মুক্তদেশ ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের (ডাকসু) ভোটগ্রহণ বিকেল ৪টায় শেষ হয়েছে। এখন চলছে গণনার কাজ। এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এদিকে শেষ শে ষ এক ঘণ্টা আগে ভোট বর্জন করলেন ভিপি প্রার্থী তাহমিনা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এ কথা জানান তিনি। অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, ডাকসু নির্বাচনে কোনো অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। সকাল ৮টায় শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী-বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি কেন্দ্রে ৮১০টি বুথে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। বিকেল ৪টার মধ্যে কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়ানো শিক্ষার্থীরাও ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
ডাকসুতে এবার মোট ভোটার ৩৯ হাজার ৮৭৪ জন। এরমধ্যে ছাত্রী ১৮ হাজার ৯৫৯ জন। আর ছাত্র ২০ হাজার ৯১৫ জন। এবার ডাকসুতে ২৮টি পদের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন ৪৭১ জন। আর ১৮টি হল সংসদে নির্বাচন হবে ১৩টি করে পদে। হল সংসদের ২৩৪টি পদের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন ১ হাজার ৩৫ জন। অর্থাৎ সবমিলিয়ে এবার ভোটারদের ৪১টি ভোট দিতে হবে, সময় পাবেন ১০ মিনিট। ডাকসু নির্বাচন ঘিরে সোমবার রাত ৮টা থেকে টানা ৩৪ ঘণ্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রবেশপথ সর্বসাধারণের জন্য বন্ধ। যা আগামীকাল বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
ডাকসু নির্বাচন নিয়ে শিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম অভিযোগ তুলে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সকাল থেকে দেখতে পাচ্ছি স্বতস্ফূর্ত নির্বাচন হচ্ছে। আমাদের শিক্ষার্থী ভাই বোনরা ভোট কেন্দ্রে আসছেন। আমরা একটা উৎসব দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু নির্বাচনকে বানচালের জন্য ভেতর থেকে এবং বাইর থেকে বিভিন্ন পক্ষ চেষ্টা করছে। একুশে হলের সেন্টারে আগে থেকে কয়েকজন স্টাফ ওএমআর শিটে আগে থেকে ক্রস দিয়ে রেখেছিল। পরবর্তীতে আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি এবং ওই স্টাফের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ওইখানে ছাত্রদলের যারা আছে তাদের ব্যালট নাম্বারগুলোতে ক্রস দেয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘টিএসসি কেন্দ্রে গিয়ে আমরা অভিযোগ পাই, সেখানে আগে থেকে কয়েকটা ব্যালটে ওএমআর ক্রস দেয়া। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার, এই স্টাফদের পরিচয় বের করেন। শিক্ষার্থীদের উৎসবকে যারা বানচালের চেষ্টা করছে, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা, শহীদদের আকাঙ্ক্ষা, এই ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে বানচাল করে দেয়ার চেষ্টা করছে, তাদেরকে আইডেন্টিফাই করেন। একুশে হল বা টিএসসিতে যে স্টাফরা কাজটা করেছে তাদের বের করেন, গ্রেফতার করেন, তাদের আদর্শ বের করেন, তাদের পেছন থেকে কারা সামনে থেকে কারা সেটা বের করেন। এখানে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। এরা হচ্ছে কালপ্রিট।’

নির্বাচন বনচালকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়ে ভিপি প্রার্থী বলেন, ‘এরকম যতগুলো অভিযোগ এসেছে, যতগুলো ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের ধরে থানায় নেন, রিমান্ড দেন, বিচারের আওতায় নিয়ে আসেন। এটা যদি আমরা করতে পারি তাহলে সামনে পেছনে কারা আছে সেটা বের করা যাবে।’
ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের একটা স্থায়ী রূপে যেতে চান জানিয়ে সাদিক কায়েম বলেন, ‘সারা দেশের মানুষ আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তাই যত ছাত্র সংগঠন আছে এবং নির্বাচন কমিশন- সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।’
এদিকে, শিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম ও জিএস প্রার্থী ফরহাদের ব্যালটে আগে থেকেই ক্রস চিহ্ন দেয়ার অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘আমি সকাল থেকে এক কেন্দ্র থেকে আরেক কেন্দ্রে ঘুরে বেড়িয়েছি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের শতস্ফূর্ত দেখেছি। আমরা সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছি। আমি সকাল থেকে বারবার উচ্চারণের চেষ্টা করেছি যে, আজ আমরা কোনো অভিযোগ করতে চাই না। আমরা আনন্দ করতে চাই, উদযাপন করতে চাই।’
অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘এরইমধ্যে রোকেয়া হল সম্পর্কে একটা গুরুতর অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। আমি হলের ভেতরে চিফ রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করেছি এবং সেই ঘটনার সত্যতা আমি পেয়েছি। একজন শিক্ষার্থী যখন ব্যালট নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করেছে, তখন গিয়ে দেখতে পেয়েছি সাদিক কায়েম এবং ফরহাদের ব্যালটে আগে থেকেই ক্রস চিহ্ন দেয়া। সুতরাং এটা বর্তমান নতুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে এক অসনি সংকেত।’

ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খানের বলেছেন, ‘আমি দ্রুত ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করেছি, ম্যাডামদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারাও বলেছেন, এটা কীভাবে হয়েছে তারা জানেন না। ঘটনার সত্যতা আছে। আপনারা এর প্রপার ইনভেস্টিগেশন করবেন।’
অন্যদিকে, ভোটে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী আবদুল কাদের। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মূলত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। এত ষড়যন্ত্রের পরেও শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে এসেছেন। কিন্তু তাদের সঙ্গে তামাশা করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সবসময়ই একটি গোষ্ঠীর স্বার্থে কাজ করছে।’

কাদের আরও বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রের ভেতর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা সরাসরি ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। বিএনপি-সমর্থিত ভিপি প্রার্থী আবিদুল কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করে ভোট প্রার্থনা করেছেন। এ বিষয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।’
