মুক্তদেশ ডেস্ক :
অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে আন্দামান সাগরে আড়াই শতাধিক যাত্রীবাহী একটি ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ৯ জন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করার পর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জন বাংলাদেশি ও তিনজন রোহিঙ্গা বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লে. কমান্ডার সাব্বির আলম সুজান জানান, ৯ এপ্রিল বিকেলে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় চট্টগ্রাম থেকে ইন্দোনেশিয়াগামী বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমটি মেঘনা প্রাইড ভাসমান অবস্থায় ৯ জনকে উদ্ধার করে। উদ্ধার ব্যক্তিদের মধ্যে আটজন পুরুষ ও একজন নারী ছিলেন। পরে মধ্যরাতে তাদের কোস্ট গার্ডের টহল জাহাজ ‘মনসুর আলী’-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গা যুবক রফিকুল ইসলাম জানান, ২ এপ্রিল তাকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কুতুপালং বাজার থেকে টেকনাফের রাজারছড়া এলাকার একটি বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখা হয়। ৪ এপ্রিল রাতে ছোট নৌকায় করে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের কাছে মিয়ানমারের জলসীমায় অপেক্ষমাণ একটি বড় ট্রলারে তাকে তোলা হয়।
রফিকুলের দাবি, ওই ট্রলারে ১৩ জন ক্রু ও পাচারকারীসহ মোট প্রায় ২৮০ জন যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যে প্রায় ১৫০ জন রোহিঙ্গা এবং বাকিরা বাংলাদেশি। যাত্রীদের মধ্যে ২১ জন রোহিঙ্গা নারী ও চারজন শিশুও ছিল।
তিনি আরও জানান, ৮ এপ্রিল আন্দামান সাগরে সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠলে পাচারকারীরা যাত্রীদের মাছ রাখার ড্রাম ও নেট রাখার ছোট চারটি কুঠুরিতে গাদাগাদি করে ঢুকতে বাধ্য করে। এতে শ্বাসরোধে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জনের মৃত্যু হয়। পরে বড় ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি উল্টে যায়। রফিকুল একটি দুই লিটারের পানির বোতল ধরে ভেসে থেকে প্রাণে বাঁচেন। আরেক যাত্রী ইমরান জানান, তিনি পানির একটি ট্যাংক ধরে দুই দিন সমুদ্রে ভেসে থাকার পর উদ্ধার হন।
এ ঘটনায় কোস্ট গার্ড বাদী হয়ে টেকনাফ মডেল থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে একটি মামলা করেছে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ‘তানজিনা সুলতানা’ নামের ট্রলারটি বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ডুবে যায়।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া ৯ জনের মধ্যে ৬ জন সন্দেহভাজন পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকি তিনজন ভুক্তভোগীকে আদালতের নির্দেশে পরিবারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
তবে নিখোঁজ যাত্রীদের সঠিক সংখ্যা কিংবা তাদের পরিণতি সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরাও ট্রলারডুবির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দিতে না পারায় তদন্তে কিছুটা জটিলতা রয়ে গেছে।
