মু্ক্তদেশ ডেস্ক: চলতি এপ্রিলের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় মৃদু তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। গতকাল অন্তত ২৭ জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ মাসে এক থেকে দুটি তীব্র তাপপ্রবাহ হতে পারে। তবে ২০২৪ সালের মতো টানা দীর্ঘ তাপপ্রবাহ এবার নাও হতে পারে।
আজ শনিবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। গতকাল রাজধানীতেও তাপমাত্রা বেড়েছে আগের দিনের তুলনায়। তবে শরীয়তপুরসহ দেশের কিছু এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে, এবং ঢাকার আশপাশের কয়েকটি এলাকাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
গতকাল রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের সব জেলায় এবং ঢাকাসহ আরও ৯ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। এতে মোট ২৭ জেলায় তাপপ্রবাহ অনুভূত হয়। ঢাকার বাইরে যেসব জেলায় তাপপ্রবাহ ছিল সেগুলো হলো—ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর, রাঙামাটি, বরিশাল ও পটুয়াখালী।
তাপপ্রবাহের মাত্রা অনুযায়ী, কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা মৃদু তাপপ্রবাহ, ৩৮ থেকে ৩৯.৯ ডিগ্রি হলে মাঝারি, ৪০ থেকে ৪১.৯ ডিগ্রি হলে তীব্র এবং ৪২ ডিগ্রির বেশি হলে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়।
গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়, ৩৯.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর রাজশাহীতে তাপমাত্রা ছিল ৩৯.৫ ডিগ্রি। রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬.১ ডিগ্রি, যা আগের দিনের তুলনায় কিছুটা বেশি।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানিয়েছেন, আজও দেশের বিভিন্ন স্থানে তাপপ্রবাহ থাকতে পারে। তবে রোববার থেকে কিছু এলাকায় ঝড়বৃষ্টি হতে পারে, যা সাময়িকভাবে তাপমাত্রা কমাতে সহায়ক হবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের এপ্রিল মাসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ মাসে এক থেকে দুটি তীব্র এবং দুই থেকে চারটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ হতে পারে। জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিকের মতে, তাপমাত্রা স্বাভাবিকের কাছাকাছি থাকলেও গরমের অনুভূতি বেশি থাকবে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, ঢাকা, সিলেট ও বরিশালের কিছু এলাকায় তাপপ্রবাহ বেশি হতে পারে।
২০২৪ সালে দেশে টানা ৩৫ দিনের দীর্ঘ তাপপ্রবাহ দেখা গিয়েছিল, যা ছিল গত ৭৬ বছরের মধ্যে দীর্ঘতম। তবে এবারে তেমন পরিস্থিতির আশঙ্কা কম। কারণ, এ মাসে একাধিক বজ্রঝড় হতে পারে, যা তাপমাত্রা কিছুটা প্রশমিত করবে।
এপ্রিল মাসে সাধারণত গড়ে ৯টি বজ্রঝড় হয়। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ মাসে ৫ থেকে ৭ দিন হালকা থেকে মাঝারি এবং ১ থেকে ৩ দিন তীব্র কালবৈশাখী হতে পারে। পাশাপাশি সাগরে ১ থেকে ২টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যা থেকে নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়েরও সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বর্তমানে তাপপ্রবাহের ধরণ বদলেছে এবং এটি এখন সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে দেখা যাচ্ছে। ফলে তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও গরমের তীব্রতা বেশি অনুভূত হতে পারে।
আগামী জুন পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময়ে ৩ থেকে ৪টি তীব্র এবং ৬ থেকে ৮টি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ হতে পারে।
