন মাত্র ২০ বছর বয়সী ইয়োহান মানজাম্বি। প্রথম গোলের আগে তার দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। আলজেরিয়ার রক্ষণভাগকে বোকা বানিয়ে এমনভাবে বল বাড়ান যে গোলরক্ষকও আর কিছু করার সুযোগ পাননি।
গ্রুপ পর্বে তিনটি গোল করার পর এটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে মানজাম্বির দ্বিতীয় গোলে সহায়তা। বিস্তারিত পরিসংখ্যান সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বকাপে প্রথম কোনো সুইস ফুটবলার হিসেবে পাঁচটি গোলে সরাসরি অবদান রাখলেন তিনি।
মাত্র ২০ বছর ২৬১ দিন বয়সে এই কীর্তি গড়ে ১৯৬৬ সালের পর যেকোনো দেশের সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবেও নতুন ইতিহাস গড়েছেন মানজাম্বি।
তার এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ইতোমধ্যেই ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর নজর কেড়েছে। তবে বর্তমান ক্লাব নিশ্চয়ই এত প্রতিভাবান তরুণকে সহজে হারাতে চাইবে না।
