গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ২ জন মারা গেছেন বলে জানা গেছে। নিহতরা হলেন–গোপালগঞ্জ শহরের উদয়ন রোডের বাসিন্দা সন্তোষ সাহার ছেলে দীপ্ত সাহা (২৫) ও কোটালীপাড়ার রমজান কাজী (১৮)।
গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিহত ছাড়াও ৯ জনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাদের অস্ত্রোপচার চলছে। যদিও এ বিষয়ে পুলিশ কিংবা স্থানীয় প্রশাসন এখনো কিছু বলেনি।
এর আগে, এনসিপির সমাবেশ শেষে গোপালগঞ্জের পৌর পার্কে হামলার ঘটনা ঘটে। সমাবেশ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একদল ব্যক্তি এনসিপির নেতা-কর্মীদের ঘিরে হামলার চেষ্টা করে। তারা চারদিক থেকে এনসিপির নেতা-কর্মী ও পুলিশের গাড়ি আটকে দেয়। রণক্ষেত্রে পরিণত হয় শহরের লঞ্চঘাট এলাকা ও গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের সামনের এলাকা। পরে সেখানে জারি করা হয় ১৪৪ ধারা।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এই হামলা চালিয়েছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, হামলায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগ। শাস্তি ছাড়া তারা রেহাই পাবে না।
এনসিপির সমাবেশ ঘিরে আজ সকাল থেকেই গোপালগঞ্জের অবস্থা ছিল থমথমে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার উলপুর-দুর্গাপুর সড়কের খাটিয়াগড় চরপাড়ায় পুলিশের গাড়িতে হামলা ও আগুন ধরিয়ে দেয় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ। ওই এলাকা পরিদর্শনে গেলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম রাকিবুল হাসানের গাড়িতেও হামলা করা হয়।
নাহিদ ইসলাম-হাসনাত আব্দুল্লাহরা সমাবেশস্থলে আসার আগেই সেখানে হামলা করে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। পরে সেই হামলা আরও বৃদ্ধি পায়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাহারায় গোপালগঞ্জ ছাড়েন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা। সামরিক বাহিনীর এপিসিতে (আর্মার্ড পার্সোনেল ক্যারিয়ার) করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তারা।
প্রসঙ্গত, চলতি মাসের শুরু থেকেই ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করছে এনসিপি। এরই মধ্যে উত্তরবঙ্গের দুই বিভাগ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে কর্মসূচি পালন করেছে তারা। আজ গোপালগঞ্জে গিয়ে হামলার শিকার হয় দলটি।
