মুক্তদেশ ডেস্ক: সিরিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। একই সঙ্গে দেশটির উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে পৃথক দুই হামলার দায় স্বীকার করেছে তারা।
আইএস তাদের নিজস্ব বার্তা মাধ্যমে জানায়, দেইর আল-জোর প্রদেশের মায়াদিন শহরে পিস্তল দিয়ে একজনকে গুলি করা হয়েছে। রাক্কা শহরে মেশিনগান দিয়ে আরও দুজনের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার এক সেনা ও এক বেসামরিক ব্যক্তি অজ্ঞাত হামলায় নিহত হয়েছেন। এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, নিহত সেনা ৪২তম ডিভিশনের সদস্য ছিলেন।
সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারার সরকারের বিরুদ্ধে আইএস হামলা বাড়িয়েছে। তার মধ্যেই এ হামলার ঘটনা ঘটল।
আহমেদ আল শারা আগে আল কায়েদার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৬ সালে তিনি সেই সম্পর্ক ছিন্ন করেন। পরে ইসলামপন্থি বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর নেতৃত্ব দেন। তার নেতৃত্বে ২০২৪ সালের শেষ দিকে বাশার আল আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হন।
আইএসের মুখপাত্র এক অডিও বার্তায় দাবি করেন, সিরিয়া এখন বিদেশি প্রভাবের অধীনে। তারা প্রেসিডেন্ট শারাকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটের ঘনিষ্ঠ বলে অভিযোগ করেছে। শারার পরিণতি আসাদের মতো হবে বলেও হুমকি দিয়েছে তারা।
গত নভেম্বরে শারা যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। সে সময় তিনি আইএসবিরোধী আন্তর্জাতিক জোটে সিরিয়ার যোগদানের কথা নিশ্চিত করেন। ওয়াশিংটনে তিনি প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
দুই দিন আগে দেইর আল-জোরে আরেক হামলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সদস্য নিহত ও একজন আহত হন। সেই হামলার দায়ও আইএস স্বীকার করেছে।
জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শারা ও তার দুই মন্ত্রীকে হত্যার জন্য পাঁচবার চেষ্টা চালিয়েছিল আইএস। তবে সবগুলো প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
