মুক্তদেশ ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের অধিকার আদায় করাই হচ্ছে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আপনাদের কোন অধিকারের সঙ্গে কম্প্রোমাইজ করবো না। এ লড়াই আমাদের অব্যাহত থাকবে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলের জরুরি বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনে অনেক আসনে অনিয়ম হয়েছে। কমিশন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। আমরা বলেছিলাম আমরা সুস্থ ধারার রাজনীতি পক্ষে। ইতিবাচক রাজনীতি করবো। নির্বাচনে হারজিৎ থাকবে, কিন্তু যদি বড় ধরনের কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি করে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের পর ১১ দলীয় কর্মী, সমর্থকদের বাড়িতে হামলা করা হচ্ছে। এটা ফ্যাসিবাদি তৎপরতা। ফ্যাসিবাদি তৎপরতা আমরা চাই না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নাসীরুদ্দীনের ওখানে যেকারণে একসেপ্ট করা হয়েছে তা মামুনুল হকের এখানে বাতিল হয়েছে। সেক্রেটারির আসনসহ বেশকিছু আসনে এমন হয়েছে। যাদের আসনে এমন হয়েছে তারা প্রতিকার চাইবেন। সুনির্দিষ্ট তারিখের ভেতর প্রতিকার না হলে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। যা হচ্ছে, তা বন্ধ করতে হবে। বন্ধ না হলে আমরা বাধ্য হবো যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে।
তিনি আরও বলেন, বেশ কিছু জায়গায় হঠাৎ ফলাফল বন্ধ। এগিয়ে থাকলেও হারিয়ে দেয়া হয়েছে। অনেক জায়গায় কষ্ট করে আমাদের ফল ধরে রাখতে হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় ফলাফল ঘসামাঝা করা হয়েছে। পরিবর্তন করা হয়েছে। সেন্টার দখল করে যা করা হয়েছে তা ভিন্ন উদাহরণ।
বিদেশি পর্যবেক্ষকরা যা দেখেছে তা তারা তুলে ধরবেন জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, আমরাও তুলে ধরবো। আমরা কালো অধ্যায়ের রাজনীতি আবারও চালু হোক, তা চাই না।
ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ চান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের ভদ্রতা ও ইতিবাচক আচরণকে দুর্বলতা মনে করলে ভুল করবেন। কারণ ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি জানানোর পরেও বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলা হচ্ছে। এটা ফ্যাসিবাদী লক্ষণ। ফ্যাসিবাদ আবারও দেখা দিলে তা দুর্ভাগ্য। এ দায় তাদের ওপর আসবে। ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশে থাকতে হলে ঐক্য নিয়েই থাকতে হবে। সংবিধানের আলোকে সবাই সমান। সবার জন্য একই নীতি হতে হবে। যদি ফ্যাসিবাদ ফিরে আসে আবারও তাহলে আমরা ছাড় দেব না।
