মুক্তদেশ ডেস্ক: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে দেশের জ্বালানি আমদানিতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হবে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ) সচিবালয়ে আইএমএফের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান মন্ত্রী।
আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসনের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল প্রথমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে তারা অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন।
আইএমএফের লোন আদায় কীভাবে হবে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, ওটা আলাপ-আলোচনা চলছে। আইএমএফের যে রিকয়ারমেন্ট, কতটুকু সম্ভব আলোচনা করেছি। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে যেগুলো সম্ভব নয়, সেগুলো ক্রমান্বয়ে করতে হবে। একসঙ্গে সব করা যাবে না। কারণ অর্থনীতি যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, সেখান থেকে উত্তরণ করতে হলে আমাদের মতো করেই কিছু চিন্তা করতে হবে।’
এ বিষয়ে কোনো ছাড় চাচ্ছেন কি না, এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘ওটা জুলাইয়ে পরবর্তী রিভিউয়ে আলাপ হবে। এর মধ্যে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার দেয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে আমরা বাজেটের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার কথা তুলে ধরে আমির খসরু বলেন, ‘আমাদের সরকারের এক মাস হয়েছে। এক মাসের মধ্যে রমজান মাস ছিল। এর মধ্যে যুদ্ধও শুরু হয়েছে। তেলের জ্বালানি সংকট সত্ত্বেও পরিবহনে কোনো সমস্যা হয়নি। পরিবহনে ঈদের সময় সবাই বাড়িতে যেতে পেরেছেন। ভাড়া বাড়েনি, দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল ছিল। এর মধ্যে গার্মেন্টসে প্রত্যেক বছর যে সমস্যাগুলো ঈদের আগে হয়; এবার কোনো অস্থিরতা ছিল না। এগুলো আমাদের অর্থনৈতিক ম্যানেজমেন্টের কারণে সম্ভব হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সঠিক সময়ে সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছি বলে পুরো রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল ছিল। পরিবহনে কোনো সমস্যা হয়নি। তেলের এত বড় সংকট থাকা সত্ত্বেও তেলের অভাবে কোনো পরিবহন বন্ধ ছিল না এবং গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন সঠিক সময়ে দেয়া হয়েছে। কোনো অস্থিরতা ছিল না। এ পর্যন্ত অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
দেশবাসীর কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে, সহানুভূতিশীল হতে হবে। সংযম আমাদের মধ্যে আসতে হবে। যেহেতু যুদ্ধ কোনো সরকারের হাতে নেই, যুদ্ধ হচ্ছে অন্য জায়গায়। এটার হচ্ছি আমরা ভুক্তভোগী। এজন্য আমাদের একটু সংযমের দিকেও যেতে হবে, সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। সবাই মিলে আমরা সংকট থেকে উত্তরণ করতে পারবো। অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো।’
যুদ্ধ প্রেক্ষাপটে আইএমএফের দেয়া পরামর্শের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যুদ্ধের প্রেক্ষাপট আছে। তারপর ব্যাংকিং সেক্টরে, ক্যাপিটাল মার্কেটে চ্যালেঞ্জ আছে। জিডিপি—ট্যাক্স জিডিপিটা আমরা সবচেয়ে একেবারে নিম্ন পর্যায়ে। এটাতে ইমপ্রুভমেন্টের ব্যাপারে আমরা কী করতে পারি, সেগুলো আলোচনা চলছে।’
সংস্কার নিয়ে তারা কতটুকু সন্তুষ্ট বা নতুন করে কোনো প্রস্তাবনা দিয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সরকারগুলোর বিষয়ে তো আলোচনা হয় না। আমরা তো মাত্র শুরু করলাম। আমাদের কাজগুলো নিয়েই আলোচনা হয়েছে।’
