মুক্তদেশ ডেস্ক: মায়ের প্রেমিককে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছেন নিউ ইয়র্কের ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ। তিনি স্বীকার করেছেন, হত্যার পর দেহটি নিশ্চিহ্ন করার ভয়াবহ পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, ওই যুবকের নাম ডেমিয়েন হার্সটেল। তিনি ৪৫ বছর বয়সী অ্যান্থনি কাসালাসপ্রোকে মাংস নরম করার হাতিয়ার দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেন। পুলিশের কাছে তিনি বলেছেন, আমি জানতে চেয়েছিলাম কাউকে হত্যা করলে কেমন লাগে। হার্সটেল আরও জানিয়েছে, তার পরিকল্পনা ছিল কাসালাসপ্রোর দেহকে ব্লেন্ডারে পিষে ধীরে ধীরে টয়লেটে ফেলে দেওয়া।
এক্ষেত্রে প্রথমে মস্তিষ্ক দিয়ে শুরু করার ইচ্ছে ছিল তার। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থল ছিল তাদের দেখা সবচেয়ে ভয়াবহগুলোর একটি। কাসালাসপ্রোর গলা ও মাথায় একাধিক ছুরিকাঘাতের দাগ পাওয়া গেছে। মাথাটি করাত দিয়ে কেটে ফেলা হয়েছিল। শিরশ্ছেদ করা মাথাটি দেহের পাশে বাথরুমের শাওয়ারের নিচে পড়ে ছিল। পাশেই ছিল একটি চামচ ও করাত। পুলিশ জানায়, হত্যার কিছুক্ষণ আগে হার্সটেলের মা অ্যালিসিয়া যায়াসের সঙ্গে তার তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। হত্যাকাণ্ডটি প্রথম দেখতে পায় হার্সটেলের ১৬ বছর বয়সী বোন। বাড়ি ফিরে সে দেখে তার মায়ের প্রেমিকের দেহ মেঝেতে পড়ে আছে। হার্সটেল বোনকে বলেন, আমি একটা খারাপ কাজ করেছি। তার বোনকে দেহটি দেখতে বাধা দেয়ার চেষ্টা করেন।
বোন সঙ্গে সঙ্গে মাকে ফোন করে চিৎকার করে বলে, অ্যান্থনিকে মেরে ফেলেছে ডেমিয়েন। তার মাথা নেই! এরপর মা যায়াস ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে প্রথম উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছানোর কিছুক্ষণ আগেই তিনি পৌঁছান। প্রতিবেশীরা জানান, তাকে চিৎকার করতে, কাঁদতে এবং বমি করতে দেখা যায়। তিনি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলেন। ডেমিয়েন হার্সটেলকে পুলিশ রক্তে ভেজা পোশাক পরা (কালো হুডি, সোয়েটপ্যান্ট ও টিম্বারল্যান্ড বুট) অবস্থায় আটক করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তাকে তখন অদ্ভুতভাবে শান্ত এবং স্বস্তিতে দেখা যাচ্ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হবে।
নিউইয়র্ক পোস্ট বলছে, হার্সটেলের দীর্ঘদিনের মানসিক অসুস্থতার ইতিহাস রয়েছে। তাকে সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত কাসালাসপ্রো নিউইয়র্ক স্যানিটেশন ডিপার্টমেন্টের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। তিনি দৃষ্টিশক্তি হারানোর কারণে অক্ষমতা ভাতাও পেতেন। তিনি প্রায় ছয় বছর ধরে অ্যালিসিয়া যায়াসের সঙ্গে সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন। বন্ধুরা জানান, সন্তানদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ছিল জটিল। অ্যালিসিয়া যায়াস এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ‘বছরের পর বছর ধরে মানসিক চিকিৎসার ভুল ব্যবস্থাপনা’কে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ডাক্তাররা হঠাৎ তার ওষুধ পরিবর্তন করে দেয়। আগের দীর্ঘমেয়াদি অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ ডিপাকোটে বন্ধ করে দেয়। আমাকে কিছুই জানায়নি।
তার ছেলে যখন ১৮ বছর পূর্ণ করে, তখন গোপনীয়তা আইনের কারণে তিনি আর ছেলের চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য দেখতে পাননি। তিনি বলেন, আমি প্রতিদিন সকালে তাকে ওষুধ খেতে বলতাম। সে বলত খেয়েছে। কিন্তু এখন আর নিশ্চিত নই। ডেমিয়েনের মানসিক সমস্যা শুরু হয় ছয় বছর বয়সে, যখন তার পিতা কারাগারে যায়। ১৩ বছর বয়সে এক সহপাঠীর হাতে যৌন নির্যাতনের পর তার মধ্যে গুরুতর ট্রমা, পিটিএসডি এবং বিষণ্নতা দেখা দেয়। সে প্রায়ই বিভ্রান্তিতে ভুগত, ভয়ঙ্কর চিত্র আঁকত এবং আত্মহত্যার চেষ্টা করে দু’বার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। তার মা যায়াস কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমি ভেঙে পড়েছি। আমার ছেলে এমন ছিল না। সে ভালো ছিল। কিছু একটা ভয়ানক ভুল হয়েছে।
