মু্ক্তদেশ ডেস্ক: নিথর দেহটি পড়ে আছে মাটিতে। তাকে ঘিরে বিষণ্ন প্রহরায় দাঁড়িয়ে আছে তার দীর্ঘদিনের জীবনসঙ্গিনী। রাঙামাটির লংগদুর গহিন অরণ্যে গতকাল রোববার সকালে দেখা গেল এমনই এক শোকাতুর দৃশ্য। প্রায় ৬০ বছর বয়সী এক পুরুষ হাতি মারা গেলেও তার সঙ্গিনী তাকে ছেড়ে যেতে নারাজ। কেউ মরদেহের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলেই তেড়ে আসছে সে।
লংগদু উপজেলার ভাসান্যাদম এলাকার পকসাপাড়ায় আজ সকালে বন বিভাগের এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সদস্যরা পৌঁছে এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখেন। মৃত পুরুষ হাতিটির পাশে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে তার সঙ্গী হাতিটি। এ কারণে বহু চেষ্টা করেও বন বিভাগ মরদেহের কাছে যেতে পারেনি।
এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সদস্য জয়নাল বলেন, ‘সকালে হাতিটির অবস্থা পর্যবেক্ষণে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। সঙ্গে সঙ্গে বন বিভাগকে খবর দিই। কিন্তু মৃত হাতিটির কাছে যাওয়া যাচ্ছে না। তার সঙ্গী হাতিটি পাশে দাঁড়িয়ে আছে। লোকজন দেখলেই সে তেড়ে আসছে।’
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, নিহত হাতিটি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিল। তাকে সুস্থ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হয়েছিল। কাছালংমুখ বন শুল্ক ও পরীক্ষণ ফাঁড়ির স্টেশন কর্মকর্তা আবদুল কাইয়ুম নিয়াজী বলেন, ‘হাতিটি অনেকদিন ধরেই অসুস্থ ছিল। শরীরে বিভিন্ন ক্ষতচিহ্ন ছিল এবং শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিল। বেশ কয়েক দফায় চিকিৎসাও দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, ধারণা করা হচ্ছে শনিবার রাতে হাতিটির মৃত্যু হয়েছে। মৃত হাতিটি পুরুষ, বয়স প্রায় ৬০ বছর। এটি ওই এলাকার সবচেয়ে বয়স্ক পুরুষ হাতি ছিল। তার সঙ্গে সব সময় একটি স্ত্রী হাতি থাকত, এখনও সেই হাতিটিই মরদেহের পাশে অবস্থান করছে। মরদেহ উদ্ধার করা গেলে ময়নাতদন্ত করা হবে।
হাতিটির চিকিৎসাসেবা দেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক বিবেক চন্দ্র সূত্রধর। তিনি জানান, হাতিটির বুকে দুটি ক্ষত এবং বাঁ পায়ের জয়েন্টে গুরুতর ক্ষত ছিল। শরীরের অন্যান্য ক্ষত সেরে ওঠার সম্ভাবনা থাকলেও পায়ের ক্ষত গুরুতর হওয়ায় সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম ছিল।
সিভাসুর মেডিসিন অনুষদের ডিন গৌতম কুমার দেবনাথ বলেন, বন্য হাতি সাধারণত ৬০ থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত বাঁচে, তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৮০ বছর পর্যন্তও বাঁচতে দেখা যায়।
এদিকে, সঙ্গী হাতিটি মরদেহের পাশে অবস্থান করায় বন বিভাগকে উদ্ধারকাজে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। পাবলাখালী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘হাতিটির মৃত্যুর ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। তবে পাশে একটি স্ত্রী হাতি অবস্থান করায় ঘটনাস্থলের কাছে যাওয়া যাচ্ছে না।’
