মুক্তদেশ ডেস্ক: একটি পেশাদার কূটনৈতিক বাহিনীর মূল উদ্দেশ্য হলো—দেশের পক্ষে এমন আলোচক নিয়োগ করা, যাদের কাজের ফলাফলের সঙ্গে ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ জড়িত থাকবে না; একমাত্র লক্ষ্য হবে নিজেদের দেশের কল্যাণ নিশ্চিত করা।
যুক্তরাষ্ট্র যখন ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদের সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা—ইরানের সঙ্গে আলোচনা—চালিয়ে যাচ্ছে, তখন সেই আলোচনাকারী দলের নেতৃত্বে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং এমন দুইজন রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারী, যাদের ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসাও রয়েছে।
জ্যারেড কুশনার এবং স্টিভেন উইটকফ—আন্তর্জাতিক কূটনীতির মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর আলোচনার জন্য স্বাভাবিক বা প্রচলিত পছন্দ নন।
জ্যারেড কুশনারের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা মূলত তৈরি হয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে বিয়ে করার কারণে তাঁর পারিবারিক সম্পর্কের সূত্র ধরে।
এই সম্পর্কের প্রভাব সময়ের সঙ্গে আরও বিস্তৃত হয়েছে। কুশনারের বাবা চার্লস কুশনার ২০০৫ সালে একটি ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন। পরে ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁকে ক্ষমা করে দেন। এরপর ২০২৫ সালে তাঁকে ফ্রান্সে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
স্টিভেন উইটকফের আন্তর্জাতিক বিষয়ে সম্পৃক্ততা আরও সাম্প্রতিক। ২০২৫ সালে তাঁকে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগের ঘোষণা দেওয়ার সময় ট্রাম্প তাঁর সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন—‘৭০টিরও বেশি স্থাপনার অর্থায়ন, পুনর্বিন্যাস এবং নির্মাণে নেতৃত্ব দেওয়ার’ অভিজ্ঞতা।
ট্রাম্প আমলে কীভাবে নিরপেক্ষ ও পেশাদার কূটনীতিকদের পরিবর্তে রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক আলোচনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সে বিষয়ে আরও জানতে সম্পূর্ণ নিবন্ধটি পড়ুন।
ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক
২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পাকিস্তান ও ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর পাশে ছিলেন জ্যারেড কুশনার (বাঁয়ে) এবং শান্তি মিশনবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।
এই বৈঠকটি ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে বিরল এক সরাসরি যোগাযোগ। দুই দেশের দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে স্থবির হয়ে থাকা আলোচনা এগিয়ে নিতে ওয়াশিংটন ও তেহরান পাকিস্তানকে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বেছে নেয়।
ব্যাখ্যা: ইরানের জব্দ (Frozen) সম্পদ সম্পর্কে যা জানা জরুরি
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারে অনুষ্ঠিত পরোক্ষ আলোচনায় ইরানি কর্মকর্তারা মূলত ইরানের জব্দ হয়ে থাকা অর্থে প্রবেশাধিকার (Access) পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
জব্দ বা ফ্রোজেন সম্পদ (Frozen Assets) বলতে এমন অর্থ বা আর্থিক সম্পদকে বোঝায়, যা নিষেধাজ্ঞা (Sanctions) বা অন্যান্য আইনি বিধিনিষেধের কারণে ব্যবহার করা যায় না।
ইরানের ক্ষেত্রে এই অর্থের বড় অংশই বিদেশে থাকা ব্যাংকগুলোতে জমা থাকা তেল বিক্রির আয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ।
বিভিন্ন অনুমান অনুযায়ী, এই জব্দ সম্পদের পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। তবে সঠিক অঙ্কটি জানা যায়নি।
এই অর্থের বেশির ভাগই রয়েছে যেসব দেশ ইরানের কাছ থেকে তেল কিনেছে, যেমন—
- চীন
- ইরাক
- জাপান
- দক্ষিণ কোরিয়া
- ইউরোপের কয়েকটি দেশ
ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র মোট ১২ বিলিয়ন ডলার জব্দ অর্থ ছাড়তে সম্মত হয়েছে। এই অর্থ দুই ধাপে, প্রতিবার ৬ বিলিয়ন ডলার করে দেওয়া হবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য হলো, এই অর্থের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ থাকবে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য—যেমন ভুট্টা ও গম—কেনার জন্য ব্যবহার করা হবে।
তবে তেহরানের দাবি, এই অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হবে, সে সিদ্ধান্ত ইরান নিজেই নেবে।
