মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জে ‘তৌহিদী জনতার’ হামলায় বাউল শিল্পী আবুল সরকারের তিনজন সমর্থক আহত হয়েছে। রোববার (২৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরের মানিকগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের (বিজয় মেলা মাঠ) পাশে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন মানিগঞ্জের শিবালয় উপজেলার সাঁকরাইল গ্রামের বাউল আব্দুল আলিম, হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা এলাকার জহুরুল ও সিংগাইর উপজেলার তালেবপুর এলাকার আরিফুল ইসলাম।
তিন বাউলের ওপর হামলার ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, রোববার সকালে শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তৌহিদী জনতা ও আলেম-ওলামারা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। একই সময়ে আবুল সরকারের ভক্তরা মানববন্ধনের আয়োজন করে। এতে শহরের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, শহরের মানিকগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের (বিজয় মেলা মাঠ) পাশে রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় তৌহিদী জনতা ও বেলা ১১টায় বাউল শিল্পীদের মানববন্ধন হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যেই বাউল ভক্তদের ওপর হামলা চালায় তৌহিদী জনতার একটি অংশ।
এ বিষয়ে পুলিশ বলছে, দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার আশঙ্কা থাকায় আগে থেকেই আলাদা সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। সকাল ৯টায় বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তৌহিদী জনতার বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে জেলা ডাকঘরের সামনে সমাবেশ করে। সমাবেশ থেকে বেরিয়ে বিক্ষিপ্তভাবে একটি অংশ বাউল ভক্তদের ওপর হামলা চালায়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল মামুন বলেন, ‘হামলার সময় তৌহিদী জনতার পক্ষের মাওলানা আব্দুল আলীম নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষকও আহত হন। তিনি ঘিওরের শৈলকড়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বলে জানা গেছে। তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’
এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় এক গানের আসরে ‘ইসলাম ধর্ম ও আল্লাহকে নিয়ে কটূক্তি’র অভিযোগে বাউল শিল্পী আবুল সরকারকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাকে কারাগারে পাঠায় আদালত।
কারাগারে যাওয়া আবুল সরকার সাটুরিয়া উপজেলার তিল্লী ইউনিয়নের পারতিল্লী এলাকার বাসিন্দা। তিনি এলাকায় বাউল শিল্পী ছোট আবুল সরকার নামে পরিচিত।
এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘ঘটনাস্থলের পাশেই পুলিশ মোতায়েন ছিল। ফলে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’
