মুক্তদেশ ডেস্ক : প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ে দেওয়া বাঁধই এখন নতুন সংকট তৈরি করছেসুনামগঞ্জের হাওরে ফসল রক্ষায়। বৃষ্টির পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। আবার কোথাও বাঁধ ভেঙে ডুবে যাচ্ছে ধানখেত।
এবার হাওরে জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ায় প্রতিবছর এত এত বাঁধের প্রকল্প নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে বিভিন্ন স্থানে বাঁধ কেটে দেওয়া এবং বাঁধ রক্ষায় মারামারির ঘটনাও ঘটেছে। একই হাওরে বাঁধ নিয়ে কৃষকেরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ছেন। কেউ চান বাঁধ কাটতে, আবার কেউ রক্ষা করতে। প্রশাসন থেকে বাঁধ কাটা রোধে দুটি এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করতে হয়েছে। বাঁধ কাটতে গিয়ে মাটিচাপায় একজনের মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে। হাওরে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা কৃষক ও গবেষকেরা বলছেন, বছরের পর বছর একই স্থানে অস্থায়ী বাঁধ দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। হাওরের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ, নদী-নালা ও প্রাকৃতিক ব্যবস্থাকে বিবেচনায় না এনে প্রতিবছর কেবল মাটির বাঁধ দিয়ে সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে। পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ছাড়া এ সংকট থেকে মুক্তি মিলবে না।
সুনামগঞ্জের হাওরে এবার কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) প্রকল্পের মাধ্যমে ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭১০টি প্রকল্পে ৬০২ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ হয়েছে।
প্রকৃতিবান্ধব বাঁধের তাগিদ
বাঁধের কাজে কোনো অবহেলা বা গাফিলতির অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে দাবি সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও হাওরে বাঁধ নির্মাণ–সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার। তিনি বলেন, এখন কেউ একজন হয়তো মনে করেন কোনো জায়গায় প্রকল্পের দরকার নেই, আবার একই এলাকার আরও ১০০ জন মানুষ দাবি করেন, সেখানে প্রকল্প দরকার। দুই দিকেই মত-দ্বিমত থাকে। বেশি মানুষের মতকে প্রাধান্য দিয়েই কাজ হয়। তবে হাওরে প্রকৃতি-পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কাজ করা যাবে না, এ নির্দেশনা সবাইকে দেওয়া আছে। হাওরে শুধু ধান নয়, সঙ্গে মাছের কথাও ভাবতে হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা বিভাগে অধ্যাপক এ কে এম শামসুল ইসলাম। তাঁর মতে, এবার যে সমস্যা দেখা দিয়েছে, সেটি চিন্তায় রেখেই বাঁধের কাজ করতে হবে। প্রতিটি বাঁধের পর্যাপ্ত পানিনিষ্কাশন, হাওরের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত, প্রকৃতি-পরিবেশবান্ধব কাজ হতে হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ছে উল্লেখ করে এ কে এম শামসুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, প্রতিবছর শত শত কোটি টাকার মাটির বাঁধ নির্মাণ কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। যেখানে প্রয়োজনে স্লুইসগেট নির্মাণ করতে হবে। কিছু জায়গায় প্রকৃতিবান্ধব স্থায়ী কাঠামো নির্মাণ করা যায়। হাওর, নদী-নালা খনন করতে হবে।
হাওর–গবেষক আজিজুর রহমান বলেন, ভাগবাঁটোয়ারার বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প নয়, প্রতিটি প্রকল্প গ্রহণের আগে সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হবে। স্থানীয় মতকে দিতে হবে গুরুত্ব।
