মুক্তদেশ ডেস্ক: সিন্ধু নদের পানি চুক্তি (ইনডাস ওয়াটার্স ট্রিটি—আইডব্লিউটি) নিয়ে ভারতের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পাকিস্তানের পানির অংশ দখলের চেষ্টা করা হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
এক সংবাদ সম্মেলনে মুসাদিক মালিক অভিযোগ করেন, ভারত পাকিস্তানের পানির অংশ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, পাকিস্তানের ন্যায্য পানির অধিকার কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত হতে দেওয়া হবে না।
ডন-এর প্রতিবেদনের বরাতে তিনি বলেন, একটি প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং বলছেন পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও যেতে দেবেন না। মুসাদিক মালিক বলেন, পাকিস্তানের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষ জীবিকার জন্য কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাই পানির প্রবাহ বন্ধ করার চেষ্টা দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির ওপর বড় প্রভাব ফেলবে।
তিনি বলেন, “পাকিস্তানকে তার ন্যায্য পানির অংশ থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হলে এর পরিণতি কঠোর হবে। আমরা শুধু ঘোষণা দিইনি, প্রমাণ করেছি—কেউ যদি আমাদের পানির অংশে হাত দেয়, তাহলে সেই হাত কেটে দেওয়া হবে।”
চুক্তি বহাল থাকার দাবি
মুসাদিক মালিক বলেন, বিশ্বের অনেক অঞ্চলে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই আন্তর্জাতিক রীতিনীতির ভিত্তিতে পানির প্রবাহ অব্যাহত থাকে। তাহলে উজানের কোনো দেশ কি ভাটির দেশে পানি প্রবাহ বন্ধ করার অধিকার রাখে—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তার দাবি, সিন্ধু পানি চুক্তি এখনো কার্যকর রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ন্যায়বিচার ও পানির অধিকারের বিষয়টি নির্ধারণ করা হবে।
তিনি বলেন, আগামী আলোচনায় মূল বিষয় হবে ন্যায়বিচার এবং বিশ্বের ভাটির অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের পানির অধিকার।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্য
একই সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, সিন্ধু পানি চুক্তি আইনগতভাবে এখনো বহাল রয়েছে এবং এটি একতরফাভাবে স্থগিত, বাতিল বা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
ডন-এর প্রতিবেদনের অনুযায়ী, তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পাকিস্তানের অবস্থান শক্তিশালী। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও একাধিকবার বলেছেন, পানি পাকিস্তানের জীবনরেখা এবং একই সঙ্গে এটি তাদের “লাল রেখা”।
সিন্ধু পানি চুক্তির প্রেক্ষাপট
পাকিস্তানের এসব বক্তব্য এসেছে ভারতের কেন্দ্রীয় পানি সম্পদমন্ত্রী সি আর পাটিলের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে ভারত সিন্ধু নদ ব্যবস্থায় নিজের প্রাপ্য পানির অংশ পুরোপুরি ব্যবহার করবে এবং ভারতের জন্য নির্ধারিত পানি পাকিস্তানে যেতে দেওয়া হবে না।
২০২৫ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত সিন্ধু পানি চুক্তির কার্যকারিতা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। নয়াদিল্লির দাবি, পাকিস্তান সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যাচাইযোগ্য ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।
বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তির মাধ্যমে সিন্ধু নদ ও এর উপনদীগুলোর পানি বণ্টন ও ব্যবহারের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়। চুক্তিটি দীর্ঘদিন ধরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পানিবণ্টনের প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করে আসছে।
