মুক্তদেশ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাবে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। রাজধানীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেল নিতে দিন-রাত মোটরসাইকেল ও গাড়ির দীর্ঘ সারি এখন নিত্যদিনের চিত্র। এসব সারি প্রধান সড়কে ছড়িয়ে পড়ায় সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট, যা নগরীর স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যবস্থাকে প্রায় অচল করে দিচ্ছে।
কয়েক লিটার তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে মানুষকে। কর্মঘণ্টা বিসর্জন দিয়ে এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা শুধু রাজধানীতেই সীমাবদ্ধ নয়; ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কেও।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে পল্টন, মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকা, তেজগাঁও, মগবাজার, আজিমপুর, নীলক্ষেত, গুলিস্তান ও মতিঝিলের ১০টি পেট্রোল পাম্প পরিদর্শনে দেখা যায়, এর মধ্যে ৮টির সামনে দীর্ঘ গাড়ির সারি। কোথাও কোথাও সেই সারি প্রধান সড়কের একাধিক লেন দখল করে ফেলেছে।
রমনা এলাকার মৎস্য ভবন সংলগ্ন একটি ফিলিং স্টেশনে সকাল থেকেই চোখে পড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। পাম্প থেকে শুরু হয়ে শিল্পকলা একাডেমি পেরিয়ে প্রেস ক্লাব-পল্টন সড়ক পর্যন্ত সারি পৌঁছে যায়, ফলে সড়কের একটি লেন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে মৎস্য ভবন, সেগুনবাগিচা, হাইকোর্ট ও পল্টন এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা চালক আব্দুল কাদের জানান, ভোর সাড়ে ৫টা থেকে অপেক্ষা করছেন, কিন্তু সকাল ১০টা পর্যন্ত তেল পাননি। তিনি বলেন, “ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, আবার রাস্তায় যানজটেও আটকে থাকতে হচ্ছে—দুই দিকেই ভোগান্তি।”
মতিঝিলের মধুমিতা হল সংলগ্ন পাম্পের গাড়ির সারি ইত্তেফাক মোড় পেরিয়ে গোপীবাগ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এতে মতিঝিল ও দিলকুশা এলাকায় তীব্র যানজট দেখা দেয়। তেজগাঁও থেকে মহাখালী পর্যন্ত একাধিক পাম্প থাকায় এই অঞ্চলে যানজট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। মগবাজার ফ্লাইওভারে আটকে পড়া এক বাসচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, “আগেও ভিড় থাকত, কিন্তু এখন গাড়ির সারি রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে পুরো যানজট তৈরি করছে।”
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পেট্রোল পাম্প এলাকায় কঠোর নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
তবে বাস্তবে পাম্পগুলোতে সারির দৈর্ঘ্য কমছে না। জ্বালানি সরবরাহে টানাপোড়েনের কারণে রাজধানীর পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ, মাগুরা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। অনেক স্থানে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে, আবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেককে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জে অর্ধশতাধিক পেট্রোল পাম্পের বেশিরভাগই পর্যাপ্ত সরবরাহ না পেয়ে আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। মাগুরাতেও একই অবস্থা। অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিজেলের সংকটে কৃষি খাতে দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়; সেচের পানি না পেয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে ফসলের জমি।
ঢাকায় ফুয়েল পাস চালু থাকলেও তেমন সুফল মিলছে না। নির্ধারিত পাম্পেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। অনেক ক্ষেত্রে তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় পাসধারীরাও অনিশ্চয়তায় পড়ছেন।
এদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) হঠাৎ করেই সাতজন কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি করেছে। গতকাল সংস্থাটির সচিব শাহিনা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। তবে এ তাৎক্ষণিক বদলির কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কেউ মুখ খুলছেন না।
