মুক্তদেশ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন–সংক্রান্ত আরও নতুন নথি প্রকাশ করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। গত শুক্রবার কয়েক লাখ পৃষ্ঠা উন্মুক্ত হওয়ার পর বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের পাশাপাশি ভারতেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কারণ, প্রকাশিত কিছু নথিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি উঠেছে।
এ ঘটনায় শনিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে মোদির নাম আসার বিষয়টিকে ‘ভিত্তিহীন ও নিন্দনীয়’ বলে উল্লেখ করে। তবে এই প্রতিক্রিয়ার পরও দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক থামেনি। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এ ঘটনাকে ‘জাতীয় লজ্জা’ বলে মন্তব্য করেছে।
ভারত সরকারের প্রতিক্রিয়া
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক ভিডিও বিবৃতিতে বলেন, জেফরি এপস্টেইনের তথাকথিত ই–মেইলে প্রধানমন্ত্রী মোদির নাম থাকার দাবি পুরোপুরি ‘ভিত্তিহীন ও নিন্দনীয়’। তাঁর ভাষায়, এসব তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নেই এবং তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা উচিত।
জয়সওয়াল বলেন, এপস্টেইনের একটি কথিত ই–মেইল বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি ও তাঁর ইসরায়েল সফরের উল্লেখ পাওয়া গেছে। তবে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে মোদির সরকারি ইসরায়েল সফরের তথ্য ছাড়া বাকি সব দাবি ‘চরম অবজ্ঞার সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যানযোগ্য’।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি বা ‘জল ঘোলা’ হওয়ার আগেই সরকার দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট নথিগুলো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা হয়নি।
বিরোধীদের সমালোচনা
এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথিতে মোদির নাম উল্লেখ থাকার অভিযোগে সরব হয়েছে কংগ্রেসসহ ভারতের বিরোধী দলগুলো। তারা এ বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছে।
রাজ্যসভায় কংগ্রেস সদস্য জয়রাম রমেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রকাশিত সর্বশেষ নথিতে মোদির নাম একাধিকবার এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এ নিয়ে সরকারের মুখপাত্র প্রতিক্রিয়া জানালেও এখনো বহু প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।
কংগ্রেস নেতা পবন খেরা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী মোদির বক্তব্য দাবি করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, বিষয়টি ভারতের জন্য ‘জাতীয় লজ্জা’। তাঁর পোস্টে আরও দাবি করা হয়, এপস্টেইনের একটি বার্তায় মোদির সঙ্গে কথিত যোগাযোগের উল্লেখ আছে। তবে এসব দাবির সত্যতা নিয়ে সরকারি কোনো স্বীকৃতি নেই।
খেরা অভিযোগ করেন, এ ধরনের বিষয় ভারতের ‘জাতীয় মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক সুনামকে’ প্রভাবিত করতে পারে।
নতুন নথি প্রকাশ
মার্কিন বিচার বিভাগ সম্প্রতি এপস্টেইন–সংক্রান্ত বিপুলসংখ্যক নথি প্রকাশ করেছে। গত শুক্রবার প্রকাশিত হয় প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠা নথি, ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি এবং প্রায় ২ হাজার ভিডিও। দেশটির নতুন ট্রান্সপারেন্সি আইন অনুযায়ী এসব নথি উন্মুক্ত করা হয়েছে, যার চূড়ান্ত অনুমোদন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে দেওয়া হয়।
সর্বশেষ প্রকাশিত নথিতে ট্রাম্প, ধনকুবের ইলন মাস্ক, মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস এবং যুক্তরাজ্যের প্রিন্স অ্যান্ড্রুসহ আরও কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগের প্রকাশিত নথিতেও তাঁদের নাম দেখা গিয়েছিল। সর্বশেষ নথিতে ট্রাম্পের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের নামও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রেক্ষাপট
জেফরি এপস্টেইন ২০০৮ সালে ফ্লোরিডায় অপ্রাপ্তবয়স্ক এক কিশোরীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের চেষ্টার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। পরবর্তীতে যৌনপণ্য পাচারের মামলায় বিচারাধীন অবস্থায় ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে তাঁর মৃত্যু হয়, যা আত্মহত্যা হিসেবে নথিভুক্ত।
তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথি ধাপে ধাপে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক চলছে।
