মুক্তদেশ ডেস্ক: নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের জাতীয় নেতাদের লাঞ্ছনা করার কা-ে যুক্ত দুই প্রবাসী বাংলাদেশির মধ্যে একজনের নাম মিজানুর রহমান চৌধুরী, অন্যজন বায়েজিদ শুভ। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তার ওপর ডিম নিক্ষেপ করেন মিজান এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামকে হেনস্তা করেন শুভ।
জানা গেছে, মিজানের গ্রামের বাড়ি সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের হাজারিচক। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিজানুর অনেক বছর আগে দেশ ছেড়েছেন। তার পরিবারের সদস্যরাও আমেরিকা প্রবাসী। জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে এমন গর্হিত অপকর্ম করা মিজানুরের দলীয় পরিচয় কী? তা জানতে তার ফেসবুক পেজে গিয়ে দেখা গেছে, তিনি সিলেট জেলা যুবলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। তার প্রোফাইলে এভাবেই উল্লেখ রয়েছে, যদিও এর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। জানা গেছে, বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের নেতা। তার ভাইও সেখানে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে অশোভন আচরণ ও অশ্রাব্য গালিগালাজ করা মিজানুর এনসিপি নেতা আখতারের গায়ে ডিম নিক্ষেপের পর ফেসবুকে ভিডিও আপলোড করে তাতে লেখেন- ‘খাইয়া দিছি টেরোরিস্ট আকতারকে।’ নিউইয়র্ক পুলিশ তাকে আটক করার পরও ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন মিজানুর রহমান। এতে তিনি লেখেন- ‘আমি কারাগার থেকে বলছি, শেখ হাসিনার কর্মী মিজানুর রহমান চৌধুরী। জয় বাংলা।’
প্রসঙ্গত, বিএনপির সমর্থক এক ব্যক্তি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন- মিজানুর রহমান তাকে ছুরি দিয়ে মারতে চেয়েছেন। এরপর নিউইয়র্ক পুলিশ তাকে আটক করে।
অন্যদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে হেনস্তাকারী যুবক বায়েজিদ শুভ ছোটবেলা থেকেই ছিলেন মা-বাবার অবাধ্য সন্তান। তার জন্ম কুমিল্লার দাউদকান্দিতে। বছর দশেক আগে চাঁদপুরের কচুয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে পড়ালেখা করতেন শুভ। তখন থেকেই তিনি নিজেকে আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিতেন। পরিচিতরা জানান, শুভর চলাফেরা ও কথাবার্তায় নাস্তিকতার ভাব থাকায় দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে কোনো সম্পর্কই ছিল না তার পরিবারের। মূলত সে ছিল বাবা-মায়ের অবাধ্য সন্তান। আরও জানা গেছে, বাবা মারা যাওয়ার পর নানার বাড়ি কচুয়া উপজেলার পালাখাল বরকন্দাজ বাড়িতে মানুষ হন বায়েজিদ শুভ। তিনি ৫-৭ বছর আগে কাজের সন্ধানে ওমান যান। সেখান থেকে কোনো উপায়ে আমেরিকায় পাড়ি জমান।
কচুয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা আলী আক্কাস তালুকদার বলেন, একসময় কচুয়া বাজারে আমার কাপড়ের ব্যবসা ছিল। ওই দোকানে বায়েজিদ পলিটেকনিকে পড়াবস্থায় দীর্ঘসময় চাকরি করেছে। একপর্যায়ে সে বিদেশে চলে যায়। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ নেই।
