মুক্তদেশ ডেস্ক: অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে ‘অমর একুশে বইমেলা–২০২৬’ পিছিয়ে দেওয়ার প্রেক্ষাপটে প্রতীকী বইমেলার আয়োজন করেছে একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদ। আজ রোববার সকালে রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এই প্রতীকী বইমেলার উদ্বোধন করা হয়। এতে ৩৮টির বেশি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। আয়োজকদের ভাষ্য, বইমেলার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই এই উদ্যোগ। বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। উনসত্তরের গণ–অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতা দীপা দত্ত মেলার উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, বইমেলা এ দেশের সাধারণ মানুষের সংস্কৃতির প্রতীক। বাংলা সংস্কৃতিকে ধ্বংসের অপচেষ্টা অতীতেও ছিল, এখনো তা অব্যাহত আছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ও সমাজচিন্তক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। তিনি বলেন, বইমেলার গুরুত্ব এখন আরও বেড়েছে এবং এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করা জরুরি। নির্বাচন উপলক্ষে এ বছর বইমেলা কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া হলেও সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার পাশাপাশি সবার মধ্যে আবেগঘন আক্ষেপ রয়েছে। সেই আক্ষেপ থেকেই প্রতীকী বইমেলার আয়োজন।তিনি আরও বলেন, “বইমেলা থাকবে, আবার মাসব্যাপী বইমেলাও হবে।”অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সৃজনশীল বই প্রকাশক সমিতির সভাপতি সাঈদ বারী। আরও বক্তব্য দেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হাসান, প্রকাশক সৈয়দ জাকির হোসেন প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মফিজুর রহমান।
দিনব্যাপী এই প্রতীকী বইমেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে—অন্যপ্রকাশ, সূচীপত্র, প্রথমা, কাকলী, অনুপম, জাগৃতি, অ্যার্ডন পাবলিকেশনসহ আরও অনেকে। অংশ নিয়েছে সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচীও। প্রতীকী এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে আয়োজকেরা বইমেলার সাংস্কৃতিক গুরুত্ব ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
