মুক্তদেশ ডেস্ক: বড় আশা ও প্রচারণার মধ্য দিয়ে চালু হলেও সিলেটের প্রথম ‘কৃষকের হাট’ উদ্বোধনের অল্প সময়ের মধ্যেই কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ভোক্তার হাতে কৃষিপণ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে চালু হওয়া এই উদ্যোগে এখন কৃষক ও ক্রেতা—দু’পক্ষেরই উপস্থিতি কমে গেছে।
১১ এপ্রিল টিলাগড় এলাকায় বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির হাটটির উদ্বোধন করেন। জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই হাটে কৃষকদের সরাসরি পণ্য বিক্রির সুযোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশ দিনই হাট ফাঁকা দেখা যাচ্ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়সূচি ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে তাদের আগ্রহ কমে গেছে। অনেকের মতে, প্রতিদিন বা নির্দিষ্ট দিনে পর্যাপ্ত পরিমাণ সবজি সংগ্রহ ও পরিবহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, হাট সম্পর্কে পর্যাপ্ত প্রচার না থাকায় অনেকেই এর কার্যক্রম ও সময়সূচি সম্পর্কে জানেন না।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শুরুতে উদ্যোগটি নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ থাকলেও নিয়মিত কৃষকের উপস্থিতি না থাকায় সেই আগ্রহ দ্রুত কমে গেছে। ব্যবসায়ী নেতারাও মনে করছেন, নিয়মিত তদারকি ও কৃষকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা না গেলে এমন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ টেকসই হবে না।
কৃষি বিভাগের দাবি, বর্ষা মৌসুমে স্থানীয় সবজির উৎপাদন কমে যাওয়ায় কৃষকদের উপস্থিতি হ্রাস পেয়েছে। তবে স্থানীয়দের একটি বড় অংশ এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন। তাদের মতে, জেলার অন্যান্য বাজারে এখনও পর্যাপ্ত কৃষিপণ্য পাওয়া যাচ্ছে। তাই সমস্যার মূল কারণ উৎপাদন ঘাটতি নয়; বরং সমন্বয়হীনতা, দুর্বল পরিকল্পনা এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার অভাব।
মূল সমস্যা
- কৃষকদের নিয়মিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়নি।
- হাটের সময়সূচি ও পরিচালনায় সমন্বয়ের অভাব রয়েছে।
- পর্যাপ্ত প্রচারণা না থাকায় ক্রেতাদের উপস্থিতি কম।
- কৃষকদের জন্য পরিবহন ও বাজারজাতকরণ সুবিধা সীমিত।
সম্ভাব্য সমাধান
- নির্দিষ্ট ও সুবিধাজনক সময়সূচি নির্ধারণ।
- কৃষকদের পরিবহন ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদান।
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় প্রচারণা বৃদ্ধি।
- শুধু সবজি নয়, ফল, মাছ, হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য অন্তর্ভুক্ত করা।
- নিয়মিত তদারকি ও কৃষক-ক্রেতা উভয়ের মতামত নিয়ে ব্যবস্থাপনা উন্নত করা।
সামগ্রিকভাবে, ‘কৃষকের হাট’ ধারণাটি কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের জন্যই উপকারী হতে পারে। তবে এটি সফল করতে হলে উদ্বোধনী আয়োজনের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে নিয়মিত পরিচালনা, কৃষকদের সম্পৃক্ততা এবং ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানোর কার্যকর ব্যবস্থার ওপর।
