মুক্তদেশ ডেস্ক: হজের জন্য ইহরামে প্রবেশের নিয়ত (ইচ্ছা) মানে হলো হজের আনুষ্ঠানিক ইবাদতে প্রবেশ করার সংকল্প করা। যখন একজন হাজী এই নিয়ত করেন, তখন তিনি ইহরামের অবস্থায় প্রবেশ করেন এবং কিছু কাজ তার জন্য নিষিদ্ধ হয়ে যায়—যেমন সুগন্ধি ব্যবহার করা, মাথার চুল কাটা ইত্যাদি।
হজ আদায়ের নিয়ত তিনভাবে হতে পারে:
- শুধু হজ (ইফরাদ)
- তামাত্তু (উমরাহ + হজ)
- কিরান (একসাথে উমরাহ ও হজ)
📖 ইহরামের সংজ্ঞা
ভাষাগতভাবে “ইহরাম” শব্দটি “হারাম” ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো কোনো কিছুকে নিজের উপর নিষিদ্ধ করা বা পবিত্র অবস্থায় প্রবেশ করা।
শরীয়তের পরিভাষায় ইহরামের সংজ্ঞা নিয়ে ফকিহদের মধ্যে কিছু মতভেদ আছে:
- হানাফি মাজহাব: ইহরাম হলো নিয়ত ও জিকিরের মাধ্যমে কিছু নির্দিষ্ট নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করা।
- মালিকি মাজহাব: এটি এমন একটি অবস্থা যা মানুষকে ইহরামের নিষিদ্ধ বিষয় (যেমন সুগন্ধি, যৌন সম্পর্ক, সেলাই করা কাপড়) থেকে বিরত রাখে।
- শাফেয়ি মাজহাব: হজ বা উমরাহ করার নিয়তই ইহরাম, যা মানুষকে হারাম কাজ থেকে বিরত রাখে।
- হাম্বলি মাজহাব: বিভিন্ন ইবাদতে প্রবেশ করার নিয়তই ইহরাম, তা হজ বা উমরাহ যাই হোক।
⏰ ইহরামের সময় (মীকাত)
“মীকাত” শব্দের অর্থ নির্দিষ্ট সময় বা স্থান।
🕓 সময়গত মীকাত (Miqat Zamani)
রাসূলুল্লাহ ﷺ হজের জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করেছেন।
এই সময় শুরু হয় শাওয়াল মাসের শুরু থেকে এবং শেষ হয় ঈদুল আজহার দিন পর্যন্ত (কিছু আলেমের মতে পুরো যিলহজ্জ মাস পর্যন্ত)।
উমরাহর জন্য নির্দিষ্ট সময় নেই—বছরের যেকোনো সময় করা যায়, তবে হজের ইহরাম অবস্থায় থাকা অবস্থায় উমরাহ করা যাবে না।
📍 স্থানগত মীকাত (Miqat Makani)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বিভিন্ন এলাকার মানুষের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করেছেন, যেখান থেকে ইহরাম বাঁধা বাধ্যতামূলক।
মক্কার বাসিন্দারা “হিল” এলাকা থেকে ইহরাম বাঁধবে।
মীকাতসমূহ:
- যুল-হুলাইফা — মদিনাবাসীদের জন্য
- আল-জুহফা (রাবেগ) — শাম অঞ্চলের জন্য
- কারনুল মানাজিল — নজদের জন্য
- ইয়ালামলাম — ইয়েমেনের জন্য
✅ ইহরামের শর্তসমূহ
ইহরাম সহীহ হওয়ার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে:
- মুসলিম হওয়া
- নিয়ত করা (মনে মনে)
- নিয়ত উচ্চারণ করা সুন্নত (যেমন: “লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা হজ্জান…”)
- ফরজ হজের ক্ষেত্রে আলাদা করে নিয়ত নির্দিষ্ট করা জরুরি নয় (যদি আগে হজ না করে থাকে)
- তালবিয়া পড়া (হানাফি মতে জরুরি, অন্যদের মতে শর্ত নয়)
🌿 ইহরামের সুন্নত ও করণীয়
ইহরামে প্রবেশের আগে কিছু কাজ সুন্নত:
⚪ সাদা কাপড় পরিধান করা (পুরুষদের জন্য)
🛁 গোসল করা (পুরুষ-নারী সবার জন্য, এমনকি ঋতুবতী নারীর জন্যও)
✂️ পরিচ্ছন্নতা রক্ষা (গোঁফ কাটা, বগল পরিষ্কার, নখ কাটা ইত্যাদি)
🌸 শরীরে সুগন্ধি ব্যবহার করা (কাপড়ে নয়)
