১০ বছর পর সাবেক সেনাসদস্য গ্রেপ্তার, তিন দিনের রিমান্ডে
মুক্তদেশ ডেস্ক: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার (অব.) হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই টিম। পরে তাঁকে গতকাল বুধবার বিকেলে কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোমিনুল হক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
সমকালকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা কার্যালয়ের পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম। এই প্রথম ন্যায়বিচারের আশা দেখছে তনুর পরিবার। পিবিআই সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডির তদন্ত টিম তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পায়। তবে পরে আর সন্দেহভাজন কারও ডিএনএর সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা হয়নি। মামলাটি পিবিআইতে যাওয়ার পর তদন্তে গতি আসে। তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা কার্যালয়ের পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, গত ৬ এপ্রিল এ মামলায় তিন সন্দেহভাজন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা ম্যাচিং করার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। এরপর তদন্তের স্বার্থে হাফিজুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, ‘আমরা হাফিজুরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের জন্য আবেদন করি। আদালত শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। বিধি অনুযায়ী গ্রেপ্তার হাফিজুরকে জিজ্ঞসাবাদসহ ডিএনএ ম্যাচ প্রোফাইলসহ আমাদের পরবর্তী সব কার্যক্রম চলবে। আজও (গতকাল) তনুর বাবা-মা ঘটনার বিষয়ে বেশ কিছু বক্তব্য দিয়েছেন।’
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে বহু খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে জঙ্গলের মধ্যে তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়। পরদিন তাঁর বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। ডিবি ও সিআইডি দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি। তবে ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল। সর্বশেষ পুলিশ সদরদপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইর ঢাকা সদরদপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি। গত প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদরদপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পান পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম। গত ১০ বছরে মামলার শুনানির জন্য অন্তত ৮০টি ধার্য তারিখ অতিবাহিত হলেও প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্তে দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তা ছিল। তনুর ভাই মো. রুবেল বলেন, ‘তদন্ত কর্মকর্তা দুপুরে আমাদের বাসায় কল করে আদালতে থাকতে বলেছিলেন। বিকেলে মা ও বাবাকে নিয়ে আদালতে আসি। আদালতে এসে একজনের গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানতে পারি। আশা করি দীর্ঘ ১০ বছর পর বোনের হত্যার রহস্য বের হবে।’
তনুর বাবা ও মামলার বাদী ইয়ার হোসেন সমকালকে বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পরই মেয়ের বিচার চেয়ে আকুতি জানিয়েছিলাম। আগেও আমি জড়িতদের নাম প্রকাশ করেছি। আজও আদালতে এসে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জড়িতদের নাম প্রকাশ করেছি। তিনি বলেন, একজনকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ সুগম হচ্ছে বলে আশা করি।
তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘মেয়েটাকে তো আর ফিরে পাব না। তনুর বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড থেকে অবসরে গেছেন। এখন সারাক্ষণ বাসায় বসে মেয়ের জন্য কান্নাকাটি করে।
