মুফতি মাহবুব হাসান: সুরা ফাতিহা পবিত্র কোরআনের সবচেয়ে ফজিলত, মর্যাদা ও গুরুত্বপূর্ণ একটি সুরা। হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুয়ত প্রাপ্তির একদম শুরুর দিকেই সুরা ফাতিহা অবতীর্ণ হয়। যদিও এই সুরা অবতীর্ণ হওয়ার আগে সুরা ইকরা, মুযযাম্মিল ও মুদ্দাসসিরের কয়েকটি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছিল। সুরা ফাতিহা মর্মার্থের গভীরতার দিক দিয়ে যতটা ভারী, পাঠ করার দিক থেকে ঠিক ততটাই সহজ ও সাবলীল। সুরা ফাতিহার মর্ম অনুধাবন করতে পারলে নামাজে হৃদয় দিয়ে আল্লাহর কথা শ্রবণ করা সম্ভব। সুরা ফাতিহার আয়াতগুলো ছোট ছোট। শব্দগুলো উচ্চারণে সহজ। তাই কেউ শেখার একটু চেষ্টা করলেই শুদ্ধ ও সাবলীলভাবে পাঠ করতে পারে। ফরজ নামাজের প্রথম দুই রাকাতে এবং সুন্নত ও নফল নামাজের সব রাকাতে সুরা ফাতিহা পড়া ওয়াজিব। (হিন্দিয়া ১/১২৬, আল বাহরুর রায়েক ১/৫১০, ৫১৬)
কোরআনের তিনটি মৌলিক বিষয়ের একটি হলো আল্লাহর একত্ববাদ-প্রশংসা। সুরা ইখলাসে আল্লাহর একত্ববাদ সাব্যস্ত হয়েছে। তাই এই ছোট সুরাটিই মর্মার্থ প্রকাশের দিক থেকে সম্পূর্ণ কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান। আর সুরা ফাতিহা হলো সম্পূর্ণ কোরআনের সার সংক্ষেপ। কোরআনের তিনটি মৌলিক বিষয়কেই পাওয়া যায় সুরা ফাতিহায়। কোরআন ও হাদিসে সুরা ফাতিহাকে বলা হয়েছে মহা কুরআন। আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক স্থাপন, নেয়ামতপ্রাপ্ত হওয়া এবং ভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা পাওয়ার অনন্য প্রার্থনা হলো সুরা ফাতিহা। এই কারণে সুরা ফাতিহার মর্যাদা অন্যান্য সুরার তুলনায় বেশি এবং একজন মুসলমান নামাজি ব্যক্তির দৈনন্দিন জীবনে সুরা ফাতিহা সবচেয়ে বেশি পঠিত হওয়ায় এই সুরার গুরুত্ব অপরিসীম।
আমরা প্রতিদিন পাঁচবার আল্লাহকে সম্মুখে রেখে নামাজ আদায় করি। নামাজে তার প্রশংসা করি। নিজেদের জন্য সুপথের নির্দেশনা কামনা করি। গভীর শ্রদ্ধা-ভক্তিভরে তার সামনে মাথা ঝুঁকাই। তার কুদরতি পায়ে সেজদা করি। অনেকেই আছেন, যারা নামাজে মনোযোগ দিতে পারেন না। দায়সারাভাবে কোনো রকমে নামাজ আদায় করেন। সেই নামাজ হয় প্রাণহীন। এমন নামাজকে নামাজির মুখে নিক্ষেপ করা হয়। অনেক সময় নামাজের রোকনসমূহ বেখেয়ালিভাবে আদায় বা নামাজের ভাষা অনুধাবন করতে না পারার কারণে এ রকম হয়ে থাকে। এ জন্য নামাজের ভাষা, কোরআনের ভাষা অনুধাবন করার গুরুত্ব অনেক। কেননা এই ভাষাতেই আল্লাহর সঙ্গে বান্দার কথোপকথন হয়।
কেউ যখন কোরআন তেলাওয়াত করে তখন মহান আল্লাহর সঙ্গে তার এক ধরনের কথোপকথন শুরু হয়ে যায়। কেননা কোরআন হলো মহান আল্লাহর কালাম। আল্লাহর কথামালা। কোরআনে বর্ণিত প্রতিটি বাক্যকে আল্লাহতায়ালা বাচনভঙ্গির যে ধাঁচে এবং অলংকার শৈলীর যে সৌন্দর্য দিয়ে বলেছেন, ঠিক সেভাবেই কোরআনে লিপিবদ্ধ হয়েছে। বর্ণনার ভঙ্গিমা ও অলংকার শৈলীতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। যখন কোরআন তেলাওয়াত করা হয়, তা বান্দার মুখে উচ্চারিত হয় কেবল। কথাগুলো আল্লাহর। তাই যারা তেলাওয়াত শ্রবণ করে তারা যেন সরাসরি মহান আল্লাহর কথাই শ্রবণ করে। মহান আল্লাহ প্রচণ্ড মনোযোগী শ্রোতা। কোনো কথা বা আওয়াজই তার শ্রবণ থেকে মাহরুম নয়। তিনিও বান্দার তেলাওয়াত শ্রবণ করেন এবং নিকটবর্তী ফেরেশতাদের কাছে বান্দার তেলাওয়াতের প্রশংসা করেন।
মহান আল্লাহর সঙ্গে বান্দার যোগাযোগ ও কথোপকথনের বিষয়টি আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করা যায় নামাজ আদায়ের মাধ্যমে। নামাজে যখন সুরা ফাতিহা পাঠ করা হয় তখন মহান আল্লাহ বান্দার প্রতিটি আয়াত পাঠের সময় সাড়া দেন।
হাদিসে নামাজকে বেহেশতের চাবি বলা হয়েছে। আর নামাজের বিশুদ্ধতা নির্ভর করে সুরা ফাতিহার শুদ্ধতার ওপর। সুরা ফাতিহা ছাড়া নামাজই হয় না। সুতরাং নামাজ বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য সুরা ফাতিহাসহ কোরআনের যতটুকু অংশ বিশুদ্ধভাবে মুখস্থ থাকা প্রয়োজন, ততটুকু শিক্ষা করা ফরজ। এই হিসেবে বলা যায়, প্রত্যেক মুসলমানের দৈনন্দিন জীবনে সুরা ফাতিহার গুরুত্ব অপরিসীম।
একজন মুসলমান নামাজি ব্যক্তি সাধারণত দৈনন্দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে মোট বত্রিশ বার সুরা ফাতিহা পাঠ করে থাকেন। সুরা ফাতিহা ও অন্যান্য সুরা শুদ্ধভাবে পড়তে পারলেই নামাজ বিশুদ্ধ হয়ে যায়। এ সবের অর্থ না জানলেও নামাজের কোনো ক্ষতি হয় না। কিন্তু যারা আরবি ভাষা বা সুরাসমূহের মর্ম না বোঝার কারণে নামাজে মনোযোগ দিতে পারেন না বা নিবিষ্ট অন্তরে নামাজ আদায় করতে পারেন না, তারা যদি শুধু সুরা ফাতিহার অর্থ ও সারমর্ম সম্পর্কে একটু ধারণা রাখেন তাহলে আশা করা যায়, তাদের নামাজে মনোযোগ বাড়বে। তারা নিবিষ্ট অন্তরে নামাজ আদায় করতে পারবেন। আর গভীর মনোযোগ ও নিবিষ্ট অন্তরে একাগ্রভাবে নামাজ আদায় না করলে তা হয় প্রাণহীন দেহের মতো। মহান আল্লাহ কোরআনে কারিমের সুরা মাউনে বলেছেন, ‘সেসব মুসল্লির জন্য ধ্বংস অনিবার্য, যারা তাদের নামাজ সম্পর্কে উদাসীন।’ এখানে উদাসীনের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, নামাজে পালনীয় ওয়াজিব সম্পর্কে উদাসীনতা এবং গভীর একাগ্রতা ও নিবিষ্ট অন্তরে নামাজ আদায় না করা। আর হাদিসে এ রকম উদাসীনভাবে নামাজ আদায় করাকে মুনাফিকের নামাজ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
মহান আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক স্থাপনে নামাজ সেতু স্বরূপ। সহজ করে বলতে গেলে, নামাজ হলো আল্লাহর সঙ্গে বান্দার এক ধরনের আলোচনার মতো। নামাজে সুরা ফাতিহা পাঠ করার সঙ্গে সঙ্গে মহান আল্লাহর সঙ্গে বান্দার কথোপকথন শুরু হয়ে যায়। এই বিষয়টি অনুধাবন করতে চাইলে নামাজি ব্যক্তিকে স্বীয় নামাজ আদায়ের সময় প্রচণ্ড সংবেদনশীল হতে হবে। গভীর একাগ্রতায় নিবিষ্ট অন্তরে নামাজের রোকনসমূহ আদায় করতে হবে। বিশেষ করে সুরা ফাতিহা পাঠসহ অন্য সুরা মেলানো এবং এ সবের মর্ম অনুধাবন করতে হবে। মহান আল্লাহ কোরআনে কারিমের সুরা ফাতেহার মধ্যে বলেছেন, ‘তারা মুখে এমন কথা বলে যা তাদের অন্তরে নেই।’ এক্ষেত্রে কথা হলো, মুখে যা বলা হয় তা অন্তরে উপলব্ধ না হলে গভীর প্রশান্তি লাভ হয় না। আমলেও সওয়াব কম হয়।
নামাজে বান্দার পাঠকৃত সুরা ফাতিহার প্রতিটি আয়াতের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ যেভাবে সাড়া দেন, সেই বিষয়ে হাদিসের বর্ণনা রয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, মহান আল্লাহ বলেন, আমি সালাত (সুরা ফাতিহা) আমার ও আমার বান্দাদের মধ্যে অর্ধেক অর্ধেক করে ভাগ করে নিয়েছি। আমার বান্দা যা চাইবে তাকে তাই দেওয়া হবে। যখন বান্দা (নামাজে) বলে- এক. ‘আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন।’ অর্থাৎ সমস্ত প্রশংসা উভয় জগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তখন মহান আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা আমার প্রশংসা করল। দুই. যখন বান্দা বলে, ‘আর রাহমানির রাহিম।’ অর্থাৎ যিনি পরম করুণাময় অতি দয়ালু। তখন মহান আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা আমার গুণগান করল। তিন. যখন বান্দা বলে, ‘মালিকি ইয়াওমিদ্দিন।’ অর্থাৎ তিনি প্রতিদান দিবসের মালিক। তখন মহান আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা আমার মর্যাদা বর্ণানা করল। চার. যখন বান্দা বলে, ‘ইয়্যা কানা’বুদু ওয়া ইয়্যাকানাস তায়িন।’ অর্থাৎ আমরা তোমারই ইবাদত করি এবং তোমার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি। তখন মহান আল্লাহ বলেন, এটা আমার ও আমার বান্দার মধ্যে বিভক্ত এবং বান্দার জন্য তাই রয়েছে যা সে চাইবে। পাঁচ. যখন বান্দা বলে, ‘ইহদিনাস সিরাতাল মুসতাকিম।’ অর্থাৎ আমাদের সরল পথ দেখাও। ছয়. ‘সিরাতাল্লাযিনা আনআমতা আলাইহিম।’ অর্থাৎ তাদের পথ, যাদের তুমি নেয়ামত দিয়েছ। সাত. ‘গায়রিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দল্লিন।’ অর্থাৎ তাদের পথ নয় যারা গজবপ্রাপ্ত ও পথভ্রষ্ট। তখন মহান আল্লাহ বলেন, এসব তো আমার বান্দার জন্য। আর আমার বান্দা যা চাইবে তার জন্য তাই রয়েছে। (সহিহ মুসলিম)
এভাবে বান্দা যখন নামাজে সুরা ফাতিহা পাঠ করতে থাকে তখন মহান আল্লাহ প্রতিটি আয়াতের ক্ষেত্রেই সাড়া দেন। কিন্তু এই বিষয়টি দুনিয়াতে মানুষের দৃষ্টি ও শ্রবণ ইন্দ্রিয় দ্বারা দেখা ও শোনা সম্ভবপর নয়। কেননা দুনিয়াতে মানুষের ইন্দ্রিয়তে তিনি সেই শক্তি দেননি। এজন্য তা মানুষের ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য হয় না। তবে এক্ষেত্রে নিবিষ্টচিত্তে গভীর অনুভূতিশীল ও গভীর কল্পনাপ্রবণ হতে পারলে কেবল হৃদয় দিয়ে তা অনুধাবন করা সম্ভব। গভীর ধ্যান-মগ্নে তা অনুধাবন করতে পারলে মহান আল্লাহর সঙ্গে বান্দার এই কথোপকথনের সময় দীর্ঘ হয়। বান্দার নামাজও ক্রমে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতে থাকে। এতে নামাজ আদায় করতে শারীরিকভাবে যত কষ্টই হোক না কেন বান্দা স্বীয় অন্তরে গভীর স্বাদ অনুভব করে। বান্দার মানস জগতে প্রশান্তির ফোয়ারা বয়ে যায়। মনের ভেতর এক ধরনের সুখবোধ ছড়িয়ে পড়ে। এই সুখবোধ বান্দাকে গভীরভাবে আলোড়িত করে। প্রার্থিব দুঃখ-কষ্টে থাকলেও বান্দার চোখেমুখে বিরাজ করে এক ধরনের স্বস্তিভাব।
মহান আল্লাহর কাছে কীভাবে প্রার্থনা করতে হবে সুরা ফাতিহায় বান্দাকে তা শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। সুতরাং সুরা ফাতিহা হলো প্রার্থনা। আর অবশিষ্ট কোরআন যেন সেই প্রার্থনার উত্তর। যেমন বান্দা নামাজে সুরা ফাতিহায় প্রথমে মহান আল্লাহর প্রশংসা করে। অতঃপর তার কাছে হেদায়েতের সরল সঠিক পথের প্রার্থনা করে। এইটুকু হলো প্রার্থনা। এরপর যখন বান্দা সুরা ফাতিহার সঙ্গে অন্য সুরা মিলায় তখন তা হয়ে যায় আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রার্থনার উত্তর। যেমন সুরা ফাতিহায় আল্লাহর কাছে হেদায়েতের এমন সরল সঠিক পথের প্রার্থনা করা হয়েছে, যে পথে চলতে পারলে দুনিয়াতে সুখ-শান্তি এবং পরকালে জান্নাত লাভ করা যাবে। সেটি কোন পথ? মহান আল্লাহ অবশিষ্ট সম্পূর্ণ কোরআনে সেই পথের সন্ধান দিয়েছেন। সেই পথে চলার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। মানব জীবনের প্রতিটি অনুষঙ্গ ও প্রয়োজনীয় সমস্যার সমাধান দিয়েছেন তাতে।
যেমন বান্দা নামাজে সুরা ফাতিহা পাঠের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে হেদায়েতের সরল সঠিক পথের প্রার্থনা করল। এরপর সুরা ফাতিহার সঙ্গে মিলিয়ে সুরা আলে ইমরানের ১০২ নম্বর আয়াত পাঠ করল, ‘হে ইমান্দাররা! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যথাযথ ভয়।’ খোদাভীতি না থাকলে হেদায়েতের সরল সঠিক পথে চলা অসম্ভব ব্যাপার। খোদাভীতি হলো সব কাজে মহান আল্লাহর আনুগত্য প্রকাশ করা, তাকে সদা সর্বদা স্মরণ রাখা এবং তার কৃতজ্ঞতা আদায় করা। সুতরাং এক্ষেত্রে বলা যায়, বান্দা সুরা ফাতিহায় হেদায়েতের সরল সঠিক পথের প্রার্থনা করে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রার্থনার উত্তরে যে পথের সন্ধান পেল তা হলো, মহান আল্লাহকে ভয় করা।
কিংবা বান্দা নামাজে সুরা ফাতিহা পাঠের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সরল সঠিক পথের প্রার্থনা করল। এরপর সুরা আরাফের ৩১ নম্বর আয়াত পাঠ করল, ‘তোমরা খাও এবং পান করো। তবে অপচয় কোরো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।’ পানাহার প্রত্যহ মানব জীবনের অন্যতম প্রধান একটি কার্য। আর পানাহার কার্যকে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হলো হেদায়েতের সরল সঠিক পথের বিশেষ অনুষঙ্গ। সুতরাং এক্ষেত্রে বলা যায়, বান্দা সরল সঠিক পথের প্রার্থনা করে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রার্থনার উত্তরে যে নির্দেশনা পেল তা হলো, পানাহারের ক্ষেত্রে পরিমিত খাবার গ্রহণ করতে হবে। অল্পও না বেশিও না। পরিমিত পরিমাণের চেয়ে অল্প খাবার গ্রহণে স্বাস্থ্যহানি ঘটতে পারে। আবার পরিমিত পরিমাণের চেয়ে বেশি খাবারও গ্রহণ করা যাবে না। কেননা তা অনেক সময় বিভিন্ন রোগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আবার এটা অপচয়ও বটে। অপচয় করা যাবে না। অপচয়কারী হেদায়েতের সরল সঠিক পথ থেকে বঞ্চিত হয়।
কিংবা বান্দা সুরা ফাতিহার মাধ্যমে মহান আল্লাহর কাছে সরল সঠিক পথের প্রার্থনা করল। এরপর সুরা নুরের ৩২ নম্বর আয়াত মিলিয়ে পাঠ করল, ‘তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়নি, তাদের বিবাহ সম্পন্ন করে দাও এবং তোমাদের সৎকর্মশীল দাস-দাসিদেরও বিবাহ দাও। যদি তারা অভাবগ্রস্ত হয় তাহলে আল্লাহ স্বীয় অনুগ্রহে তাদের অভাব দূর করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও মহাজ্ঞানী।’ সুতরাং এক্ষেত্রে বলা যায়, বান্দা সুরা ফাতিহায় হেদায়েতের সরল সঠিক পথের প্রার্থনা করে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রার্থনার উত্তরে যে পথের সন্ধান পেল তা হলো, আর্থিকভাবে অক্ষম হলেও শারীরিকভাবে সক্ষমতাপ্রাপ্ত বয়স্কদের বিবাহকাজ সম্পাদন করে দেওয়া। এতে ব্যভিচারের মতো জঘন্য ঘটনা ঘটবে না। যা হেদায়েতের সরল সঠিক পথে চলার অন্তরায়। বিবাহকে ইমানের অর্ধাংশ বলা হয়ে থাকে। বিবাহের মাধ্যমে ইমানের পূর্ণতা আসে।
এভাবে গভীর ধ্যান-মগ্নে মহান আল্লাহকে সম্মুখে উপস্থিত ভেবে নামাজ আদায় করলে বান্দা স্বীয় মানসকল্পে মহান আল্লাহর উপস্থিতি অনুভব করতে পারবে। সুরা ফাতিহার প্রত্যুত্তরে মহান আল্লাহর কথা হৃদয় দিয়ে শ্রবণ করতে পারবে। আর এতে নামাজ প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে। রাসুল (সা.) অনেক সময় নামাজে এত দীর্ঘ সময় কাটাতেন যে, পা ফেটে যাওয়ার উপক্রম হতো। কিন্তু গভীর একাগ্রতায় মহান আল্লাহর সম্মুখে দাঁড়িয়ে আল্লাহর সঙ্গে নিবিড় কথোপকথনের প্রচণ্ড রকমের প্রশান্তি পা ফেটে যাওয়ার বিষয়কে উপেক্ষা করে যেত। আমাদের নামজও সে রকম প্রাণবন্ত হোক।
লেখক : শিক্ষক ও ইসলামবিষয়ক গবেষক
